ইয়ানিক সিনারকে সরিয়ে এটিপি ক্রমতালিকায় বিশ্বের এক নম্বর টেনিস খেলোয়াড় হলেন আলেকজান্ডার জ্বেরেব। বরিস বেকারের পর ৩৫ বছর বাদে জার্মানির কোনও খেলোয়াড় এই কৃতিত্ব অর্জন করলেন। ২৯ বছরের জ্বেরেবের সামনে এ বার বিশ্বের এক নম্বর খেলোয়াড় হিসেবে বছর শেষ করারও সুযোগ রয়েছে।
সাংহাই মাস্টার্সের তৃতীয় রাউন্ডে কার্লোস আলকারাজ়ের হার জ্বেরেবের শীর্ষে ওঠা নিশ্চিত করে দিয়েছে। গত উইম্বলডনের পর থেকে হাঁটুর চোটে ভুগছেন সিনার। অন্য দিকে, আলকারাজ়ও প্রত্যাশিত ছন্দে ছিলেন না। দুই তারকার চোট ও ফর্মের ওঠানামার সুযোগ কাজে লাগিয়ে ক্রমতালিকার শীর্ষে উঠে এলেন জার্মান খেলোয়াড়।
১৯৯১ সালে শেষ বার বিশ্বের এক নম্বর হয়েছিলেন বেকার। সেই ঘটনার ৩৫ বছর পর ফের জার্মানির কোনও টেনিস খেলোয়াড় এই জায়গায় পৌঁছলেন। ২০২৪ সালে বিশ্বের দু’নম্বর খেলোয়াড় হিসেবে বছর শেষ করেছিলেন জ্বেরেব। এ বার তাঁর সামনে শীর্ষে থেকে মরসুম শেষ করার সুযোগ রয়েছে।
২০২৬ সালে প্রথম গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ের স্বাদ পেয়েছেন জ্বেরেব। ফরাসি ওপেন ও ইউএস ওপেনের শিরোপা জিতেছেন তিনি। অস্ট্রেলিয়ান ওপেনেও সেমিফাইনালে উঠেছিলেন। এ ছাড়াও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতায় সাফল্য পেয়েছেন জার্মান তারকা। গ্র্যান্ড স্ল্যামে এ বছর তাঁর জয়-হারের পরিসংখ্যান ২৫-২। যদিও চিন ওপেনের কোয়ার্টার ফাইনালে নোভাক জোকোভিচের কাছে হারতে হয়েছিল তাঁকে।
চোটের কারণে বছরের একটা বড় অংশ কোর্টের বাইরে কাটাতে হয়েছে আলকারাজ় ও সিনারকে। ফলে তাঁদের র্যাঙ্কিং পয়েন্ট কমেছে। অন্য দিকে, জ্বেরেবের পয়েন্ট বেড়েছে। সাংহাই মাস্টার্সের প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে তাঁর প্রতিপক্ষ আলেকজান্ডার বুবলিক। সেই ম্যাচে হারলেও ক্রমতালিকার শীর্ষস্থান ধরে রাখবেন জ্বেরেব।
১৯৯১ সালে বেকার দু’দফায় বিশ্বের এক নম্বর হয়েছিলেন। সব মিলিয়ে ১২ সপ্তাহ শীর্ষস্থান ধরে রেখেছিলেন তিনি। বর্তমানে খেলা চালিয়ে যাওয়া টেনিস খেলোয়াড়দের মধ্যে জোকোভিচ, আলকারাজ় ও সিনার—এই তিন জন বিশ্বের এক নম্বর হিসেবে বছর শেষ করার কৃতিত্ব অর্জন করেছেন। সেই তালিকায় এ বার চতুর্থ খেলোয়াড় হিসেবে জ্বেরেবের নামও যুক্ত হতে পারে।

