সাংসদ মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়েরের সুপারিশ জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশনের; রাজ্যকে কড়া বার্তা

সাংসদ মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়েরের সুপারিশ জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশনের; রাজ্যকে কড়া বার্তা

তথ্য বিভ্রান্তি ছড়িয়ে কমিশনকে পথভ্রষ্ট করার অভিযোগ এবং রাজনৈতিক স্বার্থে বিভ্রান্তিকর দাবি পেশ করায় কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করার লিখিত সুপারিশ জানাল জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশন (এনসিএম)। রাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিব সংঘমিত্রা ঘোষ এবং রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্তের সঙ্গে মঙ্গলবার এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে কমিশনের তরফে এই নজিরবিহীন নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।

অভিযোগ ও বিতর্কিত পোস্ট ঘটনার সূত্রপাত গত ১ সেপ্টেম্বর। তৎকালীন সময়ে সামাজিক মাধ্যমে একটি বিস্ফোরক পোস্ট করে সাংসদ মহুয়া মৈত্র অভিযোগ তোলেন, গত জুলাই-অগস্ট মাসে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পশ্চিমবঙ্গ সফরকালে বেছে বেছে তিন মুসলিম উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে তাঁদের ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে সরকারি দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল।

মহুয়া মৈত্রের দাবি ছিল: ১. উত্তরবঙ্গ সফরে শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনার সৈয়দ ওয়াকার রাজাকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে স্বাগত জানানোর তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়। ২. স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের (এসটিএফ) প্রধান জাভেদ শামিমকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর সফরের কোনও সরকারি অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। ৩. একটি উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠক চলাকালীন প্রবীণ আইএএস কর্মকর্তা খলিল আহমেদকে কক্ষত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়।

পরবর্তীতে এই বিষয়ে জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশনের পাশাপাশি জাতিসংঘের ‘স্পেশাল র‍্যাপোর্টিয়ার অন মাইনরিটি ইস্যুজ’-এর কাছেও লিখিতভাবে একই বঞ্চনার অভিযোগ পাঠান কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ।

কমিশনের তদন্ত ও পর্যবেক্ষণ সাংসদের এই অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে গত সোমবার রাজ্যে পৌঁছায় জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশনের প্রতিনিধিদল, যার নেতৃত্বে ছিলেন কমিশনের চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান এবং ডেপুটি সেক্রেটারি। তদন্ত প্রক্রিয়া চলাকালে কমিশন সংশ্লিষ্ট তিন কর্মকর্তা—আইপিএস জাভেদ শামিম, আইপিএস সৈয়দ ওয়াকার রাজা এবং আইএএস খলিল আহমেদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে তাঁদের বক্তব্য নথিভুক্ত করে।

কর্মকর্তাদের জবানবন্দি ও অনুসন্ধানের পর কমিশন স্পষ্ট পর্যবেক্ষণ প্রদান করে জানায়, নির্দিষ্ট কোনো রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যেই সম্পূর্ণ অসত্য তথ্য পরিবেশন করেছিলেন সাংসদ। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকার রক্ষায় গঠিত এই স্বশাসিত সংস্থাকে বিভ্রান্ত করার অপরাধেই তাঁর বিরুদ্ধে রাজ্য পুলিশকে এফআইআর রুজু করে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.