তেলেঙ্গানায় নৃশংসতার চরম সীমা অতিক্রম করল পথকুকুর নিধনের ঘটনা। বিষাক্ত ইনজেকশন প্রয়োগ করে নতুন করে আরও ৩০০টি কুকুরকে হত্যার অভিযোগ উঠল রাজ্যের জাগতিয়াল জেলায়। এ নিয়ে গত মাত্র ১৫ দিনে রাজ্যে মৃত কুকুরের সংখ্যা ৯০০ স্পর্শ করল। অভিযোগের তির স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রশাসনের দিকে।
জাগতিয়াল জেলার চাঞ্চল্যকর ঘটনা
সংবাদসংস্থা পিটিআই (PTI) সূত্রে খবর, গত ২২ জানুয়ারি জাগতিয়াল জেলার পেগাদাপল্লি গ্রামে এই গণ-হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। রাতারাতি গ্রাম থেকে শত শত কুকুর নিখোঁজ হয়ে যাওয়ায় সন্দেহ দানা বাঁধে পশু অধিকার কর্মীদের মনে। তদন্তে জানা যায়, গ্রামের সরপঞ্চ (প্রধান) এবং পঞ্চায়েত সম্পাদকের নির্দেশে এই কাজ করা হয়েছে।
অভিযোগের মূল পয়েন্টগুলো:
- নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি: অভিযোগ উঠেছে, গত ডিসেম্বর মাসে পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে এলাকা ‘কুকুরমুক্ত’ করার যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তা পূরণ করতেই এই অমানবিক পথ বেছে নেওয়া হয়েছে।
- ভাড়াটে আততায়ী: কুকুরদের বিষাক্ত ইনজেকশন দেওয়ার জন্য পেশাদার ব্যক্তিদের ভাড়া করা হয়েছিল বলে অভিযোগ।
মাটি খুঁড়ে মৃতদেহ উদ্ধার
ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ গ্রামের বাইরে একটি নির্জন এলাকা থেকে মাটি খুঁড়ে ৭০ থেকে ৮০টি কুকুরের পচাগলা দেহ উদ্ধার করেছে। পুলিশ ইন্সপেক্টর কিরণ জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে মনে হচ্ছে দেহগুলো ৩-৪ দিন আগে পুঁতে রাখা হয়েছিল। সঠিক কারণ জানতে দেহগুলি ময়নাতদন্তের (Post-mortem) জন্য পাঠানো হয়েছে।
রাজ্যের সামগ্রিক পরিস্থিতি
তেলেঙ্গানায় পথকুকুর নিধনের ঘটনাটি কেবল একটি জেলায় সীমাবদ্ধ নেই। গত কয়েক দিনে রাজ্যের পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক:
| জেলা | নিহতের আনুমানিক সংখ্যা | পদ্ধতি |
| জাগতিয়াল | ৩০০+ | বিষাক্ত ইনজেকশন |
| রঙ্গারেড্ডি | ১০০+ | খাবারে বিষ প্রয়োগ |
| অন্যান্য জেলা | ৫০০+ | অজ্ঞাত |
হায়দরাবাদ থেকে মাত্র ৫০ কিলোমিটার দূরে রঙ্গারেড্ডি জেলাতেও তিন দিন আগে প্রায় ১০০টি কুকুরকে বিষ খাইয়ে মারার অভিযোগ উঠেছিল।
আইনি পদক্ষেপ
ইতিমধ্যেই পেগাদাপল্লি গ্রামের সরপঞ্চ এবং পঞ্চায়েত সম্পাদকের বিরুদ্ধে এফআইআর (FIR) দায়ের করেছে পুলিশ। পশু সুরক্ষা আইন এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতার সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। এই ঘটনার নেপথ্যে আর কার কার হাত রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে প্রশাসন।
পশু অধিকার কর্মীরা এই ঘটনাকে ‘গণহত্যা’ বলে অভিহিত করেছেন এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আইনি প্রক্রিয়া মেনে পথকুকুরদের নির্বীজকরণ বা স্থানান্তর না করে এভাবে হত্যা করা দণ্ডনীয় অপরাধ।

