লিওনেল মেসি—আর্জেন্টিনার ফুটবলের বরপুত্র এবং জাতীয় নায়ক। কিশোর বয়সে স্পেনের হয়ে খেলার সুযোগ থাকলেও দেশের ভালোবাসায় আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে চাপিয়েছিলেন তিনি। তবে সাম্প্রতিক এক বংশবৃত্তান্ত গবেষণায় মিলল এক চমকপ্রদ তথ্য। গবেষণায় দেখা গেছে, বিশ্বজয়ী এই তারকার শিকড় লুকিয়ে রয়েছে ইতালিতে এবং তাঁর মায়ের পরিবার আর্জেন্টিনায় আসার আগে দীর্ঘদিন বসবাস করেছিল চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিলে!
বাবার পরিবার: ইতালি থেকে সরাসরি আর্জেন্টিনা
আর্জেন্টিনার বিখ্যাত বংশবৃত্তান্ত বিশেষজ্ঞ সান্তিনি ২০১৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত মেসির পরিবারের ইতিহাস নিয়ে দীর্ঘ গবেষণা চালান। বিভিন্ন ঐতিহাসিক নথি বিশ্লেষণ করে তিনি জানতে পারেন:
- বাবার দিকের পূর্বপুরুষ: মেসির বাবার প্রপিতামহ অ্যান্জেলো মেসি ১৮৯৩ সালে ইতালির রেকানতি শহর ছেড়ে পরিবারসহ ভাগ্য অন্বেষণে আর্জেন্টিনার রোসারিও শহরে চলে আসেন।
মায়ের পরিবার: ইতালি থেকে ব্রাজিল হয়ে আর্জেন্টিনা
মেসির মায়ের পরিবারের ইতিহাস আরও বেশ নাটকীয়। গবেষণায় উঠে এসেছে:
১. ইতালি থেকে ব্রাজিল যাত্রা: মেসির মায়ের প্রপিতামহ রানিয়েরি কেচিয়েতিনি ও তাঁর স্ত্রী রোসা রিচেজ্জা ১৮৯৯ সালে ইতালি ছেড়ে ‘ওয়াশিংটন’ নামক জাহাজে করে ব্রাজিলের সান্তোসে পাড়ি জমান।
২. পদবি পরিবর্তন: অভিবাসনের সময় নথিপত্রে ভুলের কারণে তাঁদের পদবি পরিবর্তন হয়ে যায়। রামিয়েরা কোচিয়েতিনি নামে ব্রাজিলের সাও পাওলোর একটি খামারে কাজ শুরু করেন তিনি।
৩. আর্জেন্টিনায় আগমন: পরবর্তীতে তিনি পরিবার নিয়ে ব্রাজিলের রিবেইরাও প্রেতো শহরে চলে যান। সেখানে তাঁর দুই সন্তানের জন্ম হয়, যাঁদের একজন আর্দিরিগো (মেসির মায়ের পিতামহ)। ১৯০৫ সালে কোচিয়েতিনি পরিবার ব্রাজিল ছেড়ে আর্জেন্টিনার রোসারিওর কাছে বসতি স্থাপন করেন। সেখানেই জন্ম হয় মেসির দাদু অ্যাস্তোনিও কোচিয়েতিনি এবং পরবর্তীকালে তাঁর মা সেলিয়া মারিয়া কোচিয়েতিনির।
গবেষণার ফলাফল ও সম্মাননা
গবেষক সান্তিনি জানান, ইতালিতে মূল নথি অনুসন্ধানের সময় ‘কোচিয়েতিনি’ পদবিটি পাওয়া যায়নি। মূলত ব্রাজিলে অভিবাসনের পরই বানান বিকৃতির মাধ্যমে এই নতুন পদবির সৃষ্টি হয়। এই গবেষণার ওপর ভিত্তি করেই ২০২২ সালে ইতালির ‘সান সেভেরিনো মার্কে’ শহর কর্তৃপক্ষ লিওনেল মেসিকে সম্মানিক নাগরিকত্ব প্রদান করে।
উল্লেখ্য, ১৯০৫ সালে মেসির মায়ের প্রপিতামহ পরিবার নিয়ে আর্জেন্টিনায় চলে এলেও, তাঁদের পরিবারের একটি অংশ ব্রাজিলের রিবেইরাও শহরেই থেকে যায়। যে খামারমালিকের আশ্রয়ে তাঁরা ছিলেন, তাঁর নামানুসারে সেখানকার একটি রাস্তার নামকরণ আজও বিদ্যমান রয়েছে।

