মমতার মুখ্যমন্ত্রিত্ব ঝুঁকির মুখে বিধানসভার ভোট নিয়ে কমিশনের নীরবতায়

বাংলায় সাত কেন্দ্রের উপনির্বাচন দ্রুত করার বিষয়ে তৎপর তৃণমূল কংগ্রেস। কোভিড পরিস্থিতিতে নির্বাচন কী ভাবে করা সম্ভব তা নিয়ে নির্বাচন কমিশন সমস্ত রাজনৈতিক দলের থেকে ৩০ অগস্টের মধ্যে পরামর্শ চেয়েছিল। বৃহস্পতিবার কমিশনে সাত কেন্দ্রের কোভিড গ্রাফ-সহ বিস্তারিত তথ্য দিয়ে ন’পাতার চিঠি জমা দিয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল। বাংলার শাসকদলের সেই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, কোন বিধানসভার মেয়াদ কবে শেষ হচ্ছে।

কমিশনের সামনে যে ছবি তৃণমূল তুলে ধরেছে, তা দেখে অনেকেই বলছেন সাত বিধানসভার উপনির্বাচন ঝুঁকির জায়গায় চলে যাচ্ছে ক্রমশ। যা সাংবিধানিক সংকট তৈরি করতে পারে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখ্যমন্ত্রিত্বও নিয়েও ঝুঁকির পরিস্থিতি তৈরি হয়ে যেতে পারে। বিধায়ক না হয়েও যে ছ ‘ মাস মন্ত্রী থাকা যায়, ৫ নভেম্বর তার মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। মুখ্যমন্ত্রী থাকতে হলে তার আগে তাঁকে কোনও বিধানসভা আসন থেকে জিতে আসতে হবে। তাঁর ভবানীপুর কেন্দ্র থেকে ভোটে প্রার্থী হওয়ার কথা।

যে সাত বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন হওয়ার কথা, চলতি বছরের অক্টোবর-নভেম্বর মাসেই সমস্ত বিধানসভার মেয়াদ ফুরিয়ে যাচ্ছে। এক নজরে দেখে নেওয়া যাক কবে কোন বিধানসভার মেয়াদ ফুরোচ্ছে—

সাত বিধানসভার মধ্যে শামসেরগঞ্জের মেয়াদ শেষ হচ্ছে সবচেয়ে আগে, ১৫ অক্টোবর। নিয়মানুযায়ী, ভোটের বিজ্ঞপ্তি জারির ২৫ দিনের মধ্যে ভোট করতে হবে কমিশনকে। আবার বিজ্ঞপ্তি জারির অন্তত চার-পাঁচদিন আগে ভোট ঘোষণা করাই রেওয়াজ।

একুশের বিধানসভার ক্ষেত্রেও তৎকালীন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার সুনীল অরোরা ২৬ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের সূচি ঘোষণা করেছিলেন। ২ মার্চ প্রথম দফার ভোটের বিজ্ঞপ্তি ঘোষণা হয়েছিল। ২৭ মার্চ ছিল বাংলার প্রথম দফার ভোট। এখানে মনে রাখতে হবে, গত বিধানসভার মেয়াদ ফুরোনোর দিন ছিল ৩১ মে। তার ২৯ দিন আগে ২ মে নির্বাচনের ফল ঘোষণা করেছিল কমিশন।
ধরে নেওয়া যেতে পারে সাত বিধানসভার উপনির্বাচন হবে একই দিনে। তাহলে সবচেয়ে আগে যে বিধানসভার মেয়াদ শেষ হচ্ছে সেটা মাথায় রেখেই নির্বাচন কমিশনের সূচি ঘোষণার কথা। তর্কের খাতিরে যদি ধরে নেওয়া হয়, শামসেরগঞ্জের মেয়াদ শেষের এক মাস আগে নির্বাচন সম্পন্ন না করে গায়ে গায়েই করবে তাহলেও দ্রুত কমিশনের সূচি ঘোষণা করা উচিত। তবে তাঁর জন্য যে প্রস্তুতি দরকার তা এখনও শুরু হয়নি বলেই মত পর্যবেক্ষকদের অনেকের।

একুশের বিধানসভা ভোটকে উদাহরণ হিসেবে ধরলে হিসেবটা কেমন হবে?
হিসেবটা দাঁড়াবে এরকম, ১৫ অক্টোবর মেয়াদ শেষ হলে অন্তত তার এক সপ্তাহ আগে ভোট সম্পন্ন করতে হবে। অর্থাৎ ৯ অক্টোবরের মধ্যে ভোটের ফল ঘোষণা করে ফেলতে হবে কমিশনকে। ৯ অক্টোবর যদি ফল ঘোষণা হয় তাহলে অন্তত তাঁর দু;দিন আগে ভোটগ্রহণ করতে হবে। ৭ অক্টোবর যদি ভোট হয় তার ২৫ দিন আগে বিজ্ঞপ্তি জারি করতে হবে নির্বাচন সদনকে। অর্থাৎ কমিশনকে বিজ্ঞপ্তি জারি করতে হবে ১৩ সেপ্টেম্বর। তার পাঁচ দিন অর্থাৎ ৮ সেপ্টেম্বর নাগাদ কমিশনকে ঘোষণা করতে হবে অমুক তারিখে ভোটগ্রহণ হবে সাত কেন্দ্রে।

শুধু ভোট নয়। মুখ্যমন্ত্রিত্বের প্রশ্নেও জটিলতা তৈরির সম্ভাবনা রয়েছে। যেটা সবচেয়ে বেশি আশঙ্কা তৃণমূলের। এই দফায় মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে গত ৫ মে শপথ নিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২১ নভেম্বর ভবানীপুর বিধানসভার মেয়াদ শেষ হলেও মমতাকে জিতে আসতে হবে ৫ নভেম্বরের মধ্যে। নন্দীগ্রামে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হয়েছিলেন মমতা। যদিও তা নিয়ে হাইকোর্টে মামলা চলছে। তৃণমূলের অনেকে মনে করছেন, এই জায়গায় জটিলতা তৈরি করতেই কমিশনে কলকাঠি নাড়ছে বিজেপি। যে কারণে নির্বাচন সদন এখনও এ ব্যাপারে এতটা নির্লিপ্ত।

বিজেপি ইতিমধ্যে একাধিকবার বলেছে, বাংলায় যদি সব স্বাভাবিক থাকে তাহলে তারা রাজনৈতিক কর্মসূচি করলেই পুলিশ গ্রেফতার করছে কেন। শুক্রবার সকালে ইকো পার্কে মর্নিং ওয়াক করতে গিয়ে বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেছিলেন, হেরে যাওয়া মুখ্যমন্ত্রী চেয়ারে থাকবেন বলে ভোট নিয়ে এত উতলা হয়ে পড়েছেন।

তবে ওয়াকিবহাল মহল বলছে, যে সময় বাকি আছে, আর প্রস্তুতির ক্ষেত্রে যে শ্লথতা এখনও নজরে আসছে, তাতে কমিশন গা ঝাড়া দিয়ে ভোটের তোড়জোর শুরু না করলে বড় ঝুঁকি তৈরি হয়ে যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.