ভেনেজুয়েলা কানেকশন ও মোদী-ট্রাম্প রসায়ন: ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তির নেপথ্যে কি বড় কোনো চাল?

ভেনেজুয়েলা কানেকশন ও মোদী-ট্রাম্প রসায়ন: ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তির নেপথ্যে কি বড় কোনো চাল?

এখানে মূল ঘটনার ওপর ভিত্তি করে একটি পেশাদার সংবাদ প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হলো:


ভেনেজুয়েলা-যোগ ও মোদী-ট্রাম্প ফোনালাপ: ভারতের নতুন বাণিজ্য চুক্তির নেপথ্যে কি কূটনৈতিক সমীকরণ?

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়া দিল্লি: দীর্ঘ টানাপড়েনের অবসান ঘটিয়ে ভারত ও আমেরিকার মধ্যে ঐতিহাসিক বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন হতে চলেছে। তবে এই চুক্তির ঘোষণা এবং শর্তাবলীকে কেন্দ্র করে ভূ-রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র চর্চা। প্রশ্ন উঠছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত এই শুল্ক ছাড়ের নেপথ্যে কি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সাথে ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের সাম্প্রতিক ফোনালাপই অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে?

জ্বালানি তেল ও শুল্কের সমীকরণ

গত এক বছর ধরে ভারত-আমেরিকা সম্পর্কের অন্যতম কাঁটা ছিল বাণিজ্যিক শুল্ক। মার্কিন প্রশাসন স্পষ্ট জানিয়েছিল, রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল কেনা বন্ধ না করলে ভারতীয় পণ্যের ওপর চড়া শুল্ক বজায় থাকবে। এমনকি ট্রাম্প প্রশাসন রাশিয়া থেকে তেল কেনার জন্য অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ জরিমানা বা পেনাল্টি শুল্কও আরোপ করেছিল।

তবে গত সোমবার ট্রাম্প ঘোষণা করেন যে, ভারত রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করতে সম্মত হয়েছে। এর পরিবর্তে ভারত আমেরিকা এবং ভেনেজুয়েলা থেকে জ্বালানি তেল সংগ্রহ করবে। এই সিদ্ধান্তের ফলে ভারতীয় পণ্যের ওপর কার্যকর শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।

ভেনেজুয়েলা সফর ও কূটনৈতিক তৎপরতা

গত ৩০ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রডরিগেসের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। সমাজমাধ্যমে তিনি জানান, দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে উভয় পক্ষই সহমত হয়েছে। এর ঠিক একদিন পরেই ট্রাম্প দাবি করেন, ভারত আর ইরান বা রাশিয়া নয়, বরং ভেনেজুয়েলা থেকে তেল কিনবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, রাশিয়ার তেলের বিকল্প হিসেবে ভেনেজুয়েলার অপরিশোধিত তেল ভারতের পরিশোধনাগারগুলোর জন্য অত্যন্ত উপযুক্ত। ফলে ভেনেজুয়েলার সঙ্গে ভারতের এই যোগাযোগ আদতে আমেরিকার শর্ত পূরণেরই একটি আগাম প্রস্তুতি ছিল বলে মনে করা হচ্ছে।

ট্রাম্পের দাবি বনাম ভারতের নীরবতা

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ হ্যান্ডেলে লিখেছেন, “প্রধানমন্ত্রী মোদী রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করতে রাজি হয়েছেন। ভারত এখন আমেরিকা এবং ভেনেজুয়েলা থেকে বেশি তেল কিনবে।” ট্রাম্পের মতে, এই পদক্ষেপ রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান ঘটাতে সাহায্য করতে পারে।

অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী মোদী শুল্ক কমানোর জন্য ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানালেও রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধের বিষয়ে এখনও সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি। হোয়াইট হাউসের সূত্র অনুযায়ী, ভারত রাশিয়া থেকে সরে আসার প্রতিশ্রুতি দেওয়ার কারণেই অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ জরিমানা তুলে নেওয়া হচ্ছে।

ভবিষ্যতের পথ

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ভারত নিজের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাশিয়ার কাছ থেকে রেকর্ড পরিমাণ তেল কিনছিল। এখন আমেরিকার সঙ্গে এই নতুন চুক্তির ফলে ভারতের জ্বালানি আমদানির মানচিত্রে বড়সড় বদল আসতে চলেছে। ভেনেজুয়েলা কি শেষ পর্যন্ত রাশিয়ার বিকল্প হয়ে উঠবে? দিল্লির পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই এখন তাকিয়ে আন্তর্জাতিক মহল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.