বর্তমান ডিজিটাল যুগে শিশুদের ওপর সোশ্যাল মিডিয়ার নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে উদ্বিগ্ন কেন্দ্র। সূত্রের খবর, অস্ট্রেলিয়া সরকার সম্প্রতি ১৬ বছরের কম বয়সিদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে যে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে, সেই মডেলটিই ভারতে কার্যকর করার কথা ভাবছে মোদী সরকার। এই বিষয়ে সংসদে সমস্ত রাজনৈতিক দলের মধ্যে ঐকমত্য গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।
কেন এই কঠোর আইনের ভাবনা?
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়, বরং শিশুদের জন্য একটি গভীর মনস্তাত্ত্বিক সংকটে পরিণত হয়েছে। সরকারের এই ভাবনার পিছনে মূল চারটি কারণ রয়েছে:
১. মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি: গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের ফলে কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্ণতা এবং ঘুমের সমস্যা বাড়ছে। লাইক ও কমেন্টের নেশা তাদের মধ্যে অস্থিরতা তৈরি করছে। ২. সাইবার বুলিং ও ট্রলিং: ইন্টারনেটে খুব সহজেই শিশুরা কুরুচিকর আক্রমণ বা ট্রলিংয়ের শিকার হয়, যা অনেক ক্ষেত্রে চরম মানসিক বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দেয়। ৩. অনুপযুক্ত বিষয়বস্তু: বয়সোপযোগী নয় এমন প্রাপ্তবয়স্ক কনটেন্ট বা হিংসাত্মক ভিডিও প্রায়ই অনিচ্ছাকৃতভাবে শিশুদের সামনে চলে আসে, যা তাদের নৈতিক বিকাশে বাধা দেয়। ৪. তুলনা মানসিকতা: অন্যদের কৃত্রিমভাবে সাজানো জীবন দেখে শিশুদের মনে হীনম্মন্যতা তৈরি হচ্ছে।
প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় কী কী থাকতে পারে?
যদি এই আইন পাস হয়, তবে সরকার নিম্নলিখিত পরিবর্তনগুলি আনতে পারে:
- অভিভাবকের অনুমোদন: ১৬ বছরের কম বয়সিদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট খুলতে বাবা-মায়ের অনুমতি বাধ্যতামূলক করা।
- প্ল্যাটফর্মের ওপর কড়াকড়ি: সোশ্যাল মিডিয়া কোম্পানিগুলোকে শিশুদের জন্য বিশেষ নিরাপত্তা ফিল্টার এবং রিপোর্টিং সিস্টেম তৈরি করতে নির্দেশ দেওয়া।
- ডিজিটাল লিটারেসি: স্কুল পর্যায়ে নিরাপদ ইন্টারনেট ব্যবহারের শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা।
অস্ট্রেলিয়ার উদাহরণ
উল্লেখ্য, অস্ট্রেলিয়া ইতিমধ্যেই এমন একটি মডেলের কথা ঘোষণা করেছে যেখানে বয়সের প্রমাণ যাচাই করা এবং বাবা-মায়ের সক্রিয় সম্মতি ছাড়া শিশুদের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে প্রবেশাধিকার সীমিত করা হয়েছে। ভারতও সেই পথেই হাঁটার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সম্ভাব্য প্রভাব
বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটবে এবং পারিবারিক সংহতি বাড়বে। তবে এর ফলে সোশ্যাল মিডিয়া জায়ান্টদের ব্যবহারকারীর সংখ্যা কমলে তারা বিজ্ঞাপনের রাজস্ব হারাবে, যা নিয়ে বড় বিতর্ক তৈরি হতে পারে।
কেন্দ্রীয় সরকারের এই পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হলো শিশুদের জন্য একটি নিরাপদ এবং সুস্থ ডিজিটাল পরিবেশ তৈরি করা। এখন দেখার বিষয়, রাজনৈতিক দলগুলো এই প্রস্তাবে কতটা সায় দেয়।
আপনি কি মনে করেন ভারতেও শিশুদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধ করা উচিত? আপনার মতামত বা এ বিষয়ে কোনো আইনি প্রশ্ন থাকলে আমাকে জানাতে পারেন।

