পাক সেনার মদতপুষ্ট ইসলামি জঙ্গী গোষ্ঠী জয়েশই-মুহম্মদের উপর বিধ্বংসী বিমানহানা ২০১৯-এ হতে চলা ভারতের সাধারণ নির্বাচনের পাটিগণিতটাকেই বদলে দিয়েছে। নির্বাচনটিকে করে তুলেছে কয়েক দশকের সব চাইতে অনিশ্চয়তার নির্বাচন।

এদিকে, কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধীর আচরণ যেন আসন্ন নির্বাচনকে মার্কিনী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের রূপ দিতে বদ্ধ পরিকর। পুলওয়ামার সময়কার অল্প কিছুদিনের বিরতি বাদ দিলে তিনি প্রতিদিনই প্রধানমন্ত্রী মোদীকে আক্রমণ করে চলেছেন। এই অবিরাম আক্রমণ শেষ পর্যন্ত মোদীকেই নির্বাচনী ফায়দা তোলবার ব্যবস্থা না করে দেয়। এমন ভাবার কারণ হল, মোদী তাঁর বিরুদ্ধে হওয়া ব্যক্তি আক্রমণকে উল্টে নিজের অস্ত্রে পরিণত করার শিল্পে নিজের দক্ষতার পরিচয় ইতিমধ্যেই বহুবার দিয়েছেন। তাই এরকম আঁচ করা বোধ হয় অমূলক নয় যে, এই আক্রমণ ব্যুমেরাং হয়ে খোদ রাহুলকেই বিশ্রী ভাবে আঘাত করতে চলেছে।

ইউনাইটেড প্রগ্রেসিভ অ্যালায়েন্স বা ইউপিএ-র চেয়ারপার্সন সোনিয়া গান্ধীকে অনেক ঠেকে এই শিক্ষাই পেতে হয়েছিল কিন্তু। মোদী ভবিষ্যতে কংগ্রেসের জন্য কত বড় বিপদ হয়ে উঠতে পারেন তা তিনিই ভারতের রাজনীতিবিদদের মধ্যে প্রথম অনুমান করতে পেরেছিলেন। ২০০২-এর মেরুকরণের দিনগুলির সময় জাতীয় রাজনীতিতে মোদীর তখন সেরকম কোনও পরিচিতিই ছিল না। কিন্তু, সোনিয়ার অতি সতর্ক রাজনৈতিক ষষ্ঠেন্দ্রিয় মোদীকে ভবিষ্যতের জাতীয় নেতা হিসেবে চিনতে ভুল করেনি। ২০০৭-এ তিনি মোদীকে আক্রমণ করেন “মওত কি সওদাগর” বলে। এবং এই আক্রমণের ফলে দুটি ঘটনা ঘটেছিল যার প্রতিটিই ছিল কংগ্রেসের কাছে হিতে বিপরীত হওয়া।

