বাগনানে নিহত বিজেপি কর্মীর বাড়িতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, ‘পাতাল খুঁড়েও খুনিদের ধরার’ নির্দেশ, সিআইডি তদন্তের অগ্রগতি পর্যালোচনা

বাগনানে নিহত বিজেপি কর্মীর বাড়িতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, ‘পাতাল খুঁড়েও খুনিদের ধরার’ নির্দেশ, সিআইডি তদন্তের অগ্রগতি পর্যালোচনা

হাওড়ার বাগনানে রাজনৈতিক সংঘর্ষে নিহত বিজেপি কর্মী প্রশান্ত দে-র পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার বিকেলে বাগনানের আন্টিলা গ্রামে নিহতের বাড়িতে যান তিনি। প্রশান্তবাবুর প্রতিকৃতিতে মাল্যদান করার পাশাপাশি শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে ‘সুবিচারের’ আশ্বাস দেন এবং আর্থিক ক্ষতিপূরণ ও চাকরির ঘোষণা করেন।

পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাতের পর মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি বাগনান থানায় যান। সেখানে উপস্থিত পুলিশ আধিকারিক ও সিআইডি কর্তাদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন এবং মামলার অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে জড়িত কেউ যেন রেহাই না পায়, তা নিশ্চিত করতে তদন্তকারীদের কড়া নির্দেশ দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘দরকারে পাতাল খুঁড়েও অভিযুক্তদের ধরতে হবে।’’

কড়া আইনি পদক্ষেপ ও সিআইডি তদন্ত

মুখ্যমন্ত্রী প্রশান্ত দে হত্যাকাণ্ডের তদন্তভার ইতিমধ্যেই সিআইডি-র হাতে তুলে দিয়েছেন এবং তাঁর নির্দেশেই গত ২১ তারিখ থেকে সিআইডি ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই ঘটনায় দায়ের হওয়া এফআইআরে মোট ৫১ জনের নাম রয়েছে, যার মধ্যে এখনও পর্যন্ত ১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি ৪১ জন অভিযুক্তকে অবিলম্বে গ্রেফতার করার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

তদন্তের গতিপ্রকৃতি নিয়ে শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানান, ‘‘অত্যন্ত নিষ্ঠুর ভাবে প্রাণঘাতী অস্ত্র দিয়ে কয়েক জনকে আঘাত করা হয়েছিল। এখনও কয়েক জন কলকাতার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন, তাঁদের অস্ত্রোপচারও হয়েছে। রাজ্য সরকারের বিশেষ নজরদারিতে তাঁদের চিকিৎসা চলছে।’’ ধৃতদের হেফাজতের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই যাতে চার্জশিট জমা দেওয়া হয়, তার জন্য পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য সরকার পক্ষ থেকে বিশেষ সরকারি আইনজীবী (স্পেশাল পিপি) নিয়োগের কথাও ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী।

আর্থিক সাহায্য ও চাকরির ঘোষণা

নিহত প্রশান্ত দে-র পরিবারকে সব রকম সহায়তার আশ্বাস দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘অর্থ দিয়ে মৃত্যুর ক্ষতিপূরণ হয় না। কিন্তু একমাত্র উপার্জনকারী না-থাকলে সেই পরিবারের পাশে দাঁড়ানো আমাদের কর্তব্য।’’

মুখ্যমন্ত্রীর সফরের আগেই হাওড়ার জেলাশাসকের দফতরের তরফে নিহতের পরিবারকে ৪ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে। শনিবার মুখ্যমন্ত্রী তাঁর তহবিল থেকে আরও ৫ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য প্রদানের ঘোষণা করেন। এর পাশাপাশি:

  • নিহতের বড় মেয়েকে নিয়ম মেনে বিডিও (BDO) অফিসে একটি চুক্তিভিত্তিক চাকরি দেওয়ার কথা জানান।
  • প্রশান্তবাবুর বৃদ্ধ বাবা-মা যাতে দ্রুত বার্ধক্য ভাতা পান, তার ব্যবস্থা করতে জেলাশাসককে নির্দেশ দেন।

ঘটনার প্রেক্ষাপট

গত ১৮ জুন বাগনানের আন্টিলা গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান শেখ মফিজুল ইসলাম দীর্ঘদিন এলাকাছাড়া থাকার পর গ্রামে ফেরেন। বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই তিনি বাইরে ছিলেন। তিনি গ্রামে ফিরলে তাঁর বাড়ির সামনে বেশ কয়েকজন বিজেপি কর্মী জড়ো হন এবং বাড়ি ঘেরাও করা হয় বলে অভিযোগ।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মুহূর্তের মধ্যে দু’পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ, মফিজুল ও তাঁর অনুগামীরা বিজেপি কর্মীদের ওপর চড়াও হলে দু’পক্ষের মধ্যে তুমুল হাতাহাতি ও সংঘর্ষ বেঁধে যায়। ঘটনার জেরে বেশ কয়েকজন গুরুতর জখম হন। তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা প্রশান্ত দে-কে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.