নিট (NEET) প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে যন্তর মন্তরে আন্দোলনকারী ছাত্র-যুবদের ওপর ‘পুলিশি বাড়াবাড়ির’ অভিযোগ খতিয়ে দেখতে বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করা হবে কি না—সেই সংক্রান্ত মামলার শুনানি আজ, সোমবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের এজলাসে উঠতে চলেছে। পূর্ববর্তী শুনানিতে শীর্ষ আদালত ইঙ্গিত দিয়েছিল যে, সুপ্রিম কোর্টের এক অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে একটি নিরপেক্ষ তদন্তকারী দল গঠন করা হতে পারে। একই সঙ্গে, আন্দোলনস্থল থেকে পুলিশের ওপর হামলা চালিয়েছে কারা—তারা সাধারণ পড়ুয়া নাকি কোনো দুষ্কৃতী দল—তা-ও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছে আদালত।
অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগ যন্তর মন্তরে নিট প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে রত আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, তাঁদের ওপর পুলিশ অন্যায়ভাবে লাঠিচার্জ এবং ছর্রা গুলি চালিয়েছে। অন্যদিকে, পুলিশের পক্ষ থেকে পাল্টা অভিযোগ তোলা হয়েছে যে, আন্দোলনস্থল থেকে কর্তব্যরত পুলিশকর্মীদের ওপর আক্রমণ চালানো হয়েছে। বর্তমানে দুটি বিষয়ই দেশের সর্বোচ্চ আদালতে বিচারাধীন।
সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ ও সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণের নির্দেশ গত ২৮ জুলাইয়ের শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চ স্পষ্ট জানায়, এই ঘটনার একটি সম্পূর্ণ স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। যাঁরা আইন নিজের হাতে তুলে নিয়েছেন কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন, তাঁদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা উচিত।
তবে সিট গঠনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে কেন্দ্র ও সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলির বক্তব্য জানতে চায় আদালত। নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে যে সমস্ত রাজ্যে বিক্ষোভ ছড়িয়েছিল, সেখানকার সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ, ড্রোন ফুটেজ, নিরাপত্তাবাহিনীর বডি-ক্যামেরা ফুটেজ, ওয়্যারলেস কথোপকথন এবং পিসিআর (PCR) রেকর্ড সহ সমস্ত ডিজিটাল তথ্য সংরক্ষণের কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
রাজ্যগুলির ভূমিকা ও সোমবারের শুনানি এই বিষয়ে অবস্থান স্পষ্ট করার জন্য পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, অসম, মহারাষ্ট্র, উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ এবং কেরল—এই সাতটি রাজ্য সরকারকে নোটিস পাঠায় সুপ্রিম কোর্ট। সোমবারের শুনানিতে সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলির অ্যাডভোকেট জেনারেলদের (Advocate General) ভার্চুয়ালি হাজির থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ দিনের শুনানিতে কেন্দ্র ও পশ্চিমবঙ্গসহ অন্যান্য রাজ্য সরকারগুলি কী অবস্থান গ্রহণ করে, সেদিকেই নজর রাখছে বিভিন্ন মহল।
বিক্ষোভকারীদের সুরক্ষা ও পূর্ববর্তী নির্দেশ উল্লেখ্য, গত শুনানিতেই শীর্ষ আদালত নির্দেশ দিয়েছিল যে, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে আপাতত কোনো কড়া বা নিপীড়নমূলক পদক্ষেপ করা যাবে না। পাশাপাশি, ধৃতদের মধ্যে যাদের বয়স ১৮ বছরের নিচে এবং যাদের বিরুদ্ধে কোনো পূর্ব অপরাধমূলক রেকর্ড নেই, তাদের অবিলম্বে ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে দিল্লি সরকার এবং অন্যান্য রাজ্যের দায়ের করা মূল এফআইআর-এর (FIR) ভিত্তিতে পুলিশি তদন্ত প্রক্রিয়া চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি বহাল রেখেছে আদালত।

