২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের দামামা এখনও সরকারিভাবে বাজেনি, প্রকাশ হয়নি ভোটের নির্ঘণ্টও। তবে তাতে কী? পূর্ব মেদিনীপুরের এগরা বিধানসভা কেন্দ্রে রাজনৈতিক পারদ চড়তে শুরু করেছে দ্রুতগতিতে। রাতারাতি বদলে যাচ্ছে এলাকার দেওয়ালগুলোর চেনা দৃশ্য। বিশেষ করে এগরার দোঁবাধি বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় দেওয়াল দখলের লড়াইয়ে আপাতত শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসকে পিছনে ফেলে অনেকটাই এগিয়ে রয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)।
মাঝরাতে ‘অপারেশন দেওয়াল’: কৌশলী বিজেপি
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, মাঝরাত থেকে ভোরের আলো ফোটার আগেই এগরার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও গ্রামীণ এলাকায় চুন দিয়ে বড় বড় অক্ষরে লেখা হচ্ছে— “Side for BJP”। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এটি বিজেপির একটি সুপরিকল্পিত কৌশল। এখনই কোনো প্রার্থীর নাম ঘোষণা না করে শুধুমাত্র দলীয় প্রতীকের জন্য জায়গা দখল করে রাখছে তারা। এর ফলে দলের অভ্যন্তরে প্রার্থী পদ নিয়ে কোনো সম্ভাব্য বিতর্ক এড়ানো এবং ভোটারদের মনে দলীয় পরিচয় গেঁথে দেওয়া— উভয় উদ্দেশ্যই সফল হচ্ছে বলে মনে করছে গেরুয়া শিবির।
পাল্টা চ্যালেঞ্জ তৃণমূলের
বিজেপির এই আগাম তৎপরতাকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে নারাজ স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব। যদিও বর্তমানে দেওয়াল লিখনের দৌড়ে তারা কিছুটা পিছিয়ে, তবুও তাদের দাবি, এগরা বরাবরই তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি। শাসকদলের মতে, দেওয়াল দখল করলেই মানুষের মন জয় করা যায় না। উন্নয়নের খতিয়ান হাতে নিয়ে সঠিক সময়েই তারা প্রচারে নামবে এবং মানুষের সমর্থন আবারও জোড়াফুলেই থাকবে।
বিজেপির আত্মবিশ্বাস ও সাংগঠনিক সক্রিয়তা
বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, গত কয়েক বছরে পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় তাঁদের জনসমর্থন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। তাঁদের ভাষায়, “এবারে পরিবর্তন নিশ্চিত।” দোঁবাধি এলাকায় আয়োজিত এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন:
- বিশ্বজিৎ পয়ড়্যা: সোশ্যাল মিডিয়া ইনচার্জ, এগরা-৩ মন্ডল।
- শিবশঙ্কর মাইতি: ৪ নম্বর শক্তিকেন্দ্র প্রমুখ।
- আশুতোষ জানা: বিজেপি নেতা।
এগরার রাজনৈতিক সমীকরণ
এগরা বিধানসভা কেন্দ্রটি বরাবরই রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত সচেতন। গ্রামীণ উন্নয়ন, কর্মসংস্থান এবং স্থানীয় শিল্পের মতো বিষয়গুলো এখানে প্রধান ইস্যু হয়ে দাঁড়ায়। রাজনৈতিক মহলের মতে, এবার এখানে তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে এক হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা প্রবল।
বর্তমানে এগরার পথঘাট রাজনৈতিক ব্যানার, পতাকা আর দেওয়াল লিখনে রঙিন হয়ে উঠলেও, শেষ হাসি কে হাসবে তা নির্ভর করছে সাধারণ মানুষের রায়ের ওপর। নির্বাচন ঘোষণা হওয়ার পর এই লড়াই আরও কত তীব্র হয়, এখন সেটাই দেখার।