প্রথমত, এই আক্রমণই মোদীকে আঞ্চলিক থেকে জাতীয় গুরুত্বের এক নেতায় উন্নীত করেছিল।দ্বিতীয়ত, এটি অভূতপূর্ব ভাবে হিন্দু ভোটকে সঙ্ঘবদ্ধ করেছিল ভারতীয় জনতা পার্টির পক্ষে। সেসময় সোনিয়া গান্ধী ক্ষমতার তুঙ্গে। শুধু ইউপিএর চেয়ারপার্সনই নয়, ন্যাশনাল অ্যাডভাইজরি কমিটির (এনএসি) মাধ্যমে সরকারের নীতি নির্ধারণও করতেন তিনি। “মওত কা সওদাগর” আখ্যা দেওয়ার আগেও তিনি বুঝেছিলেন নির্বাচনী যুদ্ধের ময়দানে মোদী কংগ্রেসের কাছে কত বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারেন। আর, বুঝেছিলেন বলেই, সঙ্গীদের নিয়ে সুপরিকল্পিতভাবে তৈরি করেছিলেন “গৈরিক সন্ত্রাস”-এর ঝুটো তত্ত্ব। যেভাবে কংগ্রেস হাইকম্যান্ড লস্কর-ই-তৈবার সন্ত্রাসী ইসরাত জাহানের মৃত্যুর মামলায় বিজেপি নেতাদের ফাঁসানোর জন্য প্রাণপাত করতে শুধু বাকি রেখেছিল, তাতেই তাদের মনের উদ্বেগ স্পষ্ট প্রকাশ পেয়েছিল মোদীকে নিয়ে। কিন্তু, মোদীর উপর হওয়া প্রতিটি আক্রমণ তাঁকে বরং আরও শক্তিশালী করে তুলছিল। ২০০৭-এর গুজরাট বিধানসভা নির্বাচন তিনি সাবলীল ভাবেই জিতলেন। দেশের সর্বোচ্চ ন্যায়ালয়ের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত বিশেষ তদন্তকারী দল (এসআইটি) ১০ ঘণ্টা ধরে অমানবিক জেরা চালিয়েছিল তাঁর উপর, ২০০২-এর গুজরাট দাঙ্গায় তাঁর তথাকথিত ভূমিকা নিয়ে। কিন্তু এসবের ফল হয়েছিল ঠিক বিপরীত। কংগ্রেস ও তার পেটোয়া সংবাদ মাধ্যমের এভাবে তাঁর ক্ষতি করতে নামার প্রচেষ্টা উল্টে জাতীয় স্তরে তাঁর ভাবমূর্তিকে করে তুলেছিল উজ্জ্বলতর। মোদী ২০১২র বিধানসভা নির্বাচন জিতে তৃতীয় বারের জন্য গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন। কিন্তু কংগ্রেস এ থেকেও শিক্ষা গ্রহণ করেনি। ব্যক্তি আক্রমণ তারা চালিয়েই গেছে একইভাবে। এই সময় থেকে আক্রমণ হয়ে উঠেছে ঘৃণ্যতর। মোদীকে তারা নস্যাৎ করা শুরু করল “চাওয়ালা” বলে। আর, মোদী সেটাকেই করে তুললেন তাঁর নির্বাচনী স্লোগান ২০১৪র সাধারণ নির্বাচনে। উচ্চবর্ণের পাশাপাশি এবার অন্যান্য পশ্চাৎপদ জাতি (ওবিসি)-দের ভোট সঙ্ঘবদ্ধ হল বিজেপির জন্য তাঁর এই “চাওয়ালা” ইমেজের জন্য। সেই বিজেপি যা, এর আগে “ব্রাহ্মণদের দল” হিসেবেই পরিচিত ছিল। রাহুল গান্ধীর “চৌকিদার চোর হ্যায়” স্লোগানও কিন্তু ২০১৪র “চাওয়ালা” স্লোগানের মতোই ক্ষমতা রাখে ২০১৯-এ কংগ্রেসকে প্রভূত বিপদে ফেলার। ২০১৯-এর নির্বাচনে মূল কাহিনির পাশাপাশি প্রধান তিনটি উপকাহিনি রয়েছে। প্রথমটি হল স্বয়ং মোদীর ব্যক্তিগত রসায়ন। মোদী-ঢেউ এর প্রাবল্য কমলেও তা কিন্তু সরে যায়নি। দ্বিতীয়টি হল এক আপাত আগ্রাসী রাজনৈতিক নেতা রূপে রাহুল গান্ধীর আত্মপ্রকাশ। ২০২০ সালের জুনে পঞ্চাশ হতে চলা কংগ্রেস সভাপতি সমস্ত রাখঢাক ছেড়ে সামনে এসেছেন বিশুদ্ধ রাজনীতিক হিসেবে। তৃতীয় উপকাহিনিটি হল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, মায়াবতী ও অখিলেশ যাদবের মতো আঞ্চলিক নেত্রী ও নেতাদের উত্থান এবং তাঁদের মোদী-বিরোধী “মহাগঠবন্ধন” বা জোট।

এবার একটু সংখ্যা নিয়ে নাড়াচাড়া করা যাক!

