‘মাস আর্ট’ দুর্নীতির তদন্তে চাঞ্চল্যকর দাবি ইডির: প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীলের সংস্থা থেকে মুখ্যমন্ত্রীর অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয় ৩০ লাখ টাকা

‘মাস আর্ট’ দুর্নীতির তদন্তে চাঞ্চল্যকর দাবি ইডির: প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীলের সংস্থা থেকে মুখ্যমন্ত্রীর অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয় ৩০ লাখ টাকা

দুর্গাপুজোর ‘ভুয়ো’ পাস বিক্রি ও আর্থিক তছরুপের মামলায় তদন্ত চালাতে গিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে আনলো কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। সংস্থার দাবি, রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের মালিকানাধীন সংস্থা থেকে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ৩০ লক্ষ টাকা স্থানান্তর করা হয়েছিল। গত বুধবার ইন্দ্রনীল সেনকে দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর বৃহস্পতিবার ইডির প্রকাশিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই দাবি করা হয়েছে।

ইডির বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ইন্দ্রনীল সেন মন্ত্রী থাকাকালীন তাঁর নিজস্ব সংস্থা ‘অক্টেভ রেকর্ডস’-এর অ্যাকাউন্টে মোট ৩.৮ কোটি টাকা জমা পড়েছিল। পরবর্তীতে সেই ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকেই তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অ্যাকাউন্টে ৩০ লক্ষ টাকা পাঠানো হয়। এ বিষয়ে ইডির প্রশ্নের জবাবে ইন্দ্রনীল সেন জানিয়েছেন, উক্ত অর্থ ‘রয়্যালটি’ বাবদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রদান করা হয়েছিল।

তদন্তকারী সংস্থার দাবি, ‘মাস আর্ট’ নামের একটি বেসরকারি সংস্থা গঠন করে দুর্গাপুজোর ডিজিটাল পাস বা ‘প্রিভিউ শো’ পাসের নামে বেআইনি আর্থিক লেনদেন চালানো হতো। ২০২১ সালে কলকাতার দুর্গাপুজো ইউনেস্কোর হেরিটেজ স্বীকৃতি পাওয়ার পরই এই সংস্থা গঠিত হয়। ইউনেস্কো অনুমোদিত সংস্থা হিসেবে নিজেদের ভুয়া পরিচয় দিয়ে ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিপুল টাকা সংগ্রহ করা হয়। শহরের নির্বাচিত ২৪টি পুজো প্যান্ডেল ঘুরে দেখার জন্য এক একটি পাস ১৭৪৯ টাকা থেকে ৫৪৯৯ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি করা হতো। শুধু ২০২৩ ও ২০২৪ সালেই এক লক্ষেরও বেশি এমন পাস বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে ইডির অভিযোগ।

ইডি আরও জানিয়েছে, ইন্দ্রনীল সেন পর্যটন ও সংস্কৃতি মন্ত্রকের দায়িত্বে থাকাকালীন তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী ধ্রুবজ্যোতি বোস ও দীপেশ রায়ের মালিকানাধীন সংস্থাগুলিকে ৮৫ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের সরকারি টেন্ডার পাইয়ে দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে সেই সমস্ত সংস্থার অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা ঘুরপথে ইন্দ্রনীলের আত্মীয়দের একাধিক সংস্থায় স্থানান্তরিত হয়।

বৌবাজার থানায় জয়দীপ মুখোপাধ্যায় নামে এক ব্যক্তির দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশি তদন্তের পাশাপাশি আর্থিক তছরুপ প্রতিরোধ আইন (PMLA)-এর আওতায় তদন্ত শুরু করে ইডি। গত ২৯ সেপ্টেম্বর কলকাতার ১৫টি স্থানে তল্লাশি অভিযান চালানোর পর সংগৃহীত নথিপত্রের ভিত্তিতে গত বুধবার ইন্দ্রনীলকে জেরা করা হয়। ওই সংস্থায় ইন্দ্রনীলের স্ত্রী মধুছন্দা সেন (সভাপতি), ধ্রুবজ্যোতি বসু (সম্পাদক), সায়ন্তন মৈত্র (সহ-সভাপতি) এবং রঞ্জন চট্টোপাধ্যায় (কোষাধ্যক্ষ) যুক্ত ছিলেন। আগামী সপ্তাহে প্রাক্তন এই মন্ত্রীকে সিজিও কমপ্লেক্সে ফের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছে ইডি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.