অন্নপূর্ণা যোজনায় মাসিক ৩ হাজার টাকা প্রদান: যোগ্যতা, শর্ত ও ভাতা সংক্রান্ত নির্দেশিকা প্রকাশ প্রশাসনিক বৈঠকে

অন্নপূর্ণা যোজনায় মাসিক ৩ হাজার টাকা প্রদান: যোগ্যতা, শর্ত ও ভাতা সংক্রান্ত নির্দেশিকা প্রকাশ প্রশাসনিক বৈঠকে

‘অন্নপূর্ণা যোজনা’য় মাসিক ৩,০০০ টাকা কারা পাবেন এবং কারা এই প্রকল্পের তালিকা থেকে বাদ পড়বেন—তা নিয়ে নবান্নে আয়োজিত সাংবাদিক বৈঠকে বিস্তারিত রূপরেখা প্রকাশ করা হলো। বর্তমানে জমা পড়া আবেদনপত্রগুলির ঝাড়াই-বাছাই ও মাঠপর্যায়ের যাচাই প্রক্রিয়ার কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। প্রশাসনিক সূত্রে জানানো হয়েছে, আগামী ১৭ তারিখ থেকে যোগ্য উপভোক্তাদের নিজস্ব ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরাসরি টাকা পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হবে।

কারা পাবেন এই আর্থিক সহায়তা? এই প্রকল্পের আওতায় সুবিধা পাওয়ার জন্য কিছু সুনির্দিষ্ট শর্ত নির্ধারণ করা হয়েছে:

  • বয়সসীমা: কেবল ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সী মহিলারা এই আর্থিক সহায়তার সুবিধা পাওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। ২৫ বছরের কম বয়সী মহিলারা এই প্রকল্পের আওতায় আসবেন না।
  • ভাতা সমন্বয়: ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সী যে সকল মহিলা ইতিপূর্বে ৩,০০০ টাকার কম সরকারি ভাতা (যেমন: ১,৫০০ টাকার বিধবা ভাতা) পাচ্ছিলেন, তাঁরা সেই ভাতার পরিবর্তে অন্নপূর্ণা যোজনার ৩,০০০ টাকাই পাবেন।

প্রকল্পের বিশেষ ছাড় ও ব্যতিক্রম কিছু নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে সামাজিক সুরক্ষার কথা বিবেচনা করে নিয়ম শিথিল করা হয়েছে:

  • দিব্যাঙ্গ ভাতা: প্রতিবন্ধী বা দিব্যাঙ্গ ভাতা প্রাপকদের ক্ষেত্রে এই শর্ত শিথিল থাকছে; তাঁরা পূর্বের ভাতার পাশাপাশি অন্নপূর্ণা যোজনার পূর্ণ আর্থিক সুবিধাও পাবেন।
  • পিএম কিষাণ নিধি: ‘পিএম কিষাণ সম্মান নিধি’ প্রকল্পের সুবিধাভোগী কৃষক পরিবারের সদস্যরাও অন্নপূর্ণা যোজনার ৩,০০০ টাকা পাবেন।
  • গ্রামীণ ক্ষেত্রে শিথিলতা: নগরাঞ্চলের জন্য তিন কক্ষ বিশিষ্ট বাড়ি বা নির্দিষ্ট ভূমির শর্ত থাকলেও, গ্রামীণ এলাকার উপভোক্তাদের ক্ষেত্রে বাড়ি ও জমির পরিমাণ সংক্রান্ত শর্তে বিশেষ ছাড় দেওয়া হয়েছে।

প্রকল্পের অযোগ্যতা ও বিধিনিষেধ স্বচ্ছতা বজায় রাখতে কিছু সুনির্দিষ্ট ক্ষেত্রে এই সহায়তা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে:

  • আয়ের সীমা: আবেদনকারীর ব্যক্তিগত মাসিক আয় ১০,০০০ টাকা বা তার বেশি হলে তিনি অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। এ ছাড়া, যে সকল পরিবারের বার্ষিক আয় ১২ লক্ষ টাকার ঊর্ধ্বে, তাঁরা এই সুবিধার বাইরে থাকবেন।
  • সরকারি চাকরি: কেন্দ্রীয় বা রাজ্য সরকার পোষিত প্রতিষ্ঠান, পঞ্চায়েত, পুরসভা এবং সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্মরত বা স্থায়ী সরকারি কর্মচারীরা এই সুবিধা পাবেন না। তবে যেকোনো প্রতিষ্ঠানে কর্মরত চুক্তিভিত্তিক বা ঠিকা শ্রমিক পরিবারের সদস্যরা আবেদন করতে পারবেন।
  • শহরাঞ্চলের জমি: সাতটি পুরনিগম এলাকার অধিবাসীদের ক্ষেত্রে ৫০ ডেসিমেলের বেশি জমি থাকলে তাঁরা এই প্রকল্পের আওতাভুক্ত হবেন না।

অর্থ বণ্টন ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি আবেদনপত্রের ক্ষেত্রভিত্তিক সত্যতা যাচাই সম্পন্ন হতেই সরাসরি উপভোক্তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে অর্থ পৌঁছে যাবে। অর্থ দপ্তর জেলাভিত্তিক তালিকা ধরে ট্রান্সফার প্রক্রিয়া পরিচালনা করবে। প্রাথমিক যাচাই শেষে প্রতি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে নিয়মিতভাবে এই অর্থ পাঠানো হবে।

জুলাই মাসে ইতিমধ্যে এক কোটিরও বেশি মহিলাকে এই প্রকল্পের আওতায় অর্থ প্রদান করা হয়েছে। প্রশাসনিক হিসাব অনুযায়ী, আগামী আট মাসে এই যোজনায় প্রায় ৪৮ থেকে ৫০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে, যা প্রাথমিক বাজেট বরাদ্দের (৩৮,০০০ কোটি টাকা) চেয়ে বেশি। উপভোক্তাদের যেকোনো অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য বিডিও-দের দায়িত্বে একটি বিশেষ অভিযোগ পোর্টাল চালুর পরিকল্পনা রয়েছে, যার তদারকি করবেন মুখ্যসচিব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.