যে প্রদেশ দুটি সম্ভবত ১৯-এর নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারণ করতে চলেছে সে দুটি হল উত্তর প্রদেশ এবং মহারাষ্ট্র। এই দুই রাজ্য লোকসভায় ১২০জন সাংসদ পাঠায়। উত্তরপ্রদেশে সমাজবাদী পার্টি, বহুজন সমাজ পার্টি ও কংগ্রেসের জোট মোট ভোটের পঞ্চাশ শতাংশ জিতে নিতে পারত যদি বসপা নেত্রী মায়াবতী কংগ্রেসকে অচ্ছুৎ বানিয়ে জোটের বাইরে রেখে দেওয়ার জেদটা ছাড়তেন। সেক্ষেত্রে বিজেপি হয় তো ২০র বেশি আসন পেত না এই রাজ্য থেকে এবং, এই ঘটনাই মোদীর দ্বিতীয়বারের জন্য প্রধানমন্ত্রী হওয়া আটকে দিত। কিন্তু অজান্তেই মায়াবতী তাঁকে পুনর্জীবন উপহার দিয়ে ফেলেছেন। তাঁর সৌজন্যে যেটা উত্তর প্রদেশে বিজেপি বনাম বিএসপি-এসপি-কংগ্রেস দ্বিমুখী লড়াই হতে পারত তা হতে চলেছে একটি ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা। একারণেই রাজনৈতিক ধুরন্ধর প্রিয়ঙ্কা গান্ধী ভদ্রা চেয়েছিলেন বিএসপি-এসপি-রাষ্ট্রীয় লোকদল জোটে কংগ্রেস যোগ দিক। কিন্তু, ২০২২এ রাজ্যে কংগ্রেসের সর্বসমক্ষে ঘোষিত সরকার গঠনের পরিকল্পনায় এবং জোট-বাধ্যবাধকতায় উচ্চাশার তুলনায় কম আসনে লড়তে হতে পারে এই আশঙ্কায় সেই সম্ভাবনা সম্পর্কে সম্পূর্ণ শীতল থেকেছেন। বিএসপি-এসপি জোটকে আরও অসম্ভব করে তুলেছে উত্তরপ্রদেশের দায়িত্ব প্রাপ্ত কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে প্রিয়ঙ্কা ভদ্রার রাজনীতিতে প্রবেশ। বিভিন্ন সমীক্ষায় এই ইঙ্গিত স্পষ্ট যে, তাঁর রাজনৈতিক অভিষেক বিজেপির ভোটের চাইতে অনেক বেশি গ্রাস করবে বিএসপি এবং এসপির ভোট। ফলে, প্রিয়ঙ্কা ভদ্রার এই ঢাকঢোল পেটানো অভিষেক বিএসপি-এসপি ঝড়ের পথে কংগ্রেসকে প্রধান এবং সম্ভবত একমাত্র বাধা করে তুলবে । ২০১৪-র লোকসভা নির্বাচনে উত্তর প্রদেশে বিজেপির ভোট শেয়ার ছিল ৪২.৬৩ শতাংশ। এসপি পেয়েছিল ২২.৩৫ শতাংশ, বিএসপি ও কংগ্রেস যথাক্রমে ১৯.৭৭ এবং ৭.৫৩ শতাংশ। অন্যান্যরা পেয়ে ছিল ৭.৭২ শতাংশ। অর্থাৎ দেখা যাচ্ছে ৪৩ শতাংশেরও কম ভোট শেয়ার নিয়েও বিজেপি যে রাজ্যে ৮০-টার মধ্যে ৭১-টাই জিতে নিতে পেরেছিল তা একারণেই যে, ‘১৪র নির্বাচনে মোদী ঝড়ের পাশাপাশি বিরোধীদের মধ্যেকার প্রতিযোগিতা বা অনৈক্যও বিজেপির অনুকূলে প্রবল ভাবে কাজ করেছিল। ২০১৯এর পাটিগণিত এবং রসায়ন, দুটোই ‘১৪র থেকে অনেকটাই অন্যরকম। তুলনামূলকভাবে দুর্বলতর হয়ে অাসা মোদী-ঢেউ এবং দ্বিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা ভারতের বৃহত্তম অঙ্গরাজ্যটিতে বিজেপির পালের হাওয়া বিপজ্জনকভাবে কেড়ে নিতে পারত। প্রিয়ঙ্কা গান্ধীর উঁচু তারের প্রচার কংগ্রেসের ভোট শেয়ার ৭.৫ থেকে বাড়িয়ে ১২.৫ শতাংশে নিয়ে যেতে পারে। কিন্তু এই বৃদ্ধির সিংহভাগই আসবে এসপি ও বিএসপির যথাক্রমে মুসলিম এবং দলিত ভোটব্যাঙ্কে থাবা বসিয়ে।

এখন যা অবস্থা তাতে, বিএসপি-এসপি-আরএলডি “গঠবন্ধন”-এর ভোট শেয়ার ৪০ শতাংশের আশেপাশে নেমে আসাটাই স্বাভাবিক। নিজেদের মধ্যেকার ভোট কাটাকাটি তাদেরকে এর উপরে উঠতে দেবে না। আর্থিক দিক থেকে পিছিয়ে পড়া উচ্চশ্রেণীর জন্য আনা ১০ শতাংশের কোটা বিজেপির উচ্চবর্ণের ভোট ধরে রাখবে। উত্তর প্রদেশের ভোটারদের ১১ শতাংশ ব্রাহ্মণ। এর সঙ্গে মোদীর বিরাট ওবিসি ভোটব্যাঙ্ক যুক্ত হয়ে বিজেপিকে আবার ৪০ শতাংশ ভোট সহজেই পাইয়ে দেবে বলে মনে হয়। এসপি-বিএসপি-আরএলডি : বিজেপি : কংগ্রেস (অন্যান্য ৭.৫)- ভোটের অনুপাতটা ৪০:৪০:১২.৫ শতাংশ হলে ফলাফল খুব অদ্ভুত সমীকরণের জন্ম দিতে পারে। তার উপর, ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ভোটের গতি খুব অনিশ্চিত হয়ে দাঁড়ায়। যেমন, এসপির মুসলিম ও যাদব ভোট কি যে ৩৮টি আসনে বিএসপি লড়ছে সেই আসনগুলোতে বিএসপির বাক্সে চলে যাবে? একইভাবে, বিএসপির দলিত ভোট কি ৩৭টি আসনে এসপির ঝুলিতে ঝাঁপ দেবে? নাকি এর মধ্যে কিছু কংগ্রেস আর কিছু বিজেপির বাক্সেও যাত্রা করবে? আবার, বিএসপি এবং এসপির মধ্যে যাঁরা ৪০-এর উপর আসন দাবি করেন নিজেদের দলের জন্য, তাঁদের আসন সমঝোতার ব্যাপারে কী প্রতিক্রিয়া দেখতে চলেছে রাজ্য? শিবপাল যাদব কী করবেন? মুলায়ম সিং যাদবের মোদীকেই আবার প্রধানমন্ত্রী দেখতে চাওয়াটাই বা এসপির ক্যাডারদের মনে কী প্রভাব শেষ পর্যন্ত ফেলতে চলেছে? এছাড়াও, আরও বেশ কিছু ব্যাপার কাজ করবে।

রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস) তাঁদের রামমন্দির আন্দোলন ২০১৯-এর নির্বাচন পর্ব মেটা পর্যন্ত স্থগিত রেখেছেন। তাঁরা বলছেন, তাঁরা মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাস সম্বন্ধীয় একটি ব্যাপারকে রাজনৈতিক রং দিতে চান না। অথচ, দশকের পর দশক ধরে তাঁরা কিন্তু সে-কাজটাই করে এসেছেন। তৎসত্ত্বেও, উচ্চতম ন্যায়ালয় খুব তাড়াতাড়িই অযোধ্যা মামলার শুনানির ব্যবস্থার পাশাপাশি, রাম জন্মভূমির জমির অ-বিতর্কিত ৬৭ একর তাদের আসল মালিকদেরকে ফিরিয়ে দেয়া সংক্রান্ত একটি পুরনো কোর্ট অর্ডারকে স্থগিত করতে চেয়ে সরকারের করা একটি আবেদনও বিবেচনা করতে সম্মত হয়েছেন। এখন, সুপ্রিম কোর্টে একই সঙ্গে হতে চলা এসব শুনানির ফলাফল যাই হোক না কেন, রামমন্দির উনিশের ও এক তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। উত্তর প্রদেশে মোদীর কার্ড “বিকাশ” হলেও যোগী সম্ভবত হিন্দুত্বের আবেগকেই পুঁজি করতে চলেছেন। উত্তর প্রদেশের ৮০টি লোকসভা আসনের খুব সম্ভব ৩৫টি বিজেপি জিততে চলেছে গঠবন্ধন ও কংগ্রেসের সঙ্গে ঘটতে চলা ত্রিমুখী যুদ্ধের কারণে। উত্তর প্রদেশের পরেই দ্বিতীয় যে রাজ্য মোদীর ভাগ্যনির্ধারণে বড় ভূমিকা পালন করতে পারে তা হল মহারাষ্ট্র। একসঙ্গে লড়ে বিজেপি-শিবসেনা রাজ্যের ৪৮ টি আসন ভাসিয়ে নিয়ে যেতে পারে। যে পঁচিশটিতে বিজেপি লড়ছে (শিবসেনা লড়ছে বাকি ২৩টিতে) সেগুলোর ২৪টি পর্যন্ত বিজেপি সম্ভবত জিততে চলেছে। সেক্ষেত্রে এই দুই রাজ্যে বিজেপির জেতা আসনের সংখ্যা হতে চলেছে ৫৯ (মোট ১২০টি আসনের মধ্যে)। এবার উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নিতে চলা আরও নয়টি রাজ্যের দিকে তাকানো যাক। প্রথমে তাকাব উত্তর, পশ্চিম এবং মধ্য ভারতের গুজরাট, রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিশগড় এবং হরিয়ানার দিকে। এই রাজ্যগুলো মোট ১০১ জন সাংসদকে লোকসভায় পাঠায়। ২০১৪য় বিজেপি এই পাঁচ রাজ্যে অভূতপূর্ব সাফল্য পেয়ে ছিল। ১০১এ ৯৫! ১৯-এ তারা রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ এবং ছত্তিশগড়ে ২০-টার মত আসন হারাতে পারে। যদিও, গুজরাট আর হরিয়ানাতে ক্ষতির পরিমাণ ৩ থেকে ৫ আসনের বেশি হবে না বলেই মনে হয়। অতএব উত্তর, পশ্চিম, এবং মধ্য ভারতের এই পাঁচ রাজ্যে বিজেপির মোট লোকসান হতে চলেছে মোটামুটি ২৫ আসনের। এর ফলে উনিশে এই অতি গুরুত্বপূর্ণ পাঁচ রাজ্যে তাদের ফলাফল হতে চলেছে ১০১ এ ৭০। এবার পূর্বদিক। বিহার, ওড়িশা, পশ্চিমবঙ্গ ও ঝাড়খণ্ড। মোট লোকসভা আসন ১১৭। ২০১৪-এ এই চার রাজ্যে বিজেপি জয়লাভ করেছিল মাত্র ৩৭টি আসনে। তার সিংহ ভাগই এসেছিল বিহার (২২) ও ঝাড়খণ্ড (১২) থেকে। কিন্তু উনিশে জনতা দল ইউনাইটেড (জেডিইউ)-এর মতো অনির্ভরযোগ্য জোটসঙ্গীর সঙ্গে প্রতিকূল আসন সমঝোতার সূত্র এবং ঝাড়খণ্ডে কংগ্রেস-ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চার (জেএমএম) সম্মিলিত শক্তির সামনে ভাজপা দশটার কাছাকাছি আসন হারাতে পারে এই দুই রাজ্যে। কিন্তু, ভাজপার পক্ষে আশার কথা হলো, এই ক্ষতি তারা সম্পূর্ণ পূরণ করে নিতে পারে ওড়িশা এবং পশ্চিমবঙ্গ থেকে। সেকারণেই মোদী এই দুই রাজ্যে এবার বেশি করে প্রচারাভিযান চালাচ্ছেন। বাম-কংগ্রেসের আসন সমঝোতা হলে বিজেপিকে রীতিমত বেগ দিতে পারত পশ্চিমবঙ্গে। কিন্তু তা তো আর হল না। এখন টিএমসি, কংগ্রেস ও বামেদের সঙ্গে চতুর্মুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজেপির লাভবান হওয়ারই সম্ভাবনা।

