বন্দেমাতরম্ বলব না। ভারত মাতার জয় দিতে আপত্তি নেই। এক আর.জে.ডি. প্রত্যাশী বললেন। তা নিয়ে দারুণ আনন্দ কোন কোন মহলে। সিদ্দিকী সাহেবের আপত্তি কেন না, একমাত্র আল্লা ছাড়া আর কারো কাছে মাথা নোয়ানো ইসলাম অনুযায়ী অনুচিত।

এই কথায় কুযুক্তি আছে। আল্লা ছাড়া আর কারো কাছে মাথা না নোয়ানোই যদি অকর্তব্য হয় তবে, নির্দিষ্ট দিকে প্রার্থনার হেতু বোঝা কঠিন। বন্দেমাতরম্ অর্থাৎ দেশ জননী তোমাকে প্রণাম করি। এটা যদি ভুল হয়, আপত্তিকর লাগে তা হলে ভারত মাতার নামে জয়ও তো আপত্তিকর ! বরং বন্দেমাতরম্-এ দেশ জননী একটু রূপকের আড়ালে আছেন।

বাংলা বিহার কেন সমস্ত উপমহাদেশ জুড়ে অজস্র জনপ্রিয় মাজার আছে। খাজা মইনুদ্দীন চিশতি, হজরত নিজামুদ্দীন আউলিয়া, দাতা পীর, ফুরফুরা শরীফ, ঘুটিয়ারি শরীফ, হিজলির মসনদ-ই-আলা কত বলব। এ নিয়ে ইসলামী পঞ্জিকা খুললে রোজ দেখতে পাবেন শত শত পীরস্থানে উরস হচ্ছে, চাদর চড়ানো হচ্ছে, হুজুরের পর্দা নেবার দিন স্মরণ করা হচ্ছে। এসবই তো শির্ক বা শেরেকি। আল্লা শরিক হিসাবে অন্য কাউকে মানা। এতে আমার কোন আপত্তি নেই। সাধারণ মানুষের সহজ বিশ্বাস এমনি ভাবে যুগে যুগে দেবতার জন্ম দিয়েছে।

আমার আপত্তি এইরকম বাছাই করে বিরোধিতায়। সেই ১৯০৬ থেকে মুসলমানদের একাংশ বন্দেমাতরম্-এর বিরুদ্ধে খড়্গ হস্ত। কি, না এতে ইসলাম খতরায় পড়ে। কারণ দেশকে জননী ভাবতে তাদের আঁতে লাগে। শুধু কি তাই, গলায় ছুরি বসালেও ভারত মাতার জয় বলব না, বলে আসর জাগিযেছেন হায়দ্রাবাদের নতুন জিন্না ওয়েসি। আর এই লালুপন্থী সিদ্দিকী সাহেবের অবশ্য ভারত মাতার জয় বলতে আপত্তি নেই। বলি কি, আগে ঠিকঠাক করে নিন। তারপর ময়দানে নামুন।

হজে দিয়ে প্রস্তরে চুম্বন, পবিত্র ক্ষেত্র প্রদক্ষিণে কি শির্ক নেই? শয়তানের দিকে ঢিল ছোঁড়া কি সমান্তরাল শক্তির অস্তিত্ব স্বীকার করে নেওয়া নয়? এসব জটিল যুক্তি পাশে সরিয়ে রেখে বলুন তো, ভারত মাতার জয় আর বন্দেমাতরম্-এ পার্থক্য ঠিক কতটুকু? আনন্দে থাকুন। অর্থাৎ অন্যের লেখা বা কথা ধার করে ধারালো হতে থাকুন॥

প্রফেসর অচিন্ত্য বিশ্বাস

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.