বোমাতঙ্ক ও যুদ্ধ পরিস্থিতির মাঝেও অবিচল; কাতারকে বিশ্বকাপে পৌঁছে নেপথ্য কাহিনী শোনালেন কোচ লোপেতেগি

বোমাতঙ্ক ও যুদ্ধ পরিস্থিতির মাঝেও অবিচল; কাতারকে বিশ্বকাপে পৌঁছে নেপথ্য কাহিনী শোনালেন কোচ লোপেতেগি

একদিকে যখন বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ আসর বিশ্বকাপের প্রস্তুতিতে মেতে উঠেছে দলগুলি, ঠিক তখনই পশ্চিম এশিয়ায় চলছে ইরান-আমেরিকা যুদ্ধ। যেকোনো মুহূর্তে বোমা পড়ার চরম আতঙ্ক ও যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির মধ্যেও নিজের দায়িত্ব থেকে একচুল নড়েননি কাতারের প্রধান কোচ জুলেন লোপেতেগি। সশরীরে কাতারে উপস্থিত থেকে দলের অনুশীলন ও প্রস্তুতি চালিয়ে গেছেন এই স্পেনীয় কোচ। বিশ্বকাপ অভিযানে এসে এবার সেই রুদ্ধশ্বাস অভিজ্ঞতার কথা জনসমক্ষে শোনালেন তিনি।

বোমাতঙ্কে বাতিল হয়েছিল প্রস্তুতি ম্যাচ, তাও দেশ ছাড়েননি লোপেতেগি

চলতি বিশ্বকাপে কাতারের প্রথম ম্যাচ সুইৎজারল্যান্ডের বিপক্ষে। তবে বিশ্বকাপের এই মূল পর্বে পৌঁছানোর রাস্তাটা কাতারের জন্য একেবারেই সহজ ছিল না। পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে কাতারের একাধিক জায়গায় ক্ষেপণাস্ত্র ও বোমা আছড়ে ফেলেছে ইরান। এই বৈরী পরিস্থিতির কারণে সার্বিয়া ও আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে কাতারের নির্ধারিত দুটি প্রস্তুতি ম্যাচও বাতিল করতে বাধ্য হয়েছিল কর্তৃপক্ষ।

সেই ভয়ঙ্কর দিনগুলির স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে লোপেতেগি বলেন:

“পরিস্থিতি অত্যন্ত অস্বস্তিকর ছিল। এর আগে জীবনে কখনো এমন অভিজ্ঞতা হয়নি। আমরা সবসময় ফোনে জরুরি সতর্কবার্তার অপেক্ষায় থাকতাম। প্রায়শই ঘর থেকে না বেরোনোর বার্তা আসত এবং নিরাপদ কোনো এলাকা বা ইন্ডোরে থাকার নির্দেশ দেওয়া হতো। অবশ্য অধিকাংশ বোমাই পড়েছে আমেরিকার এয়ারবেসগুলিতে, যা আমাদের অবস্থান থেকে বেশ কিছুটা দূরে ছিল। সেদিক থেকে আমরা নিরাপদেই ছিলাম। কিন্তু আমার পরিবার এসব শুনতে চায়নি, তারা চেয়েছিল আমি যেন দ্রুত নিজের দেশে (স্পেন) ফিরে যাই।”

লোপেতেগি আরও জানান, সাময়িকভাবে আকাশসীমা উন্মুক্ত হওয়ার পরপরই তাঁর স্ত্রী তাঁকে কাতারের বিপজ্জনক পরিস্থিতি ছেড়ে চলে আসার জন্য আকুল অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু পরিবারের সেই ডাক ফিরিয়ে দেন তিনি। লোপেতেগির স্পষ্ট কথা, “আমি কাতারেই থেকে গিয়েছিলাম। আমার কাঁধে একটা দেশের ফুটবল দলের দায়িত্ব রয়েছে, তাই আমাকে থাকতেই হতো। আমি কোনো ‘হিরো’ বা নায়ক হতে চাইনি, তবে দলের পাশে থেকে যাওয়াটা আমার কর্তব্য ছিল।”

পরিণত কাতার দল নিয়ে আশাবাদী কোচ

গত বিশ্বকাপে আয়োজক দেশ হওয়া সত্ত্বেও গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয়েছিল কাতারকে। তবে এবার মাঠের লড়াইয়ে যোগ্যতা অর্জন করে মূল পর্বে এসেছে তারা। এশিয়ার পরাশক্তি তথা ‘এশিয়ার ব্রাজিল’ হিসেবে পরিচিত ইরান এবং শক্তিশালী সংযুক্ত আরব আমিরশাহিকে (UAE) হারিয়ে বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করেছে লোপেতেগির ছেলেরা।

দলের এই অভাবনীয় উন্নতি ও সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদী কোচ বলেন, “এবারই আমরা প্রথমবার মাঠের লড়াইয়ে যোগ্যতা অর্জন করে বিশ্বকাপে খেলছি। আমরা ইরানকে হারিয়েছি। এমনকি আমিরশাহি দলে ব্রাজিলীয় ও পর্তুগিজ ফুটবলারেরা খেলা সত্ত্বেও তাদের আমরা পরাস্ত করেছি। এই কাতার দল আগের চেয়ে অনেক বেশি পরিণত।”

যুদ্ধবিধ্বস্ত ও প্রতিকূল পরিস্থিতি জয় করে বিশ্বকাপের মঞ্চে আসা কাতার দল এবার বিশ্বমঞ্চে কতটা সমীহ আদায় করতে পারে, এখন সেটাই দেখার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.