ল নির্ধারণ করতে চলেছে সে দুটি হল উত্তর প্রদেশ এবং মহারাষ্ট্র। এই দুই রাজ্য লোকসভায় ১২০জন সাংসদ পাঠায়। উত্তরপ্রদেশে সমাজবাদী পার্টি, বহুজন সমাজ পার্টি ও কংগ্রেসের জোট মোট ভোটের পঞ্চাশ শতাংশ জিতে নিতে পারত যদি বসপা নেত্রী মায়াবতী কংগ্রেসকে অচ্ছুৎ বানিয়ে জোটের বাইরে রেখে দেওয়ার জেদটা ছাড়তেন। সেক্ষেত্রে বিজেপি হয় তো ২০র বেশি আসন পেত না এই রাজ্য থেকে এবং, এই ঘটনাই মোদীর দ্বিতীয়বারের জন্য প্রধানমন্ত্রী হওয়া আটকে দিত। কিন্তু অজান্তেই মায়াবতী তাঁকে পুনর্জীবন উপহার দিয়ে ফেলেছেন। তাঁর সৌজন্যে যেটা উত্তর প্রদেশে বিজেপি বনাম বিএসপি-এসপি-কংগ্রেস দ্বিমুখী লড়াই হতে পারত তা হতে চলেছে একটি ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা। একারণেই রাজনৈতিক ধুরন্ধর প্রিয়ঙ্কা গান্ধী ভদ্রা চেয়েছিলেন বিএসপি-এসপি-রাষ্ট্রীয় লোকদল জোটে কংগ্রেস যোগ দিক। কিন্তু, ২০২২এ রাজ্যে কংগ্রেসের সর্বসমক্ষে ঘোষিত সরকার গঠনের পরিকল্পনায় এবং জোট-বাধ্যবাধকতায় উচ্চাশার তুলনায় কম আসনে লড়তে হতে পারে এই আশঙ্কায় সেই সম্ভাবনা সম্পর্কে সম্পূর্ণ শীতল থেকেছেন। বিএসপি-এসপি জোটকে আরও অসম্ভব করে তুলেছে উত্তরপ্রদেশের দায়িত্ব প্রাপ্ত কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে প্রিয়ঙ্কা ভদ্রার রাজনীতিতে প্রবেশ। বিভিন্ন সমীক্ষায় এই ইঙ্গিত স্পষ্ট যে, তাঁর রাজনৈতিক অভিষেক বিজেপির ভোটের চাইতে অনেক বেশি গ্রাস করবে বিএসপি এবং এসপির ভোট। ফলে, প্রিয়ঙ্কা ভদ্রার এই ঢাকঢোল পেটানো অভিষেক বিএসপি-এসপি ঝড়ের পথে কংগ্রেসকে প্রধান এবং সম্ভবত একমাত্র বাধা করে তুলবে । ২০১৪-র লোকসভা নির্বাচনে উত্তর প্রদেশে বিজেপির ভোট শেয়ার ছিল ৪২.৬৩ শতাংশ। এসপি পেয়েছিল ২২.৩৫ শতাংশ, বিএসপি ও কংগ্রেস যথাক্রমে ১৯.৭৭ এবং ৭.৫৩ শতাংশ। অন্যান্যরা পেয়ে ছিল ৭.৭২ শতাংশ। অর্থাৎ দেখা যাচ্ছে ৪৩ শতাংশেরও কম ভোট শেয়ার নিয়েও বিজেপি যে রাজ্যে ৮০-টার মধ্যে ৭১-টাই জিতে নিতে পেরেছিল তা একারণেই যে, ‘১৪র নির্বাচনে মোদী ঝড়ের পাশাপাশি বিরোধীদের মধ্যেকার প্রতিযোগিতা বা অনৈক্যও বিজেপির অনুকূলে প্রবল ভাবে কাজ করেছিল। ২০১৯এর পাটিগণিত এবং রসায়ন, দুটোই ‘১৪র থেকে অনেকটাই অন্যরকম। তুলনামূলকভাবে দুর্বলতর হয়ে অাসা মোদী-ঢেউ এবং দ্বিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা ভারতের বৃহত্তম অঙ্গরাজ্যটিতে বিজেপির পালের হাওয়া বিপজ্জনকভাবে কেড়ে নিতে পারত। প্রিয়ঙ্কা গান্ধীর উঁচু তারের প্রচার কংগ্রেসের ভোট শেয়ার ৭.৫ থেকে বাড়িয়ে ১২.৫ শতাংশে নিয়ে যেতে পারে। কিন্তু এই বৃদ্ধির সিংহভাগই আসবে এসপি ও বিএসপির যথাক্রমে মুসলিম এবং দলিত ভোটব্যাঙ্কে থাবা বসিয়ে। এখন যা অবস্থা তাতে, বিএসপি-এসপি-আরএলডি “গঠবন্ধন”-এর ভোট শেয়ার ৪০ শতাংশের আশেপাশে নেমে আসাটাই স্বাভাবিক। নিজেদের মধ্যেকার ভোট কাটাকাটি তাদেরকে এর উপরে উঠতে দেবে না। আর্থিক দিক থেকে পিছিয়ে পড়া উচ্চশ্রেণীর জন্য আনা ১০ শতাংশের কোটা বিজেপির উচ্চবর্ণের ভোট ধরে রাখবে। উত্তর প্রদেশের ভোটারদের ১১ শতাংশ ব্রাহ্মণ। এর সঙ্গে মোদীর বিরাট ওবিসি ভোটব্যাঙ্ক যুক্ত হয়ে বিজেপিকে আবার ৪০ শতাংশ ভোট সহজেই পাইয়ে দেবে বলে মনে হয়। এসপি-বিএসপি-আরএলডি : বিজেপি : কংগ্রেস (অন্যান্য ৭.৫)- ভোটের অনুপাতটা ৪০:৪০:১২.৫ শতাংশ হলে ফলাফল খুব অদ্ভুত সমীকরণের জন্ম দিতে পারে। তার উপর, ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ভোটের গতি খুব অনিশ্চিত হয়ে দাঁড়ায়। যেমন, এসপির মুসলিম ও যাদব ভোট কি যে ৩৮টি আসনে বিএসপি লড়ছে সেই আসনগুলোতে বিএসপির বাক্সে চলে যাবে? একইভাবে, বিএসপির দলিত ভোট কি ৩৭টি আসনে এসপির ঝুলিতে ঝাঁপ দেবে? নাকি এর মধ্যে কিছু কংগ্রেস আর কিছু বিজেপির বাক্সেও যাত্রা করবে?

