তাহলে কি ভারতীয় গবেষকদের দাবিটাই ঠিক? গত বছর ডিসেম্বর থেকেই আওয়াজ উঠেছিল জনসন বেবি শ্যাম্পু ও ট্যালকম পাউডারে রয়েছে বিষাক্ত রাসায়নিকের উপস্থিতি যা থেকে হতে পারে ক্যানসার। সেই আশঙ্কাকেই সত্যি করে জয়পুরের ড্রাগ টেস্টিং ল্যাবোরেটরি জানাল পরীক্ষা করে দেখা গেছে জনসন বেবি শ্যাম্পুতে সত্যিই রয়েছে ফরম্যালডিহাইড-সহ কয়েকটি ক্ষতিকর রাসায়নিক। আর এই পরীক্ষার ফল সামনে আসতেই দেশ জুড়ে জনসন বেবি প্রোডাক্টের বিক্রি বন্ধ করার নির্দেশ জারি করলো ন্যাশনাল কমিশন ফর প্রোটেকশন অব চাইল্ড রাইটস (NCPCR)।

জনসন বেবি প্রোডাক্ট সত্যিই নিরাপদ কি না সেটা বিশদে যাচাই করতে দেশের পাঁচ জায়গা থেকে এই সংস্থার নমুনা জমা করার নির্দেশ দিয়েছিল এনসিপিসিআর, যার মধ্যে ছিল দক্ষিণের অন্ধ্রপ্রদেশ, পূর্বের ঝাড়খণ্ড, পশ্চিমের রাজস্থান, মধ্য ভারতের মধ্যপ্রদেশ ও উত্তর-পূর্বের অসম।যার মধ্যে রাজস্থানের ড্রাগ কন্ট্রোল অর্গানাইজেশনের দাবি, জনসন বেবি শ্যাম্পুতে মিলেছে ফরম্যালডিহাইড, অ্যাসবেস্টাস-সহ এমন কয়েকটি রাসায়নিক যা থেকে হতে পারে ক্যানসারের মতো মারণ ব্যাধি।

ফরম্যালডিহাইড হল বর্ণহীন, ঝাঁঝালো গ্যাস। বিল্ডিং এবং গৃহস্থালির নানা সরঞ্জাম এবং প্লাইউড, ফাইবার বোর্ড, নানা রকম আঠা তৈরিতে ব্যবহার করা হয় এই রাসায়নিক। খাদ্যদ্রব্যের প্রিজারভেটিভ হিসেবেও ব্যবহার হয়। এনসিপিসিআর জানিয়েছে, বাকি রাজ্যগুলিতেও পরীক্ষা নিরীক্ষা চলছে, সেই ফলও কয়েকদিনের মধ্যেই হাতে এসে যাবে। তার আগে দেশে জনসন বেবি প্রডোক্টের বিক্রি বন্ধ করে দিতে হবে।

গত বছরের ডিসেম্বরে জনসন বেবি পাউডার সংক্রান্ত একটি রিপোর্টে দাবি করা হয়, এই সংস্থার প্রোডাক্টে রয়েছে ক্ষতিকর রাসায়নিক। যদিও এই দাবি সম্পূর্ণ উড়িয়ে জনসন জানায়, ফরম্যালডিহাইড কেন এই বেবি প্রোডাক্ট তৈরিতে এমন কোনও পদার্থ ব্যবহার করা হয় না যার থেকে শারীরিক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। এই রিপোর্ট সামনে আসার পরই ভারতের অন্তত দু’টি ইউনিটে জনসন বেবি প্রোডাক্ট তৈরি বন্ধ করে দিয়েছিল সেন্ট্রাল ড্রাগস স্ট্যানডার্ড কন্ট্রোল অর্গানাইজেশন(CDSCO)। ফের একবার প্রশ্নের মুখে পড়ল জনপ্রিয় এই মার্কিন বেবি প্রোডাক্ট প্রস্তুতকারক সংস্থা।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.