মুম্বই ছেড়ে পাকাপাকিভাবে বেঙ্গালুরুতে হার্দিক পাণ্ড্য, কফি-হাউস জল্পনার মাঝেই বড় সিদ্ধান্ত অলরাউন্ডারের

মুম্বই ছেড়ে পাকাপাকিভাবে বেঙ্গালুরুতে হার্দিক পাণ্ড্য, কফি-হাউস জল্পনার মাঝেই বড় সিদ্ধান্ত অলরাউন্ডারের

মেগা টুর্নামেন্ট আইপিএলের আগামী মরসুমের আগে তাঁকে নিয়ে দলবদলের বাজারে যখন জোর জল্পনা চলছে, ঠিক তখনই এক বড় সিদ্ধান্ত নিলেন ভারতীয় ক্রিকেট দলের তারকা অলরাউন্ডার হার্দিক পাণ্ড্য। বাণিজ্যিক নগরী মুম্বইয়ের পাট চুকিয়ে এবার পাকাপাকিভাবে দক্ষিণের শহর বেঙ্গালুরুতে চলে গেলেন তিনি।

তবে ক্রিকেট মহলে কানাঘুষো চললেও, এই শহর বদলের সিদ্ধান্তের পেছনে আইপিএলের কোনো ভূমিকা নেই। মূলত চোট-আঘাতের হাত থেকে কেরিয়ার রক্ষা করতে এবং দীর্ঘ মেয়াদে দেশের হয়ে সাদা বলের ক্রিকেট খেলে যাওয়ার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ করেছেন বডোদরার এই ক্রিকেটার।

কেন এই আকস্মিক সিদ্ধান্ত?

বিগত এক দশক ধরে মুম্বইবাসী ছিলেন হার্দিক পাণ্ড্য। মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের অ্যাকাডেমিতেই চলত তাঁর প্র্যাকটিস। তবে পিঠ ও পেশির চোটের এক দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে তাঁর কেরিয়ারে। চোটের কারণেই তিনি আয়ারল্যান্ড এবং ইংল্যান্ড সফর থেকেও ছিটকে গিয়েছেন।

বিগত ৬ মাস ধরে চোট সারানোর জন্য তাঁকে বারবার বেঙ্গালুরুতে অবস্থিত ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (BCCI) ‘সেন্টার অফ এক্সেলেন্স’ (উৎকর্ষ কেন্দ্র)-এ যাতায়াত করতে হয়েছে। আর কোনো ঝুঁকি না নিয়ে এবার সরাসরি সেই কেন্দ্রের কাছাকাছি থাকার সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি। সাধারণত ক্রিকেটাররা চোট পেলে পুনর্বাসনের (Rehab) জন্য এখানে আসেন, কিন্তু হার্দিক প্রথম ভারতীয় ক্রিকেটার হিসেবে সার্বিক অনুশীলনের জন্য সেখানে স্থায়ীভাবে থাকার নজির গড়লেন।

নিজস্ব ‘সাপোর্ট স্টাফ’ ও বাড়ি ভাড়া

সংবাদসংস্থা পিটিআই (PTI)-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিসিসিআই-এর এক পদস্থ কর্মকর্তা হার্দিকের এই সিদ্ধান্তের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান:

“হার্দিক পাকাপাকিভাবে মুম্বই ছেড়ে বেঙ্গালুরুতে চলে গিয়েছে। শহরের বাইরের দিকে একটি বাড়ি ভাড়া নিয়েছে সে, যেখান থেকে বোর্ডের উৎকর্ষ কেন্দ্রটি অত্যন্ত কাছে। মুম্বইয়ের লোয়ার পারেলের বাড়ি থেকে প্রতিদিন যাতায়াত করে অনুশীলন করা তাঁর পক্ষে সমস্যাজনক হচ্ছিল। যেহেতু সে বোর্ডের কেন্দ্রীয় চুক্তিতে (Central Contract) রয়েছে, তাই উৎকর্ষ কেন্দ্রের আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সে যখন খুশি ব্যবহার করতে পারে।”

জানা গিয়েছে, কেরিয়ার দীর্ঘায়িত করতে বেঙ্গালুরুতে নিজের ব্যক্তিগত একটি ‘সাপোর্ট স্টাফ’ দলও তৈরি করে ফেলেছেন এই অলরাউন্ডার। এই দলে রয়েছেন ফিজিয়োথেরাপিস্ট এবং স্ট্রেংথ অ্যান্ড কন্ডিশনিং কোচ।

এমনকি উৎকর্ষ কেন্দ্রে অনুশীলনের সময় যে নেট বোলারদের বিরুদ্ধে তিনি ব্যাটিং ঝালিয়ে নিচ্ছেন, তাঁদের পারিশ্রমিকও হার্দিক নিজের পকেট থেকেই দিচ্ছেন বলে ওই বোর্ড কর্তা জানিয়েছেন। নিজেকে শতভাগ ফিট রেখে ভারতের হয়ে আরও কয়েক বছর সীমিত ওভারের ক্রিকেটে দাপট দেখাতেই হার্দিকের এই ব্যতিক্রমী প্রয়াস।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.