ইভিএম হ্যাকিং একটি রাজনৈতিক ধাপ্পা ছাড়া আর কিছুই নয়

উনিশের লোকসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে ইভিএম নিয়ে বিতর্ক তত মাথাচাড়া দিচ্ছে। এনডিএ-র বিরোধীরা যথারীতি তাদের স্বভাবসিদ্ধ কায়দায় ইভিএম হ্যাকিং নিয়ে হৈচৈ আরম্ভ করে দিয়েছে।

গত ২১ জানুয়ারি ২০১৯-এ সৈয়দ সুজা নামে এক স্বঘোষিত হ্যাকিং বিশেষজ্ঞ Indian Journalists Association (IJA) কর্তৃক লন্ডনে আয়োজিত এক প্রেস কনফারেন্সে টেলিকনফারেন্সের মাধ্যমে আমেরিকায় বসে বলেছেন ২০১৪ সালের নির্বাচনে তিনি নাকি এন ডি এ-র পক্ষে হ্যাকিং করেছিলেন। তিনি আরও বলেছেন তিনি নাকি তখন Electronics Corporation of India (ECIL), যারা ২০০৯ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত ইভিএম তৈরিতে যুক্ত ছিল তাদের design & development সেলে কর্মরত ছিলেন। এই খবরে সারাদেশের রাজনৈতিক মহলে এবং টেলিভিশন চ্যানেলগুলিতে হৈচৈ পড়ে যায়। এনডিএ বিরোধী রাজনৈতিক নেতারা সাঙ্ঘাতিক লাফালাফি আরম্ভ করে দিলেন। ওইসব রাজনৈতিক দলের পেটোয়া চ্যানেলগুলি ইভিএম নিয়ে বিতর্কের সান্ধ্য আসর বসিয়ে দিলেন। কিন্তু লক্ষ্য করার বিষয় হলো ওইসব সান্ধ্য বিতর্কের আসরে ইভিএম-এর মতো প্রযুক্তিনির্ভর মেশিনের আলোচনায় সর্বজ্ঞ রাজনৈতিক নেতা বা সাংবাদিকরা থাকলেও এ ব্যাপারে কোনো প্রযুক্তিগত বিশেষজ্ঞের মতামত প্রচারিত হয়নি। ওইসব আলোচনা এবং প্রকাশিত সংবাদ থেকে যে তথ্যগুলো উঠে আসে তা হলো—

২০১৪ সালে লোকসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে কেন্দ্রে ক্ষমতায় ছিলেন মনমোহন সিংহের নেতৃত্বে ইউপিএ সরকার। ক্ষমতাসীন সরকারের ক্ষমতার বলয়ের মধ্যে, ECIL-এর যেসব প্রযুক্তিবিদ ইভিএম তৈরির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তাঁদের সবার অজ্ঞাতসারে, concerned সমস্ত সরকারি মেশিনারিকে প্রভাবিত করে বা অন্ধকারে রেখে বিরোধী পক্ষের কতিপয় হ্যাকারের পক্ষে অত্যন্ত গোপনে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে অত্যন্ত উচ্চস্তরের সূক্ষ্ম ও জটিল প্রযুক্তির মাধ্যমে এই কাজ কী করে করা সম্ভব হলো সে প্রশ্ন মনে জাগা স্বাভাবিক।

ECIL-এর পক্ষে বিবৃতি দিয়ে জানানো হয় যে সৈয়দ সুজা নামে কোনো ব্যক্তি তাদের প্রতিষ্ঠানের ‘design & development ডিপার্টমেন্টে কাজ করতেন না। এ ব্যাপারে সুজার বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ড বিধি (IPC) ৫৪৩ ধারায় এফ আই আর দায়ের করা হচ্ছে।

দেখা গেল লন্ডনে উক্ত প্রেস কনফারেন্সটির আয়োজন করেছে Indian Journalists Association (IJA); এবং এর পুরোভাগে ছিলেন IJA-র প্রেসিডেন্ট আশিস রায় যিনি আবার কংগ্রেসের হয়ে ‘সোশাল মিডিয়া’তে campaign করেন এবং লন্ডনে রাহুল গান্ধীর public event অর্গানাইজ করেন। এই প্রেস কনফারেন্সে কংগ্রেসের বরিষ্ঠ নেতা কপিল সিব্বাল উপস্থিত ছিলেন। এতে অনেকের মনে সন্দেহের উদ্রেক হয়েছে যে এই অপপ্রচারের পেছনে কংগ্রেসের চক্রান্ত আছে।

