ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (SIR) কাজ চলাকালীন রাজ্যে এক নজিরবিহীন তথ্যগত অসঙ্গতি প্রকাশ্যে এল। উত্তর ২৪ পরগনার বরাহনগর এলাকার এক ভোটারের নথিতে দেখা গিয়েছে, তাঁর জন্মের তারিখের আগেই জন্মশংসাপত্র বা বার্থ সার্টিফিকেট ইস্যু করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের নথি যাচাইয়ের সময় এই চাঞ্চল্যকর গরমিল ধরা পড়ে।
অসঙ্গতির স্বরূপ
কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, বরাহনগরের ওই ভোটার শুনানির সময় যে শংসাপত্রটি জমা দিয়েছিলেন, তাতে তাঁর জন্মের তারিখ উল্লেখ রয়েছে ৬ মার্চ, ১৯৯৩। অথচ অবাক করার মতো বিষয় হলো, শংসাপত্রটি নথিভুক্ত বা ইস্যু করার তারিখ হিসেবে দেখা যাচ্ছে ৪ মার্চ, ১৯৯৩। অর্থাৎ, ভূমিষ্ঠ হওয়ার দু’দিন আগেই ওই ব্যক্তির জন্ম নথিভুক্ত হয়ে গিয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (CEO) দপ্তর ওই ভোটারের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করার পরিকল্পনা করছে।
ভোটার তালিকা সংশোধনের সময়সীমা ও বর্তমান পরিস্থিতি
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে বর্তমানে ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ জোরকদমে চলছে। কমিশনের সর্বশেষ নির্দেশিকা অনুযায়ী গুরুত্বপূর্ণ সময়সীমাগুলি হলো:
- শুনানি শেষ করার অন্তিম তারিখ: ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬।
- চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬।
অধিকাংশ জেলায় শুনানি পর্ব শেষ হলেও নথি যাচাইয়ের (Verification) স্তরেই এই ধরণের একাধিক প্রশাসনিক ও প্রযুক্তিগত ভুল ধরা পড়ছে।
নথিতে অন্যান্য অসঙ্গতি ও কমিশনের অবস্থান
শুধু বরাহনগর নয়, রাজ্যজুড়ে নথি যাচাইয়ে আরও বেশ কিছু ত্রুটি সামনে এসেছে:
- অসম্পূর্ণ ফর্ম: অনেক ভোটার তাঁদের ‘এনুমারেশন ফর্ম’-এ জন্মতারিখ উল্লেখ করেননি বা সেখানে অস্পষ্ট চিহ্ন দিয়ে রেখেছেন।
- সমজাতীয় তথ্য: একই এলাকায় অনেকের জন্মতারিখ এক হওয়ার ঘটনাও সামনে এসেছে, তবে একে সরাসরি ‘গরমিল’ হিসেবে দেখছে না কমিশন।
- নো ম্যাপিং তালিকা: ২০০২ সালের ভোটার তালিকার সাথে যোগসূত্রহীন ভোটারদের ‘নো ম্যাপিং’ তালিকায় রেখে আলাদাভাবে শুনানি নেওয়া হচ্ছে।
সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ
শীর্ষ আদালত স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে যে, নামের বানানে সামান্য ভুলের মতো তুচ্ছ কারণে যেন কোনও নাগরিকের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ না যায়। নথি যাচাইয়ের ক্ষেত্রে আধিকারিকদের অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং মানবিক হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে বরাহনগরের এই ‘ভুতুড়ে’ জন্মশংসাপত্রটি জাল কি না, নাকি কোনও যান্ত্রিক ত্রুটির ফল, তা খতিয়ে দেখাই এখন কমিশনের প্রধান চ্যালেঞ্জ।