আবার, বিএসপি এবং এসপির মধ্যে যাঁরা ৪০-এর উপর আসন দাবি করেন নিজেদের দলের জন্য, তাঁদের আসন সমঝোতার ব্যাপারে কী প্রতিক্রিয়া দেখতে চলেছে রাজ্য? শিবপাল যাদব কী করবেন? মুলায়ম সিং যাদবের মোদীকেই আবার প্রধানমন্ত্রী দেখতে চাওয়াটাই বা এসপির ক্যাডারদের মনে কী প্রভাব শেষ পর্যন্ত ফেলতে চলেছে? এছাড়াও, আরও বেশ কিছু ব্যাপার কাজ করবে। রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস) তাঁদের রামমন্দির আন্দোলন ২০১৯-এর নির্বাচন পর্ব মেটা পর্যন্ত স্থগিত রেখেছেন। তাঁরা বলছেন, তাঁরা মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাস সম্বন্ধীয় একটি ব্যাপারকে রাজনৈতিক রং দিতে চান না। অথচ, দশকের পর দশক ধরে তাঁরা কিন্তু সে-কাজটাই করে এসেছেন। তৎসত্ত্বেও, উচ্চতম ন্যায়ালয় খুব তাড়াতাড়িই অযোধ্যা মামলার শুনানির ব্যবস্থার পাশাপাশি, রাম জন্মভূমির জমির অ-বিতর্কিত ৬৭ একর তাদের আসল মালিকদেরকে ফিরিয়ে দেয়া সংক্রান্ত একটি পুরনো কোর্ট অর্ডারকে স্থগিত করতে চেয়ে সরকারের করা একটি আবেদনও বিবেচনা করতে সম্মত হয়েছেন। এখন, সুপ্রিম কোর্টে একই সঙ্গে হতে চলা এসব শুনানির ফলাফল যাই হোক না কেন, রামমন্দির উনিশের ও এক তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। উত্তর প্রদেশে মোদীর কার্ড “বিকাশ” হলেও যোগী সম্ভবত হিন্দুত্বের আবেগকেই পুঁজি করতে চলেছেন। উত্তর প্রদেশের ৮০টি লোকসভা আসনের খুব সম্ভব ৩৫টি বিজেপি জিততে চলেছে গঠবন্ধন ও কংগ্রেসের সঙ্গে ঘটতে চলা ত্রিমুখী যুদ্ধের কারণে। উত্তর প্রদেশের পরেই দ্বিতীয় যে রাজ্য মোদীর ভাগ্যনির্ধারণে বড় ভূমিকা পালন করতে পারে তা হল মহারাষ্ট্র। একসঙ্গে লড়ে বিজেপি-শিবসেনা রাজ্যের ৪৮ টি আসন ভাসিয়ে নিয়ে যেতে পারে। যে পঁচিশটিতে বিজেপি লড়ছে (শিবসেনা লড়ছে বাকি ২৩টিতে) সেগুলোর ২৪টি পর্যন্ত বিজেপি সম্ভবত জিততে চলেছে। সেক্ষেত্রে এই দুই রাজ্যে বিজেপির জেতা আসনের সংখ্যা হতে চলেছে ৫৯ (মোট ১২০টি আসনের মধ্যে)। এবার উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নিতে চলা আরও নয়টি রাজ্যের দিকে তাকানো যাক। প্রথমে তাকাব উত্তর, পশ্চিম এবং মধ্য ভারতের গুজরাট, রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিশগড় এবং হরিয়ানার দিকে। এই রাজ্যগুলো মোট ১০১ জন সাংসদকে লোকসভায় পাঠায়। ২০১৪য় বিজেপি এই পাঁচ রাজ্যে অভূতপূর্ব সাফল্য পেয়ে ছিল। ১০১এ ৯৫! ১৯-এ তারা রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ এবং ছত্তিশগড়ে ২০-টার মত আসন হারাতে পারে। যদিও, গুজরাট আর হরিয়ানাতে ক্ষতির পরিমাণ ৩ থেকে ৫ আসনের বেশি হবে না বলেই মনে হয়। অতএব উত্তর, পশ্চিম, এবং মধ্য ভারতের এই পাঁচ রাজ্যে বিজেপির মোট লোকসান হতে চলেছে মোটামুটি ২৫ আসনের। এর ফলে উনিশে এই অতি গুরুত্বপূর্ণ পাঁচ রাজ্যে তাদের ফলাফল হতে চলেছে ১০১ এ ৭০। এবার পূর্বদিক। বিহার, ওড়িশা, পশ্চিমবঙ্গ ও ঝাড়খণ্ড। মোট লোকসভা আসন ১১৭। ২০১৪-এ এই চার রাজ্যে বিজেপি জয়লাভ করেছিল মাত্র ৩৭টি আসনে। তার সিংহ ভাগই এসেছিল বিহার (২২) ও ঝাড়খণ্ড (১২) থেকে। কিন্তু উনিশে জনতা দল ইউনাইটেড (জেডিইউ)-এর মতো অনির্ভরযোগ্য জোটসঙ্গীর সঙ্গে প্রতিকূল আসন সমঝোতার সূত্র এবং ঝাড়খণ্ডে কংগ্রেস-ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চার (জেএমএম) সম্মিলিত শক্তির সামনে ভাজপা দশটার কাছাকাছি আসন হারাতে পারে এই দুই রাজ্যে। কিন্তু, ভাজপার পক্ষে আশার কথা হলো, এই ক্ষতি তারা সম্পূর্ণ পূরণ করে নিতে পারে ওড়িশা এবং পশ্চিমবঙ্গ থেকে। সেকারণেই মোদী এই দুই রাজ্যে এবার বেশি করে প্রচারাভিযান চালাচ্ছেন। বাম-কংগ্রেসের আসন সমঝোতা হলে বিজেপিকে রীতিমত বেগ দিতে পারত পশ্চিমবঙ্গে। কিন্তু তা তো আর হল না। এখন টিএমসি, কংগ্রেস ও বামেদের সঙ্গে চতুর্মুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজেপির লাভবান হওয়ারই সম্ভাবনা।