সৈয়দ সুজা এই প্রেস কনফারেন্স সরাসরি উপস্থিত ছিলেন না। আমেরিকায় বসে মুখ কালো কাপড়ে ঢেকে ‘স্কাইপ’ প্রযুক্তির মাধ্যমে টেলিকনফারেন্সে কথা বলছিলেন এবং তার বক্তব্যের সমর্থনে কোনোরকম প্রমাণ তিনি পেশ করেননি।

একজন অজ্ঞাত ব্যক্তির মুখের কথা লুফে নিয়ে বিজ্ঞ বিরোধী নেতারা লাফালাফি আরম্ভ করে দিলেন যে ২০১৪-তে ইভিএম হ্যাক হয়েছিল। তারা ২০১৯ সালের সাধারণ নির্বাচনের জন্য ভারতের নির্বাচন আধিকারিকের কাছে ইভিএমের বদলে পেপার ব্যালটের দাবি করলেন।

মুখ্য নির্বাচনে আধিকারিক সুনীল অরোরা পরিষ্কার বলে দিয়েছেন যে ব্যালট পেপারের মতো পুরানো ব্যবস্থায় ফিরে যাওয়ার কোনো প্রশ্নই নেই। ইভিএম-এর মাধ্যমে নির্বাচনে যখন বিরোধীরা জয় পায় তখন সব ঠিক, যখন পরাজিত হয় তখন ইভিএম হ্যাক হয়েছে বলে অভিযোগ করেন। এর আগে নির্বাচন আয়োগ রাজনৈতিক নেতাদের বারবার চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বলেছেন তারা যেন আয়োগের কার্যালয়ে এসে হাতে কলমে তাদের অভিযোগ প্রমাণ করেন। কিন্তু কোনো দলই এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে এগিয়ে আসেননি।

এটা আমরা সবাই জানি ব্যালট পেপারে ভোট গ্রহণ করলে তাতে ব্যালট পেপার লুট, ছাপ্পা ভোট, ডুপ্লিকেট ব্যালট পেপার ইত্যাদি নানারকম দুর্নীতির সুযোগ হাজার গুণ বেশি থাকে এবং অতীতে এইসব দুর্নীতি প্রভূত পরিমাণে হয়েছে। এবং ব্যালট পেপার গোণার সময়ও প্রচুর দুর্নীতি অতীতে হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে ব্যালট পেপারের এইসব দুর্নীতি আমরা দেখেছি।

নির্বাচন আয়োগ সবসময়ই দাবি করেছেন অত্যন্ত উচ্চমানের প্রযুক্তিবিদরাই ইভিএম তৈরি করেছেন এবং কিছুতেই তা হ্যাক করা সম্ভব নয়। এ ব্যাপারে হ্যাকিং-এর প্রযুক্তিগত দিকটা নিয়ে একটু আলোচনা করলে ব্যাপারটা পরিষ্কার হয়ে যাবে।

ইভিএম হলো একটি সরল ক্যালকুলেটিং মেশিনের মতো যার মধ্যে আছে একটি কন্ট্রোল ইউনিট যাকে যন্ত্রটির ব্রেন বলা যায়। একে ইলেকট্রনিক পরিভাষায় Microprocessor বলা হয়। এটির মধ্যে এমন ইলেকট্রনিক সার্কিট করা আছে যে একে যেরকম নির্দেশ দেওয়া হবে সেই অনুযায়ী ম্যাথম্যাটিকাল ক্যালকুলেশন যন্ত্রটি করবে এবং তা মেমোরি ইউনিট-এ সংরক্ষিত করে রাখবে যা পরে বার করা যাবে বা পড়া যাবে। দূর থেকে অপারেট করা বা কন্ট্রোল করার মতো কোনো ব্যবস্থা (সার্কিট) ইভিএম-এ নেই। একটি ক্যালকুলেটারকে কি দূর থেকে অপারেট করা যায়?

