আগামীকাল বুধবার পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় তথা চূড়ান্ত দফার ভোটগ্রহণ। এই দফায় রাজ্যের সাতটি জেলার মোট ১৪২টি কেন্দ্রে ভাগ্য নির্ধারিত হবে প্রার্থীদের। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূল কংগ্রেসের রাজনীতির ‘নিউক্লিয়াস’ বা কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে পরিচিত দক্ষিণবঙ্গের এই জেলাগুলোই এবারের নির্বাচনের আসল নির্ণায়ক।
ভোটের সমীকরণ ও লড়াইয়ের ক্ষেত্র: তৃণমূলের গড় হিসেবে পরিচিত এই এলাকাগুলোতে গত কয়েক বছরে বিজেপি তাদের সংগঠন বিস্তারের চেষ্টা চালিয়েছে। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এই ১৪২টি আসনের মধ্যে তৃণমূল ১২৩টি এবং বিজেপি ১৮টি আসনে জয়ী হয়েছিল। তবে ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনের তথ্য অনুযায়ী, বিজেপির শক্তিবৃদ্ধি হয়েছে। এখন তাদের এগিয়ে থাকা কেন্দ্রের সংখ্যা ২৭-এ পৌঁছেছে।
হাই-ভোল্টেজ কেন্দ্র ও তারকা প্রার্থী:
- ভবানীপুর ও রাসবিহারী: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কেন্দ্র ভবানীপুরে তাঁর বিপরীতে লড়ছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। রাসবিহারীতে তৃণমূলের দেবাশিস কুমারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বিজেপির স্বপন দাশগুপ্ত।
- তারকা ও মন্ত্রী: নির্বাচনে অরূপ বিশ্বাস, ফিরহাদ হাকিম, ব্রাত্য বসু, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের মতো হেভিওয়েট মন্ত্রীরা লড়ছেন। পাশাপাশি রয়েছেন লাভলি মৈত্র, রাজ চক্রবর্তী, সোহম চক্রবর্তী, রূপা গঙ্গোপাধ্যায় এবং অদিতী মুন্সির মতো তারকারা।
- বাম ও কংগ্রেস: উত্তর দমদমে দীপ্সিতা ধর এবং উত্তরপাড়ায় মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়ের মতো তরুণ মুখদের নিয়ে আশাবাদী বামেরা। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার লড়াই করছেন শ্রীরামপুর কেন্দ্র থেকে।
নির্বাচনের মূল নিয়ন্ত্রক: ১. মতুয়া ভোট: নদিয়া এবং উত্তর ২৪ পরগনার প্রায় ১৫টি কেন্দ্রে মতুয়া ভোট প্রধান ফ্যাক্টর। ঠাকুরবাড়ির দুই শিবিরে বিভাজিত মতুয়া ভোটব্যাংক কোন দিকে ঝুঁকবে, তা নিয়ে তুঙ্গে জল্পনা। ২. সংখ্যালঘু ও আইএসএফ: এই ১৪২টি আসনের এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি আসনে সংখ্যালঘু ভোট নির্ধারকের ভূমিকা পালন করে। এবারের ভোটে নওশাদ সিদ্দিকির নেতৃত্বাধীন আইএসএফ-বাম জোট কতটা ভোট কাড়তে পারে, তার ওপর নির্ভর করছে তৃণমূলের সাফল্য। ৩. এসআইআর (SIR) ও ভোটার তালিকা: এবারের নির্বাচনে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া (এসআইআর) বড় প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে দুই ২৪ পরগনায় প্রায় ২৩ লক্ষ নাম বাদ যাওয়ায় তা নির্বাচনী ফলের ওপর বড় ছাপ ফেলতে পারে। ৪. নাগরিক আন্দোলন: আরজি কর-কাণ্ডের প্রেক্ষিতে শহর ও শহরতলিতে যে নাগরিক আন্দোলন গড়ে উঠেছিল, তা এবারের নির্বাচনে কতখানি প্রভাব ফেলে, সেদিকে নজর থাকবে সব মহলের। উল্লেখ্য, পানিহাটি থেকে ওই ঘটনার নির্যাতিতার মা বিজেপি প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
ভোটের তাৎপর্য: তৃণমূলের দাবি, সংখ্যালঘু ও সাধারণ ভোটাররা বিজেপির বিভাজনকারী রাজনীতির বিরুদ্ধে একজোট হয়ে ভোট দেবেন। অন্যদিকে, বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, পরিবর্তন ও উন্নয়নের নিরিখে মানুষ এবার পদ্মফুলের দিকেই ঝুঁকবে।
প্রথম দফার ১৫২টি আসনের তুলনায় এবারের আসন সংখ্যা কম হলেও, এই দফার ফলাফলই কার্যত নির্ধারণ করবে রাজ্য রাজনীতির ভবিষ্যৎ অভিমুখ। বুধবারের এই ভোটকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