এখন পর্যন্ত তবে ব্যাপারটা কী দাঁড়াল দেখা যাক। উত্তর প্রদেশ ও মহারাষ্ট্র মিলে বিজেপির আসন সংখ্যা সম্ভবত হতে চলেছে ৫৯। উত্তর, পশ্চিম এবং মধ্য ভারতের বাকি পাঁচ গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যে ১০১-এর মধ্যে তারা ৭০-টা আসন পেতে পারে। পূর্বের চার রাজ্যে সংখ্যাটা হতে পারে ১১৭-এ ৩৯। বিহার-ঝাড়খণ্ডের ক্ষতি বাংলা এবং ওড়িশা পুষিয়ে দিতে পারে। তাহলে দেখা যাচ্ছে, ১১টি গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যে সংখ্যাটা দাঁড়াবে ৫৯ (উ. প. আর মহারাষ্ট্র) + ৭০ (রাজস্থান, ম. প্র. , ছত্তিশগড়, হরিয়ানা) + ৩৯ (উড়িষ্যা, পশ্চিমবঙ্গ, ঝাড়খণ্ড, বিহার) = ১৬৮ (মোট ৩৩৮ আসনের মধ্যে)। বাকি ১৮ রাজ্যে এবং সাত কেন্দ্র শাসিত অঞ্চলে তবে কী হবে? বিজেপি উত্তরাখণ্ডে (৫ এ ৫), হিমাচল প্রদেশে (৩-৪), দিল্লিতে (ছয় থেকে সাত, আপ এবং কংগ্রেস আলাদা লড়লে), উত্তর-পূর্বের সাত রাজ্য এবং সিকিমে (২৫-এ ১৫, নাগরিকত্ব বিলের ব্যাপারটা মাথায় রাখলে) ভালই ফল করবে। সুতরাং এই সব জায়গার ৪১ আসনে বিজেপির প্রাপ্তি ঘটবে ২৯। তাহলে এ পর্যন্ত বিজেপির সর্বমোট আসন দাঁড়াচ্ছে ৩৭৯ তে ১৯৭। এবার দক্ষিণ। দক্ষিণে কিন্তু একমাত্র কর্ণাটক ছাড়া আর কোথাও বিজেপির খুব ভাল ফলের আশা চোখে পড়ছে না। পাঁচ দক্ষিণী রাজ্য মোট ১৩৯ জন সাংসদকে নির্বাচিত করে। কর্ণাটকে বিজেপির ২৮-এ ১৫ পাওয়ার সম্ভাবনা। সেখানে জনতা দল (সেক্যুলার) আর কংগ্রেসের দুর্বল জোট বিজেপির সুবিধে করে দেবে। কিন্তু, কেরল, অন্ধ্র, তেলেঙ্গানা এবং তামিলনাড়ুর মধ্যে রাজ্যপিছু দু’ একটা আসনেই তাদের সন্তুষ্ট থাকতে হবে। তাহলে দক্ষিণে বিজেপি সর্বমোট ১২৯ এ ২০। তাহলে এতক্ষণ করা বিশ্লেষণের ভিত্তিতে, বিজেপি একা ৫০৮এ ২১৭ পাচ্ছে। পাঞ্জাবে তারা শূন্য পেলেও গোয়া, জম্মু-কাশ্মীর, এবং সাত কেন্দ্র শাসিত অঞ্চল থেকে মোটামুটি গোটা আটেক আসন পেতে পারে। তবে সর্বমোট দাঁড়াল ৫৪৩-এ ২২৫।