ইভিএম-কে দূর থেকে অপারেট বা হ্যাক করতে গেলে এর সঙ্গে উচ্চ জটিল প্রযুক্তির ইলেক্ট্রনিক (device) ইউনিট যুক্ত করতে হবে যে কিনা দূর থেকে অত্যন্ত গোপনে পাঠানো বিশেষ ধরনের ইলেক্ট্রিক্যাল/ইলেক্ট্রনিক সংকেত (signal) গ্রহণ (receive) করে ইভিএম-এর কন্ট্রোল ইউনিট বা microprocessor-কে প্রয়োজনীয় নিদের্শ দিয়ে আপনার কাঙ্ক্ষিত ব্যক্তির পক্ষের ইলেক্ট্রনিক সার্কিট টি অ্যাকটিভেট করবে। শুধু সঙ্কেত পাঠালেই হবে না। micro-processor যে ভাষাটি (কম্পিউটার ল্যাঙ্গুয়েজ) বোঝে সেই ভাষায় সঙ্কেতকে রূপান্তরিত করার উপযুক্ত ব্যবস্থা থাকতে হবে। যে চাইনিজ ভাষা বোঝে তাকে বাংলায় বললে সে কি নির্দেশ পালন করতে পারবে? অর্থাৎ উপযুক্ত সফটওয়ার-এর ব্যবস্থাও করতে হবে। এই সমস্ত ব্যবস্থা করতে গেলে তার জন্য ওই বিশেষ ইভিএম-এর ইলেকট্রনিক সার্কিটে হার্ডওয়ার এবং সফটওয়ার-এর সঙ্গে আরও কিছু হার্ডওয়ার এবং সফটওয়ার যুক্ত করতে হবে এবং এই ইলেকট্রনিক সংযোগ ঘটাবার জন্য এই নির্দিষ্ট ইভিএম-এর হার্ডওয়ার এবং সফটওয়ার সম্পর্কে পুঙ্খানুপুঙ্খ প্রযুক্তিগত জ্ঞান অবশ্যই থাকতে হবে। হ্যাকারকে সেই বিশেষ জ্ঞান প্রথমে অর্জন করতে হবে তারপর তা প্রয়োগ করে প্রয়োজনীয় ইলেকট্রনিকসার্কিটযুক্ত একটি অতিক্ষুদ্র ইউনিট বা চিপ অত্যন্ত গোপনে সকলের অগোচরে প্রত্যেকটি ইভিএম সার্কিট-এর সঙ্গে ইলেকট্রনিক্যালি যুক্ত করতে হবে। এই ইউনিট বা চিপকে (যে ইভিএম সার্কিটকে পরিচালিত করবে) কার্যকরী করার জন্য গোপনে দূর থেকে সিগন্যাল বা সংকেত পাঠাতে হবে।

রিমোট অপারেটিং ইউনিট থেকে নির্দিষ্ট ইভিএম-এ সঙ্কেত দূভাবে প্রেরণ করা যেতে পারে। তারের মাধ্যমে বা বেতার প্রযুক্তিতে। হাজার হাজার ইভিএমের সঙ্গে তারের মাধ্যমে সঙ্কেত প্রেরণ করতে গেলে সেটা হয়ে যাবে অনেকটা টিভি-র ‘কেবল অপারেটররা যেমন কেবল (তার)-এর মাধ্যমে সংযোগ স্থাপনের জন্য শহরের সমস্ত ল্যাম্প পোস্ট বা রাস্তার ধারের গাছ ছেয়ে ফেলে সেইরকম। তা হলে সে কি আর গোপন থাকবে? সুতরাং চোখের আড়ালে তারের মাধ্যমে বৈদ্যুতিক সংকেত পাঠিয়ে হ্যাকিং সম্ভব নয়।

এবার আসা যাক ‘বেতার প্রযুক্তি’তে হ্যাকিঙে। বেতার প্রযুক্তিতে রেডিয়ো ওয়েভস-এর মাধ্যমে প্রয়োজনীয় নির্দেশ পাঠাতে হবে। এই রেডিয়ো ওয়েভস-কে গ্রহণ করার জন্য অ্যান্টেনা ইউনিট থাকতে হবে। এই অ্যান্টেনার মাধ্যমে ইলেকট্রনিক নির্দেশ আরও কিছু জটিল ইলেকট্রনিক সার্কিটের (যা চিপ ফর্ম-এ থাকে) মধ্য দিয়ে ইভিএম-এর কন্ট্রোল ইউনিট-এ ঢুকে তাকে অপারেট করবে। এই পুরো ইলেকট্রনিক ডিভাইসটিকে ইলেকট্রনিক পরিভাষায় বলা হয় ট্রান্সসিভার। ইভিএম-এর অপারেশনকে প্রভাবিত করার জন্য ট্রান্সসিভার চিপ তৈরি করতে গেলে এই ইভিএম-এর হার্ডওয়ার এবং সফটওয়ার সম্পর্কে পুঙ্খানুপুঙ্খ প্রযুক্তিগত জ্ঞান থাকতেই হবে যা ইভিএম তৈরির সঙ্গে যুক্ত প্রযুক্তিবিদ ছাড়া আর কারো পক্ষে জানা সম্ভব নয়। এই Technical knowhow অত্যন্ত গোপন রাখা হয়। ধরে নেওয়া যাক সেই প্রযুক্তি চুরি হয়ে গেল। এইরকম বিশেষ ধরনের ট্রান্সসিভার চিপ পাড়ার দোকানে কিনতে পাওয়া যাবে না। পৃথিবীতে মাত্র কয়েকটি কোম্পানি আছে যারা অত্যন্ত উচ্চতর জটিল প্রযুক্তির এইরকম চিপ তৈরির ক্ষমতা রাখে।

