নিট-ইউজি (NEET-UG), সিবিএসই (CBSE), সিইউইটি (CUET) এবং এসএসসি (SSC) পরীক্ষায় দেশজুড়ে চলা লাগামহীন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে এবার দিল্লির রাজপথে আছড়ে পড়ল তীব্র প্রতিবাদ। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে শনিবার দিল্লির ঐতিহাসিক যন্তরমন্তরে এক অভিনব বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দেয় ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)। প্রখর রোদ উপেক্ষা করে এই প্রতিবাদে শামিল হন দেশের বহু পড়ুয়া, তরুণ চাকুরিজীবী থেকে শুরু করে মধ্যবয়সি ও প্রবীণ নাগরিকেরা।
কড়া নিরাপত্তা ও ‘আরশোলা’ মুখোশে অভিনব প্রতিবাদ
শনিবারের এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দিল্লির নিরাপত্তা ব্যবস্থা একপ্রকার দুর্গে পরিণত করা হয়েছিল। দিল্লি পুলিশ ছাড়াও যন্তরমন্তর ও সংলগ্ন এলাকায় প্রায় ৪০ কোম্পানি আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর বাসভবনের বাইরেও বসানো হয়েছিল অতিরিক্ত ব্যারিকেড।
দিল্লি পুলিশের সঙ্গে প্রাথমিক টালবাহানার পর বিকেল ৫টা পর্যন্ত যন্তরমন্তরে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের অনুমতি পায় সংগঠনটি। আন্দোলনকারীদের এই প্রতিবাদের ধরন ছিল বেশ নজরকাড়া:
- মুখোশ ও প্ল্যাকার্ড: বহু আন্দোলনকারী মুখে আরশোলার মুখোশ পরে প্রতিবাদে অংশ নেন।
- ফুল, বই ও সংবিধান: হিংসাত্মক প্রতিবাদের পথে না হেঁটে আন্দোলনকারীদের হাতে ছিল ফুল, বই এবং ভারতের সংবিধানের প্রতিলিপি।
- জাতীয় স্তরে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি: শুক্রবার রাতে দিল্লি বিমানবন্দরে নেমেই আন্দোলনের রূপরেখা স্পষ্ট করেছিলেন সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। শনিবার যন্তরমন্তরের মঞ্চ থেকে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “এটি একটি দীর্ঘ সংগ্রাম। আজকের কর্মসূচি কেবল ‘ট্রেলার’ মাত্র। আগামী দিনে এই আন্দোলন শুধু দিল্লির রাস্তায় সীমাবদ্ধ থাকবে না, ছড়িয়ে পড়বে গোটা দেশে।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, সমাজমাধ্যমে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি তোলায় তাঁদের অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে পোস্ট মুছে দেওয়ার চেষ্টা করেছে কর্তৃপক্ষ।
পাশে দাঁড়ালেন সোনম ওয়াংচুক
তরুণ প্রজন্মের এই অভিনব আন্দোলনকে শুরু থেকেই সমর্থন জানিয়ে আসছেন রামন ম্যাগসাইসাই পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ তথা পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুক। শনিবার তিনি সশরীরে যন্তরমন্তরের সভামঞ্চে উপস্থিত হয়ে আন্দোলনকারীদের পাশে দাঁড়ান। এর আগে ওয়াংচুক ঘোষণা করেছিলেন, আন্দোলনের কারণে যদি সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে-কে গ্রেফতার করা হয়, তবে তিনি আমরণ অনশনে বসবেন।
সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির মন্তব্য এবং ‘সিজেপি’-র জন্ম
সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত দেশের যুব সম্প্রদায়ের একাংশকে ‘আরশোলা’ এবং ‘পরজীবী’ বলে সম্বোধন করায় দেশজুড়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। প্রধান বিচারপতি মন্তব্য করেছিলেন, কিছু তরুণ-তরুণী মূল ধারার কোনো পেশায় জায়গা না পেয়ে সাংবাদিক, সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার বা আরটিআই (RTI) কর্মী সেজে সবাইকে আক্রমণ করে বেড়ায়।
ব্যঙ্গাত্মক আন্দোলন থেকে রাজপথ: প্রধান বিচারপতির এই অবমাননাকর মন্তব্যের প্রতিবাদে এবং সেটিকে ব্যঙ্গ করেই গত ১৬ মে জন্ম নেয় ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)। শুরুতে একটি ‘অনলাইন স্যাটায়ার মুভমেন্ট’ বা অনলাইন ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক আন্দোলন হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলেও, মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই সমাজমাধ্যমে বিপুল জনপ্রিয়তা পায় এই সংগঠন। সেই ভার্চুয়াল আন্দোলনই শনিবার সশরীরে দিল্লির রাজপথে নেমে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে সরব হলো।
তবে শনিবার বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামলেও, আন্দোলনকারীদের বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

