রাহুল গান্ধীর নির্বাচন প্রতিশ্রুতি নূনতম আয় প্রকল্প নিয়ে কংগ্রেস দ্বিধাগ্রস্থ

ভারতের সবচেয়ে পুরাতন দলটি সত্যি সঠিক কোনো বলার মতো সমস্যা না পেয়ে ভোটারদের সমর্থন পাওয়ার আশায় বর্তমান সরকারের নিন্দা ও সমালোচনা করছে। যখন এটি তাদের পক্ষে কাজ না করে তার পরিবর্তে একটি নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করছে, তখন রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বাধীন কংগ্রেস নূনতম আয় যোজনা (NYAY)র মাধ্য়মে গরিবদের সমর্থন পাওয়ার বিনিময়ে অর্থ প্রদান করবে বলে জানায়। তবে, ভোটারদের খুশি করার তাড়ায় কংগ্রেস পার্টি এই পরিকল্পনার ব্যাপারে দ্বিধান্বিত। রাহুল গান্ধী ও কংগ্রেসের মুখপাত্র রনদীপ সিং সুরজেওয়ালা এই পরিকল্পনার বিষয়ে পরষ্প বিরোধী মত প্রকাশ করেছেন।

এই উচ্চাকাঙ্ক্ষী পরিকল্পনার ফলে ভারতের মধ্যে সবচেয়ে দরিদ্রতম ২০% পরিবারের ব্যক্তিরা উপকৃত হবেন। এটা ৫ কোটি পরিবারের সমান, যার মধ্যে ২৫ কোটি মানুষ রয়েছে। রাহুল গান্ধী মাসিক ভিত্তিতে প্রতি পরিবারে জন্য ১২,০০০ টাকার ন্যূনতম আয়ের ঘোষণা করেছেন। এ ছাড়া, তিনি বলেন যে প্রতি পরিবার কমপক্ষে ৭২,০০০ টাকা পাবে। এনডিএ সরকারের পিএম-কিসান প্রকল্পে প্রতিটি কৃষকের অ্যাকাউন্টে প্রতি বছর ৬,০০০ টাকা স্থানান্তর করার প্রক্রিয়া চলছে, তারই প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাহুল গান্ধী একই পরিমাণ মাসিক ভিত্তিতে টাকা স্থানান্তর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দেশের ৩.৬ লাখ কোটি টাকার আয় কমিয়ে আনার লক্ষ্যে এটি একটি প্রচার। তবে এই সুরক্ষিত সর্বনিম্ন আয় প্রকল্পটির কোন পরিসংখ্যানগত ভিত্তি নেই।

রাহুল গান্ধী পদ্ধতিটিকে “টপ আপ” হিসাবে ব্যাখ্যা করে বলেছেন প্রতি মাসে ১২,০০০ টাকা পর্যন্ত এই সুবিধাটিতে উপকৃত হবেন। রাহুল গান্ধী বলেন, “যদি একটি পরিবার প্রতি মাসে ৬,০০০ টাকা উপার্জন করে তবে পরিবারটিকে ১২,০০০ টাকা আয় করতে কমপক্ষে ৬,০০০ টাকা দেওয়া হবে।”

তবে, নতুন দিল্লিতে কংগ্রেসের সদর দফতরের সংবাদিক সম্মেলনে রণদীপ সুরজেওয়ালা ভিন্ন দাবি করে বলেছেন যে, ন্যূনতম আয়ের প্রকল্পটি একটি “টপ আপ” প্রকল্প নয় এবং মাসিক আয় নির্বিশেষে প্রতিটি পরিবার মাসে ৬,০০০ টাকা (বছরে ৭২,০০০) পাবে।

ভোটাররা এই কারণে দৃশ্যত বিভ্রান্ত। কংগ্রেসের নেতারা লম্বা প্রতিশ্রুতি দেওয়ার চেষ্টায় নিজেদের মধ্যে এই প্রকল্প নিয়ে আলোচনাই করেননি। প্রকৃতপক্ষে ৩.৬ লাখ কোটি টাকার এই প্রকল্প প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে জন্য তাদের বিশ্বাস করা যায় না। অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল ভোটারদেরকে সন্তুষ্ট করার জন্য এটি কেবল একটি চতুর প্রচার ছাড়া কিছু নয়। যদি এটিকে বাস্তবায়ন করার সুযোগ দেওয়া হয়, তবে এই করদাতা ভোটারদের উপর একটি বড় বোঝা হয়ে দাঁড়াবে, দেশে পণ্যদ্রব্যের দাম বাড়িয়ে দেবে সর্বোপরি অতীতের কংগ্রেসের বেশিরভাগ স্কীমের মতই, পুরোপুরি ব্যার্থ হয়ে প্রত্যাবর্তন করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.