উরুগুয়ের কাছে দলের ৬-১ গোলের বড় ব্যবধানে পরাজয় ঘটলেও ব্যক্তিগত ও দলীয় পারফরম্যান্স নিয়ে হতাশ নন ভারতীয় দলের মিডফিল্ডার অনিরুদ্ধ থাপা। দুই বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলের বিরুদ্ধে ভারতের একমাত্র গোলদাতা মোহনবাগানের এই ফুটবলার জানান, এই গোলটি তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হয়ে থাকবে।
অনন্য উদযাপন ও ব্যক্তিগত প্রাপ্তি ম্যাচ শেষে সঞ্চালক করণ সাহানি ও ভারতের প্রাক্তন জাতীয় ফুটবলার রবিন সিংহের সঙ্গে আলাপে নিজের বিশেষ উদযাপনের পেছনের কারণ খোলসা করেন অনিরুদ্ধ। গোল করার পর জার্সির ভেতরে ফুটবল পুরে উল্লাস প্রকাশ করেছিলেন তিনি। অনিরুদ্ধ জানান, “আমার স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা। সম্প্রতি আমরা এই সুখবর পেয়েছি। সেই বিশেষ মুহূর্তের আনন্দেই এমন উদযাপন। দু’বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলের বিরুদ্ধে করা এই গোলটি সারাজীবন আমার স্মৃতিতে অমলিন হয়ে থাকবে।”
ক্লান্তি ও ইতিবাচক লড়াই ৬টি গোল হজম করলেও ভারতীয় দলের সার্বিক মানসিকতা ও খেলায় ইতিবাচক দিক দেখতে পাচ্ছেন এই মিডফিল্ডার। প্রথমার্ধে উরুগুয়ের গোল লক্ষ্য করে ভারত ১০টি শট নিলেও বিপরীতের দল নিয়েছিল ৭টি শট। তবে দ্বিতীয়ার্ধে ভারতের খেলার ধার কিছুটা কমে আসে।
চার দিনের ব্যবধানে ব্রাজিল ও উরুগুয়ের মতো শক্তিশালী দলের মুখোমুখি হওয়া প্রসঙ্গে অনিরুদ্ধ বলেন, “পরপর দুটি কঠিন ম্যাচ খেলায় শারীরিক ক্লান্তি আসা স্বাভাবিক, তবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এটি অজুহাত হতে পারে না। মরসুমের শুরুতেই এই ম্যাচগুলো হওয়ায় ফুটবলারদের কিছুটা ক্লান্ত মনে হয়েছে। মরসুমের শেষভাগে হলে হয়তো আমরা আরও ভালো লড়াই দিতে পারতাম। তবে পরাজয় সত্ত্বেও আমরা রক্ষণাত্মক মনোভাব না দেখিয়ে আক্রমণের পথ বেছে নিয়েছিলাম। শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়াটাই আমাদের বড় প্রাপ্তি।”
উরুগুয়ের থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা ও পরবর্তী লক্ষ্য বিশ্বমানের এই প্রতিপক্ষের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা পেয়েছেন বলে জানান অনিরুদ্ধ। তাঁর কথায়, “উরুগুয়ে আমাদের শিখিয়ে গেল কীভাবে ফুটবলের গতি নিয়ন্ত্রণ করতে হয় এবং প্রতিপক্ষের সামান্য ভুলকে সুযোগে রূপান্তর করতে হয়। আমাদের সামান্য অসতর্কতার সুযোগ নিয়েই ওরা গোল বের করে নিয়েছে।”
জাতীয় দলের হয়ে আন্তর্জাতিক সফর শেষে এবার ঘরোয়া ফুটবলে ফিরছেন অনিরুদ্ধ। সামনেই ইন্ডিয়ান সুপার লিগ (আইএসএল)। গত মরসুমে সামান্য গোলপার্থক্যে লিগ-শিল্ড হাতছাড়া হয়েছিল মোহনবাগানের। এবার উরুগুয়ে ম্যাচের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে সবুজ-মেরুনকে চ্যাম্পিয়ন করাই তাঁর মূল লক্ষ্য।

