সুযোগ নষ্টের মাশুল: গোয়ার বিরুদ্ধে গোলশূন্য ড্র করে মাঠ ছাড়ল ইস্টবেঙ্গল

সুযোগ নষ্টের মাশুল: গোয়ার বিরুদ্ধে গোলশূন্য ড্র করে মাঠ ছাড়ল ইস্টবেঙ্গল

ম্যাচের আগে কোচ অস্কার ব্রুজ়ো বারবার ভুল শোধরানোর কথা বলেছিলেন। কিন্তু মাঠে তার প্রতিফলন দেখা গেল না। একাধিক সহজ সুযোগ নষ্ট এবং ফুটবলারদের ‘স্বার্থপর’ মনোভাবের জেরে এফসি গোয়ার বিরুদ্ধে গোলশূন্য ড্র করেই সন্তুষ্ট থাকতে হলো ইস্টবেঙ্গলকে। ম্যাচ শেষে লাল-হলুদ ফুটবলারদের পারফরম্যান্স যে কোচের কপালে চিন্তার ভাঁজ আরও চওড়া করবে, তা বলাই বাহুল্য।

প্রথমার্ধ: সুযোগের অপচয় ও ভাগ্যের সহায়তা

ম্যাচের শুরু থেকেই নিজেদের মধ্যে পাস খেলে আক্রমণে ওঠার চেষ্টা করছিল ইস্টবেঙ্গল। তবে অধিকাংশ সময়ই খেলা সীমাবদ্ধ ছিল নিজেদের অর্ধে।

  • ২৭ মিনিট: ম্যাচের সবচেয়ে সহজ সুযোগটি নষ্ট করেন ইউসেফ এজ়েজারি। বাঁ দিক থেকে বিপিন সিংহের নিখুঁত পাস যখন তাঁর পায়ে পৌঁছায়, সামনে তখন কেবল বিপক্ষ গোলকিপার। কিন্তু তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে বল বারের ওপর দিয়ে উড়িয়ে দেন তিনি।
  • মিগুয়েলের ভুল: এর কিছুক্ষণ পরেই একক দক্ষতায় গোয়ার বক্সে ঢুকে পড়েন মিগুয়েল। আশেপাশে সতীর্থরা থাকলেও পাস না দিয়ে নিজেই শট নিতে যান তিনি, যা সরাসরি গোলকিপারের হাতে জমা পড়ে।
  • ভাগ্য পাশে ছিল: ৩৫ মিনিটের মাথায় বরিস সিংহের শট ইস্টবেঙ্গলের ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। অন্যদিকে, ৪৩ মিনিটে রশিদের শট বাঁচাতে গিয়ে গোয়া গোলকিপার হৃতিক প্রায় আত্মঘাতী গোল করে বসছিলেন, তবে বল বারে লেগে প্রতিহত হয়।

দ্বিতীয়ান্ত: স্বার্থপর ফুটবল ও ছন্নছাড়া আক্রমণ

দ্বিতীয়ার্ধে ইস্টবেঙ্গলের খেলায় দলীয় সংহতির অভাব স্পষ্ট হয়ে ওঠে। বিশেষ করে মিগুয়েলের খেলায় চরম ‘স্বার্থপর’ মনোভাব দেখা যায়। বারবার গোয়ার বক্সে ঢুকেও তিনি সতীর্থদের পাস না দিয়ে গোল করার চেষ্টা করেন, যার ফলে তৈরি হওয়া বহু আক্রমণ নষ্ট হয়।

কোচ অস্কার গোল পেতে পিভি বিষ্ণু এবং ডেভিড লালানসাঙ্গাকে মাঠে নামান। কিন্তু বলের যোগান না থাকায় তাঁরাও বিশেষ সুবিধা করতে পারেননি। উল্টে দেজান দ্রাজ়িচকে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন বিষ্ণু। ম্যাচের সংযুক্তি সময়ে বক্সের ঠিক বাইরে ফ্রি-কিক পেলেও রশিদ ও মিগুয়েল নিজেদের মধ্যে পাস খেলে সেই শেষ সুযোগটিও হাতছাড়া করেন।

রক্ষণে জমাট গোয়া

ইস্টবেঙ্গলের আক্রমণ ভাগ যতটা দিশেহারা দেখিয়েছে, গোয়ার রক্ষণ ছিল ততটাই সুসংহত। লাল-হলুদ ফুটবলারদের ব্যক্তিগত আক্রমণগুলো অনায়াসেই সামলে দেন গোয়ার ডিফেন্ডাররা। সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে পারলে গোয়া হয়তো তিন পয়েন্ট নিয়েই মাঠ ছাড়তে পারত।

ম্যাচ শেষে ইস্টবেঙ্গলের খেলায় সতীর্থদের পাস না দিয়ে একার কৃতিত্ব নেওয়ার যে প্রবণতা দেখা গিয়েছে, তা অস্কার ব্রুজ়োর প্রশিক্ষণ পদ্ধতির ওপর বড় প্রশ্নচিহ্ন দাঁড় করিয়ে দিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.