২০১২ সালের পার্ক স্ট্রিট ধর্ষণ কাণ্ডে একসময় নাম জড়িয়ে গিয়েছিল নুসরতের। গ্রেফতার হতে পারেন বলে গুজবও রটেছিল। কিন্তু ‘প্রভাবশালী’ নুসরতকে ছুঁতে পারেনি পুলিশ। উল্টে ৭ বছর পর আজ তাঁর হাতে লোকসভার টিকিট। ২০১২ সালে তৃণমূলের বসিরহাট কেন্দ্রের প্রার্থী নুসরত জাহান তখন টলিউডের উঠতি নায়িকা। তৃণমূলের ২১ জুলাইয়ের সভায় তাঁকে হাসিমুখে দেখা যায়, তৃণমূল নেতা-মন্ত্রীদের সঙ্গে ওঠাবসা তাঁর। তখন নুসরতের স্টেডি রিলেশন ব্যবসায়ী কাদের খানের সঙ্গে। ২০১২ সালে দুজনেই যখন বিয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তখন এই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত হিসেবে উঠে আসে কাদেরের নাম। অন্য সব অভিযুক্ত ধরা পড়লেও পালিয়ে গিয়েছিল মূল অভিযুক্ত কাদের খান । সেসময় নিউজ চ্যানেলের পর্দায় নুসরতের কান্নাভেজা ইন্টারভিউ মনে রয়ে গেছে অনেকেরই। তখন নুসরত বার বার বলছেন তিনি জানেন না কাদের কোথায়! সে দোষী হলে তার যথাযথ শাস্তি হওয়াই উচিত। কাদেরকে খুঁজতে গিয়ে পুলিশের তদন্তের কম্পাস বারবার নুসরতের দিকে ঘুরেছে। জিজ্ঞাসাবাদও হয়েছে, কিন্তু নুসরতকে কিছুতেই ছুঁতে পারেনি পুলিশ। সবথেকে আশ্চর্যের ঘটনা পার্ক স্ট্রিট ধর্ষণ কাণ্ডের চার্জশিটে কোথাও উল্লেখই নেই নুসরতের । যদিও ২০১২ থেকে ২০১৬ পর্যন্ত ফেরার থাকার সময় নুসরতের সঙ্গে কাদের খানের নিয়মিত যোগাযোগের প্রমাণ ছিল পুলিশের হাতে। মুম্বইয়ের একটি হোটেলে কাদেরের খোঁজে গিয়ে পুলিশ জানতে পারে একদিন আগেই নুসরত সেই হোটেলে কাদেরের সঙ্গে ছিলেন। কিন্তু তবুও তিনি গ্রেফতার হননি, চার্জশিটের ফাইলে তাঁর নামই আসেনি। চারবছরে পুলিশের অনেক তথ্যই যে নুসরত কাদরকে পাচার করছিলেন তা জানার পরেও রুটিন জিজ্ঞাসাবাদ ছাড়া আর কিছুই করা হয়নি বর্তমানে বসিরহাট থেকে তৃণমূল প্রার্থী নুসরত জাহানকে। এমনকি এই কেসের সাক্ষীর তালিকায়ও তাঁর নাম নেই।
২০১৬ সালে যখন পার্ক স্ট্রিট ধর্ষণের মূল অভিযুক্ত কাদের খান গ্রেটার নয়ডা থেকে ধরা পড়ে, তখন টলিপাড়ায় উড়ো খবর ছিল এবার ধরা পড়বেন নুসরত জাহানও। কিন্তু বহাল তবিয়তে রয়ে গেলেন নুসরত। মানে এই কেসে অভিযুক্ত কাদের খানকে বাঁচাতে তাঁর ভূমিকা জ্বলজ্বল করলেও কোনও এক জাদুমন্ত্রে তা সরকারি ফাইলে ‘ভ্যানিশ’ হয়ে গেছে।

শাসক দলের প্রভাবশালী নেতাদের ঘনিষ্ঠ বলেই নুসরতকে পুলিশ ছাড় দিয়েছে বলে অভিযোগ তখনও উঠেছিল। তবে নুসরত তখনও পরোয়া করেননি। তিনি তারপরেও প্রভাবশালীদের সঙ্গে একমঞ্চে দাঁড়িয়েছেন, যেন কিছু হয়নি। শাসক দলের ছত্রছায়ার আশ্রিত নুসরত এখন বসিরহাটে তৃণমূলের ভরসার জায়গা। কাদের ধরা পড়ার পর থেকেই প্রয়াত সুজেট জর্ডনের আইনজীবীরা নুসরতের বিরুদ্ধে অপরাধীকে আশ্রয় দেওয়ার অপরাধে গ্রেফতারের আবেদন জানিয়েছেন, তবুও কিছুই হয়নি নুসরতের ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.