বিশিষ্ট প্রযুক্তিবিদ মিস্টার ধীরাজ সিনহার মতে এইরকম এক একটি অতি ক্ষুদ্র চিপ (চক্ষুর আড়াল করতে অতি ক্ষুদ্র চিপ বানাতে হবে) ডিজাইন করতে গেলে প্রায় ২০ লক্ষ ডলার করে খরচ পড়বে। ইভিএম হ্যাক করতে গেলে প্রত্যেকটি ইভিএম-এর সঙ্গে এই বিপুল দামের বিশেষ ধরনের চিপ অত্যন্ত গোপনে বিশেষ প্রশিক্ষিত ব্যাক্তির দ্বারা যুক্ত করতে হবে। তাহলে সমস্ত ইভিএম-এর জন্য এই ব্যাবস্থা করতে গেলে কত কোটি টাকা লাগবে ভেবে দেখুন? হ্যাকার গোষ্ঠীর এই কোটি কোটি টাকার money transaction-কে গোপন রাখতে হবে।

গল্প এখানেই শেষ নয়। ধরা যাক কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে হাজার হাজার এইরকম চিপ তৈরি করে নির্বাচন কমিশনের নজরদারি এড়িয়ে হাজার হাজার ইভিএম-এর ভেতরে অত্যন্ত গোপনে এইসব চিপ টেকনিক্যাল এক্সপার্ট-এর মাধ্যমে জুড়ে দেওয়া হলো। তা হলেও নির্বাচন কমিশনের নজরদারি এড়িয়ে ইভিএম হ্যাকিং-এর পুরো কাজটি করা যাবে কি? Radio waves-কে গ্রহণ করার জন্য অ্যান্টেনা ইউনিটটিকে আড়াল করবেন কীভাবে? আমাদের ঘরের টিভি-র বেতার ব্যবস্থায় সিগন্যাল গ্রহণ করার অ্যান্টেনাগুলো দেখেছেন? এক একটি কড়াইয়ের মতো দেখতে— তাই জন্য তাকে ডিশ অ্যান্টেনা বলা হয়। সৈয়দ সুজা এখানে একটি চাল চেলেছেন। তিনি বলেছেন Reliance Communication নাকি তাকে এ ব্যাপারে সাপোর্ট করেছে। Reliance Communication-45 GSM frequecey band 26079 ৮০০-১৮০০ MHz। এই মাপের frequency-র তরঙ্গ সংকেতকে ধরতে (receive) করতে গেলেও ক্ষুদ্রতম GSM-antennaটি হবে মোবাইলের মাপের। মোবাইলের অ্যান্টেনাটি ছোটো হলেও কিন্তু তা আড়াল করা সম্ভব নয়। মোবাইলের বাইরের কভারটি খুললেই একটি ধাতব প্যাচ (metallic patch) চোখে পড়বে। সেটিই মোবাইলের অ্যান্টেনা। অর্থাৎ হ্যাকিং-এর যান্ত্রিক ব্যবস্থাকে কিছুতেই আড়াল করা সম্ভব নয়; তা নির্বাচন আয়োগের বিশেষজ্ঞ সুপারভাইজারদের চোখে পড়বেই। যদি কোনো প্রযুক্তিবিদ ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র (ultra-small) transceiver chip তৈরি করতে পারেন যার সঙ্গে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র অথচ শক্তিশালী অ্যান্টেনা লাগানো থাকবে এবং যা অদৃশ্য থাকবে; এইরকম পরিপূর্ণ invisible transceiver device বানাতে পারলে তিনি অবশ্যই নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হবেন।

ইভিমে হ্যাকিং একটি অবাস্তব হাস্যকর কথা। সৈয়দ সুজার হ্যাকিং সম্পর্কে এই বক্তব্য একটি সাইন্স ফিকশন ছাড়া আর কিছুই নয়। এটি একটি রাজনৈতিক ধাপ্পা। টিভি চ্যানেলগুলো ইভিএম হ্যাকিং নিয়ে মশলাদার সান্ধ্যআসর না বসিয়ে এই বিষয়ের বিশেষজ্ঞ প্রযুক্তিবিদদের নিয়ে এসে আলোচনা করালেই পুরো ব্যাপারটি দেশের মানুষের কাছে পরিষ্কার হয়ে যাবে।

প্রণব দত্ত মজুমদার

(সূত্র : ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস)

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.