এশিয়ান গেমসে ৮৫টি পদকজয়ী ভারতীয় ক্রীড়াবিদদের সঙ্গে দেখা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লির মেজর ধ্যানচাঁদ স্টেডিয়ামে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে পদকজয়ীদের অভিনন্দন জানান তিনি। দেশের ক্রীড়াক্ষেত্রে তাঁদের অবদানের প্রশংসা করে মোদী বলেন, ভারতীয় ক্রীড়াবিদরা ১৪০ কোটি দেশবাসীকে গর্বিত করেছেন। একই সঙ্গে ২০৩৬ সালের অলিম্পিক্স আয়োজনের জন্য ভারতের আগ্রহের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহ-সহ বিভিন্ন ক্রীড়াসংস্থার শীর্ষকর্তারা। পদকজয়ী ক্রীড়াবিদদের সঙ্গে ছবি তোলেন মোদী। তাঁদের অনেকেই প্রধানমন্ত্রীর হাতে বিভিন্ন স্মারক তুলে দেন। মহিলা দলের প্রাক্তন অধিনায়ক হরমনপ্রীত কৌর ভারতীয় দলের একটি জার্সি তুলে দেন তাঁর হাতে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বর্তমান অধিনায়ক স্মৃতি মন্ধানাও।
মোদী বলেন, “আপনারা ১৪০ কোটি ভারতীয়কে গর্বিত করেছেন। তেরঙা ওড়ানোই সবচেয়ে বড় সাফল্য। তাই এই সাফল্য শুধু আপনাদের একার নয়, দেশের কোটি কোটি মানুষেরও। গোটা দেশের পক্ষ থেকে তোমাদের ধন্যবাদ।” আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজনের ক্ষেত্রে ভারত ক্রমশ একটি নির্ভরযোগ্য ও আতিথেয়তাপূর্ণ দেশ হয়ে উঠছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর কথায়, ২০৩৬ সালের অলিম্পিক্স আয়োজনের জন্য ভারত বিড করছে এবং সেই দায়িত্ব পেতে মরিয়া।
মহিলা ক্রীড়াবিদদের বিশেষ প্রশংসা
এশিয়ান গেমসে মহিলা ক্রীড়াবিদদের সাফল্যের কথা আলাদা করে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ভারতীয় মহিলা ক্রীড়াবিদরা মোট ৩৮টি পদক জিতেছেন, যার মধ্যে ১১টি সোনা। মহিলা হকি দলের সাফল্যকেও বিশেষ গুরুত্ব দেন তিনি। ৪৪ বছরের খরা কাটিয়ে ভারতীয় মহিলা হকি দলের সোনা জয়কে অত্যন্ত আনন্দের ঘটনা বলে উল্লেখ করেন মোদী।
শুক্রবার রায়পুরে মহিলা দলের ম্যাচ থাকলেও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গোটা দল। হরমনপ্রীত কৌরের নেতৃত্বে এশিয়ান গেমসে সোনা জিতেছিল ভারতীয় মহিলা দল। সেই সাফল্যের স্মারক হিসেবেই প্রধানমন্ত্রীর হাতে দলের জার্সি তুলে দেন হরমনপ্রীত।
এ দিন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভারতীয় ক্রিকেট দলের সদস্যেরাও। বৃহস্পতিবার হায়দরাবাদে ম্যাচ খেলার পরেও অনুষ্ঠানে যোগ দেন শ্রেয়স আয়ার-সহ টি-টোয়েন্টি দলের ক্রিকেটারেরা।
ক্রীড়াক্ষেত্রে বদলেছে ভারতের অবস্থান, দাবি মোদীর
ভারতের ক্রীড়াক্ষেত্রে গত কয়েক বছরে হওয়া পরিবর্তনের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, কোনও স্বপ্ন এক দিনে সফল হয় না। তার জন্য বছরের পর বছর কঠোর পরিশ্রম, নিষ্ঠা এবং দায়বদ্ধতা প্রয়োজন।
মোদী বলেন, “গত ১২ বছরে ভারত ধৈর্য দেখিয়েছে এবং ক্রীড়া বাস্তুতন্ত্র গড়ে তুলতে কঠোর পরিশ্রম করেছে। আগে বড় প্রতিযোগিতায় ভারত হাতেগোনা কয়েকটি পদক জিতত। খুব বেশি খেলায় আমাদের প্রতিনিধিত্বও ছিল না। আমরা সেই নেতিবাচকতা কাটিয়ে উঠেছি। এখন বিশ্বমঞ্চে আমাদের প্রতিনিধিত্ব ক্রমশ বাড়ছে।”
অনুষ্ঠানে গল্ফার প্রণবী উর্স প্রধানমন্ত্রীর হাতে নিজের গ্লাভস এবং একটি গল্ফ বল তুলে দেন। এশিয়ান গেমসে পদকজয়ীদের সঙ্গে এই সাক্ষাৎ দেশের ক্রীড়াক্ষেত্রে অর্জিত সাফল্যকে উদ্যাপনের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক স্তরে আরও বড় প্রতিযোগিতা আয়োজনের বিষয়ে ভারতের উচ্চাকাঙ্ক্ষাকেও সামনে নিয়ে এল।

