বিশিষ্ট অভিনেতা নানা পটেকরের আকস্মিক প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমে এসেছে চলচ্চিত্র জগতে। গোয়ায় নিজের বাসভবনে আচমকা সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়ার পর তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকরা জানান, তিনি ‘কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট’-এর শিকার হয়েছিলেন। হাসপাতালে টানা ৪৫ মিনিট ধরে তাঁকে সি-পি-আর (CPR) দেওয়া হলেও চিকিৎসকদের সমস্ত প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর সাধারণ মানুষের মধ্যে হার্ট অ্যাটাক ও কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের পার্থক্য নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের মতে, হার্ট অ্যাটাক এবং কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট এক ঘটনা নয়। উভয় পরিস্থিতি জীবনঘাতী হলেও এদের ক্রিয়াভিত্তিক পার্থক্য রয়েছে:
- কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট (Cardiac Arrest): এই অবস্থায় হৃৎপিণ্ডের পাম্প করার ক্ষমতা হঠাৎ ও সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে সারা শরীরে এবং মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালন থমকে যায়। মস্তিষ্কে পর্যাপ্ত অক্সিজেন না পৌঁছানোর কারণে রোগী দ্রুত সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়েন এবং শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। লক্ষণ প্রকাশের সুযোগ না দিয়েই কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে রোগী কোমায় চলে যেতে পারেন, যার ফলে চিকিৎসার সময় অত্যন্ত সীমিত হয়ে পড়ে।
- হার্ট অ্যাটাক (Heart Attack): করোনারি ধমনীতে ব্লক বা বাধা সৃষ্টির কারণে হৃৎপেশিতে রক্ত চলাচল বিঘ্নিত হলে হার্ট অ্যাটাক হয়। এই ক্ষেত্রে হৃৎপিণ্ডের কার্যক্ষমতা হ্রাস পেলেও তা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় না। চিকিৎসকদের মতে, হার্ট অ্যাটাকের প্রায় এক মাস আগে থেকেই শরীর কিছু সতর্কতামূলক বার্তা দিতে থাকে; যেমন—বুকে তীব্র বা চাপা ব্যথা, বিনা কারণে বমি ভাব ও অতিরিক্ত ঘাম। সময়মতো হাসপাতালে নিয়ে যেতে পারলে রোগীকে সুস্থ করে তোলা সম্ভব।
চিকিৎসকদের একাংশ জানান, অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন, একাধিক বার হার্ট অ্যাটাকের ইতিহাস, ওষুধের ওভারডোজ কিংবা জিনগত কারণ কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। নানা পটেকরের ক্ষেত্রেও অত্যন্ত দ্রুত পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক হয়ে ওঠায় দীর্ঘক্ষণ সিপিআর প্রয়োগ করেও চিকিৎসকরা তাঁকে ফিরিয়ে আনতে পারেননি।

