ফ্লাইদুবাই বিমান কাণ্ডের পর নড়েচড়ে বসল ইজ়রায়েল। কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই—এমন দেশগুলির পাইলটদের নিজেদের দেশে না পাঠানোর বিষয়ে ইজ়রায়েল যে পুরনো নির্দেশিকা জারি করেছিল, এবার তা অত্যন্ত কঠোরভাবে কার্যকর করা শুরু হয়েছে। শুধু ইজ়রায়েল সরকারই নয়, তাদের এই বিধিনিষেধ মেনে চলতে শুরু করেছে বিশ্বের বিভিন্ন বিদেশি বিমান সংস্থাও। সম্প্রতি ফ্রান্সের বিমান সংস্থা এয়ার ফ্রান্স পাকিস্তান ও বাংলাদেশসহ মোট ৩১টি দেশের পাইলটদের ইজ়রায়েলগামী বিমান পরিচালনা থেকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। এয়ার ফ্রান্স ছাড়াও আমেরিকার ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স এবং চেক প্রজাতন্ত্রের স্মার্টউইংসের মতো বিমান সংস্থাও ইজ়রায়েলের এই নির্দেশিকা মেনে পদক্ষেপ করার কথা জানিয়েছে।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর সংযুক্ত আরব আমিরশাহির বিমান সংস্থা ফ্লাইদুবাইয়ের তেল আভিভগামী একটি বিমানে চাঞ্চল্যকর নাশকতার চেষ্টা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। বিমানটির ওমানের নাগরিক সহকারী পাইলট হামাম আল-হাম্মামি ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরের ওপর ককপিটের মধ্যেই ছুরি নিয়ে হামলা চালান। তদন্তে জানা যায়, ক্যাপ্টেনকে হত্যা করে বিমানটি তেল আভিভ বিমানবন্দরের অন্য কোনো বিমান বা কোনো গগনচুম্বী ইমারতের সঙ্গে ধাক্কা দিয়ে ধ্বংস করার পরিকল্পনা ছিল তাঁর। যদিও সেই ষড়যন্ত্র সফল হয়নি এবং অভিযুক্ত পাইলট বর্তমানে তদন্তকারীদের হেফাজতে রয়েছেন। এই ঘটনার পরই বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকার কূটনৈতিক বন্ধুত্বহীন রাষ্ট্রগুলির পাইলটদের ইজ়রায়েল আকাশসীমায় না পাঠানোর পুরনো নিয়মটিকে নতুন করে কঠোরভাবে বলবৎ করতে তৎপর হয়।
এয়ার ফ্রান্সের নিষিদ্ধ তালিকার অন্তর্ভুক্ত ৩১টি দেশের মধ্যে পাকিস্তান ও বাংলাদেশ ছাড়াও রয়েছে আফগানিস্তান, আলজিরিয়া, সৌদি আরব, ব্রুনেই, কলম্বিয়া, উত্তর কোরিয়া, কোমোরোস, কিউবা, জিবুতি, ইন্দোনেশিয়া, ইরাক, ইরান, কুয়েত, লেবানন, লিবিয়া, মালয়েশিয়া, মলদ্বীপ, মালি, মরিটানিয়া, নিকারাগুয়া, নাইজার, ওমান, কাতার, সোমালিয়া, সুদান, সিরিয়া, টিউনিশিয়া, ভেনেজুয়েলা এবং ইয়েমেন। অন্যদিকে, ইউনাইটেড এয়ারলাইন্সের তালিকায় ২৯টি দেশের নাম রয়েছে। স্মার্টউইংস এই নিয়ম মেনে চলার ঘোষণা করলেও এখনও পর্যন্ত তাদের ফ্লাইটের সময়সূচিতে কোনো পরিবর্তন করতে হয়নি।
এর আগে এই ধরনের নির্দেশিকা থাকলেও তা নিয়মিত নজরদারি বা কঠোরভাবে মানা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে ইজ়রায়েলের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা ‘শিন বেট’ ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছিল। এমনকি দেশের পরিবহন মন্ত্রকও তাদের গাফিলতির কথা স্বীকার করেছে। ফ্লাইদুবাই ঘটনার পর গত মঙ্গলবার ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্সের বিরুদ্ধে প্রথম কঠোর পদক্ষেপ করে ইজ়রায়েল। যে বিমানের পাইলট ছিলেন ইন্দোনেশিয়ার নাগরিক (যে দেশের সঙ্গে ইজ়রায়েলের কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই), সেই বিমানটি উড়ান শুরু করার পরই তেল আভিভের তরফে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয় যে ওই পাইলটকে গ্রহণ করা হবে না। এরপর বিমানটি বাধ্য হয়ে ইথিওপিয়ায় ফিরে যায় এবং পাইলট পরিবর্তন করার পরেই তা পুনরায় তেল আভিভের উদ্দেশে রওনা দেয়।