এবার তবে দেখা যাক তার জোট সঙ্গীদের কী খবর! বিজেপির দুই বড় সঙ্গী জে ডি ইউ আর শিবসেনা। দুই ছোট সঙ্গী: নিখিল ভারত দ্রাবিড় মুন্নেত্রা কাঝাগম (এআইএডিএমকে) এবং লোক জনশক্তি পার্টি (এলজেপি)। আকালি দলকে ধরা হল না তার কারণ তারা সম্ভবতঃ মুছে যাবে পাঞ্জাব থেকে। এই চার দল খুব বেশি হলে সব মিলে ৩৫টা আসন পাবে।

সেক্ষেত্রে এনডিএ সর্বমোট পাচ্ছে ২২৫+৩৫=২৬০।

এবার ফিরে আসব বিমানহানার কথায়। উত্তর, মধ্য ও পশ্চিম ভারতের এগারটি বৃহৎ অঙ্গরাজ্যে এই ঘটনা বিজেপিকে ২৫ থেকে ৪০টি আসন পাইয়ে দিতে পারে। বিমান হানা-উত্তর গণিত দাঁড়াচ্ছে এরকম: বিজেপি ২৫০-২৬৫ + এনডিএ-সঙ্গীরা ৩৫= ২৮৫-৩০০।

এদিকে কংগ্রেসের সামনে প্রথম বড় কাজ ২০১৪র লজ্জাজনক ৪৪ থেকে অন্তত ১২৫ আসনে উঠে আসা যদি রাহুল গান্ধীকে সত্যি সত্যি ১৯-এ কোনও “মহাগঠবন্ধন” সরকারের নেতৃত্বে আসতে হয়। কংগ্রেসের মূল ভোট ধরার জায়গা এবার হল কর্ণাটক, রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিশগড়, কেরল এবং পাঞ্জাব। এই ছয় রাজ্যে খুব বেশি হলে তারা ৫৫-৬০ আসন পেতে পারে। বাকি তিন গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য উত্তরপ্রদেশ, বিহার এবং মহারাষ্ট্রে কংগ্রেসের আশা খুবই ক্ষীণ। ফলে, কংগ্রেস হয়ত ৮৫-৯০ আসনেই থেমে যাবে।‌
নিজেদের প্রধান সঙ্গী যথা দ্রাবিড় মুন্নেত্রা কাঝাগম (ডিএমকে), জেডি(এস), ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টি এবং ন্যাশনাল কনফারেন্সকে নিয়ে ইউপিএ ১২৫-৩০ ছুঁতে পারে খুব বেশি হলে।

তাহলে বহুচর্চিত সেই “মহাগঠবন্ধন”-এর কী হতে চলেছে? টিএমসি, এসপি, বিএসপি, তেলুগু দেশম পার্টি, আপ এবং বামেরা হয় তো সম্মিলিত ভাবে ৯০টি আসন পাবে। অর্থাৎ শেষাবধি ইউপিএর কপালে ২১০-২১৫ টি আসন জুটতে পারে খুব বেশি হলে।

বিজু জনতা দল, তেলেঙ্গানা রাষ্ট্র সমিতি, এবং ওয়াইএসআর কংগ্রেস পার্টির তথাকথিত তৃতীয় ফ্রন্ট, আগেই দেখান হয়েছে, ৩৬-৪০টি আসন খুব জোর পেতে পারে। ইউপিএ নেতৃত্বাধীন “মহাগঠবন্ধন”কে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে তৃতীয় ফ্রন্টের তিন প্রধান দলের তো বটেই, এমন কি নির্দল এবং অন্যান্যদের কাছ থেকেও আসন ধার করতে হবে অন্ততঃ ৭০টি। ব্যাপারটা খুব সহজ হবে না।

সবশেষে এই সিদ্ধান্তে আসাই যায় যে, ২০১৯-এর নির্বাচন হতে চলেছে দ্বিতীয় মোদী ঢেউয়ের নির্বাচন।

মিনহাজ মার্চেন্ট (অনুবাদ : চম্পকদ্যুতি মজুমদার)

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.