রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় শিবিরের নেতা স্নেহাশিস চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে কৃষি সমবায় সমিতিতে প্রভাব খাটিয়ে অনিয়ম করার অভিযোগে তদন্তের গতি বাড়াল দুর্নীতি দমন কমিশন। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুর নেতৃত্বাধীন কমিশন এই আর্থিক দুর্নীতির তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করেছিল। তারই অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার কমিশনের একটি প্রতিনিধিদল হুগলির জাঙ্গিপাড়ার সিংটি কৃষি সমবায় সমিতিতে অভিযান চালায়।
কমিশনের প্রতিনিধিদল প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে সিংটি সমবায় সমিতিতে জিজ্ঞাসাবাদ ও তল্লাশি পরিচালনা করে। সেখান থেকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নথি এবং বিগত পাঁচ বছরের সম্পূর্ণ অডিট রিপোর্ট বাজেয়াপ্ত করে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে তদন্তকারীরা। সমবায়ের বর্তমান দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান অডিট রিপোর্ট সংগ্রহের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। প্রাথমিক তদন্ত শেষে কমিশনের এক আধিকারিক জানান, আর্থিক লেনদেনে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে।
স্নেহাশিস চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে মূল অভিযোগ, কৃষক না হওয়া সত্ত্বেও মন্ত্রী পদে থাকার সময় প্রভাব খাটিয়ে তিনি সমবায় সমিতি থেকে লক্ষ লক্ষ টাকার ঋণ গ্রহণ করেছিলেন। মমতাপন্থী তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ প্রথম এই অনিয়মের কথা প্রকাশ্যে আনেন। অভিযোগ অনুসারে, তিনি নিজের নামে ৮৫ লক্ষ টাকা এবং এক আত্মীয়ের নামে আরও ১০ লক্ষ টাকা ঋণ হিসেবে নেন। আইনত কৃষক ব্যতীত অন্য কারও কৃষি সমবায় থেকে ঋণ নেওয়ার নিয়ম নেই। সেই ক্ষেত্রে কীভাবে এত বিপুল পরিমাণ অর্থ মঞ্জুর করা হলো, তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠেছে।
এই দুর্নীতির তথ্য সামনে আসার পরেই সমবায় সমিতির ম্যানেজার স্বপন পাত্র এবং কর্মী রমেশ পাত্রকে গ্রেফতার করা হয়। জানা গিয়েছে, স্বপন পাত্র প্রাক্তন মন্ত্রী স্নেহাশিসের ঘনিষ্ঠ এবং রসিদপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান। বৃহস্পতিবার কমিশনের দল স্বপন পাত্রের বাড়িতে তল্লাশি চালাতে গেলে সেটি তালাবন্ধ অবস্থায় পায়।
এছাড়া, স্নেহাশিস চক্রবর্তী সিংটি গ্রামের মূল বাসিন্দা না হওয়া সত্ত্বেও জাঙ্গিপাড়ার ২৭৫ নম্বর বুথের ভোটার তালিকায় তাঁর নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা না হয়ে কীভাবে তিনি ভোটার হিসেবে নথিভুক্ত হলেন, কমিশন সে বিষয়েও পৃথকভাবে খতিয়ে দেখবে বলে জানিয়েছে।

