মমতা দিদি নিজে বেছে একটা দুটো কুর্তা প্রতি বছর পাঠান, সঙ্গে মিষ্টিও: নরেন্দ্র মোদী

কথায় বলে যুদ্ধ ও প্রেমে নাকি সব কৌশলই চলে। কিন্তু বহিরঙ্গে যা ভয়ঙ্কর যুদ্ধ, তার মাঝেই পারস্পরিক সৌজন্যের অন্দর কথা কেউ যদি ফাঁস করে দেন, তা হলে কতটা বিষ্ময়কর!

বুধবার সক্কাল সক্কাল হলও তাই। লোকসভার ভোট প্রক্রিয়া এখন মধ্যগগণে। রোজ উঠতে বসতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র দামোদার দাস মোদীর সমালোচনা করছেন। কোথাও কোথাও রাজনৈতিক সৌজন্যের সীমা লঙ্ঘন করে ফেলছেন বলে অভিযোগ করছেন বিরোধীরা। একই ভাবে বাংলায় প্রচারে দিদি-কে তেড়ে হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন মোদী। বলছেন, বাংলায় এ বার তাঁর গদি উল্টে দেবেন।

বাংলা তথা গোটা দেশের মানুষকে চমকে দিয়ে সেই প্রবল দ্বৈরথের মধ্যেই মমতার সঙ্গে তাঁর সৌজন্যের সম্পর্কের কথা ফাঁস করে দিলেন প্রধানমন্ত্রী। অভিনেতা অক্ষয় কুমারকে দেওয়া এক তথাকথিত অরাজনৈতিক সাক্ষাৎকারে মোদী বলেন, “আপনি জেনে অবাক হবেন। এই যে মমতা দিদি,-বছরে একটা দুটো কুর্তা পাঠান। নিজেই সেগুলো পছন্দ করতে যান।” শুনে দৃশ্যত অবাক হয়ে যান অক্ষয়ও! বলেন, “এ তো বড় ব্যাপার!”

মোদী অবশ্য এও বলেন, “এ কথা বলছি বলে হয়তো ভোটে আমার ক্ষতিও হতে পারে!”

তিনি এও জানান, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে এক প্রকার পাল্লা দিয়ে মমতা মিষ্টিও পাঠান তাঁকে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এক বার বাংলাদেশে গিয়েছিলাম। তখন বাঙালি মিষ্টি নিয়ে কথা হচ্ছিল বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে। আজও বছরে তিন চার বার, কোনও না কোনও বাঙালি নতুন মিষ্টি, স্পেশালি ঢাকা থেকে আমাকে পাঠান”। একই প্রসঙ্গে মোদী বলেন, “মমতা এটা জানতে পারেন। এখন মমতাও বছরে তিন চার বার কোনও না কোনও বাঙালি মিষ্টি আমাকে পাঠান।”

গোট বিষয়টির উত্থাপন হয় অক্ষয় কুমারের প্রশ্ন থেকেই। প্রধানমন্ত্রীকে তিনি জিজ্ঞাসা করেন, বিরোধী দলের মধ্যে তাঁর কোনও বন্ধু রয়েছে কিনা? কারণ, মিডিয়া যে ভাবে সবটা দেখায়, সেভাবেই আমরা দেখি! জবাবে মোদী হাসতে হাসতে বলেন, “আছে তো! খুব ভাল বন্ধু আছে। বছরে এক দু বার আমরা এক সঙ্গে খাবার খাই। একবার মনে আছে, তখনও আমি বোধহয় মুখ্যমন্ত্রী হইনি। গুলাম নবির সঙ্গে এক দিন পার্লামেন্টে বসে খুব আড্ডা মারছি। সাংবাদিকরা এসে জিজ্ঞেস করেন, আরে আপনারা এক সঙ্গে বসে আছেন? মোদীজি আপনি তো আরএসএসের লোক। গুলাম নবির সঙ্গে তোমার বন্ধুত্ব হল কী ভাবে?”

প্রধানমন্ত্রী জানান, সে বার ভাল জবাব দিয়েছিলেন গুলাম নবি। বলেছিলেন, বাইরে থেকে আপনাদের যা মন হয়, আসলে ব্যাপারটা তা নয়। আমরা একটা পরিবারের মতো পরস্পরের সঙ্গে জুড়ে রয়েছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.