চাণক্য বলছে, বাংলায় তৃণমূলের থেকে বেশি ভোট পেতে পারে বিজেপি!

চোদ্দর লোকসভা ভোট। গণনা শেষে দেখা গেছিল বাংলায় বিজেপি-র ভোট বেড়েছে দুম করে। ৬ শতাংশ থেকে বেড়ে হয়েছে ১৭ শতাংশ। কেন? সহজ বিশ্লেষণ ছিল মোদী ঝড়। বাংলাও তার থেকে মুক্ত ছিল না।

কিন্তু এ বার?

সপ্তদশ সাধারণ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ শেষ হয়েছে রবিবার। গণনা হবে ২৩ তারিখ, বিষ্যুদবার। কিন্তু তার আগে তামাম বুথ ফেরত সমীক্ষার ইঙ্গিত, এ বারের লাফটা আরও বড়!

কতটা?

তার আগে এক ঝলকে দেখে নেওয়া যাক, ২০১৪ সালের লোকসভা ভোটে বাংলায় বাকি দলগুলি কত শতাংশ ভোট পেয়েছিল? তৃণমূল পেয়েছিল ৩৯ শতাংশ ভোট, বামেরা ২৯ শতাংশ, বিজেপি ১৭ শতাংশ এবং কংগ্রেস ৯ শতাংশ। কিন্তু এ বার সে সব হিসাব অনেকটাই উল্টে পাল্টে যাওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে তামাম বুথ ফেরত সমীক্ষা। চাণক্য-র (টুডেজ চাণক্য) সমীক্ষা দিয়েই শুরু করা যাক। তাদের সমীক্ষার মতে, বাংলায় বিজেপি-র ভোট এ বার বেড়ে হতে পারে ৩৬ শতাংশ। অর্থাৎ চোদ্দর ভোটের তুলনায় ১৯ শতাংশ ভোট বাড়তে পারে বিজেপি-র।

চাণক্য সমীক্ষা

তবে চাণক্যর সমীক্ষায় সব থেকে বড় চমক এর পরেও বাকি রয়েছে। তারা বলছে, তৃণমূল পেতে পারে ৩৪ শতাংশ ভোট। অর্থাৎ গত ভোটের তুলনায় ৫ শতাংশ কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে দিদির ভোটে। চাণক্যর ইঙ্গিত বড় ধস নামছে বাম ভোটেও। তা কমে হতে পারে ১৬ শতাংশ। এবং কংগ্রেস পেতে পারে ৯ শতাংশ ভোট।

এর পর দেখে নেওয়া যাক ইন্ডিয়া-টুডে – অ্যাক্সিস কী ইঙ্গিত দিচ্ছে? তারা বলছে, বাংলায় তৃণমূল এবং বিজেপি দু’জনেই ৪১ শতাংশ করে ভোট পেতে পারে। অর্থাৎ তাদের মতে, দিদির ভোট কমছে না। কিন্তু বিজেপি-র ভোট গত বারের তুলনায় বেড়ে যেতে পারে ২৪ শতাংশ। আর বামেদের ভোট কমে নেমে আসতে পারে ৫ শতাংশে।

বিজেপি-র ভোট অনেকটাই বেড়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে এবিপি-এসি নিয়েলসেনও। তাদের মতে, গত বারের ১৭ শতাংশ থেকে বেড়ে বিজেপি এ বার ৩৯ শতাংশ ভোট পেতে পারে বাংলায়। তৃণমূল পেতে পারে ৪১ শতাংশ ভোট। বামেরা ৮ শতাংশ এবং কংগ্রেস ৭ শতাংশ ভোট পেতে পারে।

প্রশ্ন উঠতেই পারে এই সব সমীক্ষার পুর্বানুমান কতটা সঠিক?

বলে রাখা ভাল, এই সমীক্ষাগুলি কতটা নির্ভুল তা বলা সম্ভব নয়। এখানে সমীক্ষার ফলাফল প্রতিবেদনের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে মাত্র।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, বুথ ফেরত সমীক্ষা থেকে মোটামুটি ভাবে ভোটার মনোভাবের একটি আভাস পাওয়া যায়। যে হেতু সমীক্ষার সময় সমীক্ষকরা নমুনা সংগ্রহ করেন, অর্থাৎ ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের মত নেন, তাই তা থেকে ভোট শতাংশের একটা ভালরকম আন্দাজ পাওয়া যেতে পারে। অনেক গুলি সমীক্ষা যখন একই ধরনের ইঙ্গিত করে, তখন তা থেকে বোঝা যেতে পারে ভোটারদের মুডটা কী?

সে দিক থেকে এই তিনটি বড় সমীক্ষায় একটা স্পষ্ট পাওয়া যাচ্ছে বইকি। তা হল, বিজেপি-র ভোট শতাংশের এক লাফে অনেকটা বৃদ্ধি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শেষ পর্যন্ত বিজেপি কটা আসন পাবে পরের কথা, কিন্তু এই ভোট শতাংশের প্রোজেকশন প্রকৃত ফলাফলের সঙ্গে মিলে গেলে তৃণমূলের জন্য উদ্বেগের বইকি। কারণ, এতে স্পষ্ট ইঙ্গিত রয়েছে যে তৃণমূল বিরোধী ভোট বিজেপি-র অনুকূলে সঙ্ঘবদ্ধ হচ্ছে। বিরোধী ভোট ভাগাভাগির সম্ভাবনা কমছে ক্রমশই।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.