দীর্ঘ বিরতির পর ফের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসতে চলেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আগামী সপ্তাহে ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত হতে চলা বিশ্বের সাত শক্তিশালী দেশের জোট ‘জি-৭’-এর শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকেই দুই রাষ্ট্রনেতার এই হাই-প্রোফাইল বৈঠক সম্পন্ন হবে। ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়ার পর মোদীর সঙ্গে এটিই তাঁর প্রথম মুখোমুখি সাক্ষাৎ।
সম্মেলনের প্রেক্ষাপট ও ভারতের ভূমিকা
আগামী ১৬ ও ১৭ জুন ফ্রান্সে জি-৭ গোষ্ঠীর বৈঠক নির্ধারিত হয়েছে। ভারত এই গোষ্ঠীর স্থায়ী সদস্য না হলেও আন্তর্জাতিক স্তরে ভারতের ক্রমবর্ধমান গুরুত্বের কথা মাথায় রেখে প্রধানমন্ত্রী মোদীকে বিশেষ অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। উল্লেখ্য, গত বছর কানাডায় অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনেও অংশ নিয়েছিলেন তিনি।
আলোচনার সম্ভাব্য বিষয়সূচি: বাণিজ্য ও কূটনীতি
সূত্রের খবর, এই বৈঠকে ভারত ও আমেরিকার মধ্যে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হতে পারে। গত এক বছর ধরে দফায় দফায় আলোচনার মাধ্যমে এই চুক্তির একটি প্রাথমিক রূপরেখা ইতিমধ্যেই তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধিদল ভারত সফর করেছে এবং ভারতীয় প্রতিনিধিদলও ওয়াশিংটন ঘুরে এসেছে। সংবাদ সংস্থা এএনআই সূত্রে খবর, দুই রাষ্ট্রনেতার আলাপচারিতায় এই বাণিজ্যচুক্তি চূড়ান্ত করার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেতে পারে।
সাম্প্রতিক উত্তাপ ও পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি
এমন এক সময়ে এই বৈঠক হতে যাচ্ছে যখন পশ্চিম এশিয়ায় চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। বিশেষ করে, সম্প্রতি ওমান উপসাগরে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে মার্কিন বাহিনীর হামলায় তিন ভারতীয় নাগরিকের মৃত্যুতে দুই দেশের কূটনৈতিক স্তরে টানাপড়েন তৈরি হয়েছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে নয়াদিল্লিতে নিযুক্ত মার্কিন দূতাবাসের চার্জ ডি অ্যাফেয়ার্সকে তলব করেছিল ভারত সরকার। ফলে রবিবারের বৈঠকে এই সংবেদনশীল বিষয়টি কীভাবে আলোচিত হয়, সেদিকে নজর রাখছে আন্তর্জাতিক মহল।
মোদী-ট্রাম্প রসায়ন ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক
ব্যক্তিগত স্তরে নরেন্দ্র মোদী ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের সুসম্পর্ক সুবিদিত। সম্প্রতি ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ১২ বছর পূর্ণ করার নজির গড়েছেন মোদী, যার জন্য তাঁকে উষ্ণ অভিনন্দন জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তবে সম্পর্কের এই মাধুর্যের পাশাপাশি কিছু অস্বস্তিও রয়েছে। মার্কিন শুল্ক নীতি এবং ভারত-পাকিস্তান সংঘর্ষবিরতি নিয়ে ট্রাম্পের ‘মধ্যস্থতা’র দাবি ঘিরে অতীতে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ভারত বারবার স্পষ্ট করেছে যে, কাশ্মীর বা সংঘর্ষবিরতি ইস্যুতে কোনো তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপ কাম্য নয়।
তা সত্ত্বেও দুই ‘বন্ধু’র এই সাক্ষাৎ বিশ্ব রাজনীতির প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি এই পার্শ্ববৈঠকের মূল কেন্দ্রবিন্দু হতে চলেছে।

