জাপান এশিয়ান গেমসে স্কোয়াশ, হকি কিংবা ভলিবলের মতো ইভেন্টগুলোতে ভারত ও পাকিস্তানের খেলোয়াড়দের মধ্যে সৌজন্যমূলক করমর্দন এবং উষ্ণ অভ্যর্থনা দেখা গেলেও, ব্যতিক্রম হয়ে রইল ক্রিকেট মাঠ। শনিবার নাগোয়া গেমসের ক্রিকেট ফাইনালে টসের সময় পাকিস্তানের অধিনায়ক সাহিবজাদা ফারহানের বাড়িয়ে দেওয়া হাতের সঙ্গে করমর্দন এড়িয়ে যান ভারতীয় অধিনায়ক শ্রেয়স আয়ার। শুধু তাই নয়, ম্যাচ চলাকালীন ভারতীয় তরুণ ব্যাটার বৈভব সূর্যবংশীকে আউট করে পাক স্পিনার সাইম আয়ুবের বিদ্রুপাত্মক উদযাপন দুই দেশের ক্রিকেটীয় উত্তেজনার পারদ আরও বাড়িয়ে দেয়।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও ধারাবাহিক দূরত্ব
২০২৫ সালের পহেলগাঁওয়ে ঘটে যাওয়া জঙ্গি হামলার পর থেকেই ভারতের ক্রিকেট মহল পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করে। তৎকালীন অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দল মাঠ ও মাঠের বাইরে পাক ক্রিকেটারদের আনুষ্ঠানিকভাবে এড়িয়ে চলার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, এশিয়ান গেমসের মঞ্চেও সেই একই ধারা বজায় রাখলেন শ্রেয়স আয়ারেরা। কেবল পুরুষদের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেই নয়, নারী ক্রিকেট এবং বিভিন্ন বয়সভিত্তিক দলগুলোর মধ্যেও একই ধরনের শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখতে দেখা যাচ্ছে।
মাঠের উত্তেজনা ও বৈভবের উইকেট
ফাইনালে ব্যাট করতে নেমে ১৫ বছর বয়সী ভারতীয় ওপেনার বৈভব সূর্যবংশী বিধ্বংসী মেজাজে শুরু করলেও বড় ইনিংস গড়তে ব্যর্থ হন। সাইম আয়ুবের স্পিন বুঝতে না পেরে উইকেটরক্ষকের হাতে ক্যাচ দেওয়ার আগে ৯ বলে ১৫ রান (২টি ছক্কাসমেত) করেন তিনি।
তবে বৈভবকে আউট করার পর পাক স্পিনার সাইম হাত দিয়ে শিশু দোলাানোর ভঙ্গি করে কুরুচিকর বিদ্রুপ প্রদর্শন করেন। যদিও এই ঘটনায় ভারতীয় ওপেনার বৈভব বা অপর প্রান্তে থাকা অভিষেক শর্মা কোনো প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে চরম সংযম প্রকাশ করেন। পাকিস্তানের অন্যান্য ক্রিকেটারদেরও এ বিষয়ে বাড়াবাড়ি না করে শান্ত থাকতে দেখা যায়।
ক্রীড়া বিশেষজ্ঞদের মতে, একাধিক ইভেন্টে দুই দেশের অ্যাথলেটদের সুসম্পর্ক দেখা গেলেও, ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেট ম্যাচের আবহে জমে থাকা রাজনৈতিক ও মানসিক বরফ যে এত সহজে গলছে না, নাগোয়ার এই ঘটনাই তা পুনর্বার প্রমাণ করল।

