আরজি করের চিকিৎসকের তড়িঘড়ি সৎকার ও তথ্যপ্রমাণ লোপাটের চেষ্টার অভিযোগে তৃণমূল আমলের পানিহাটির প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষ এবং প্রাক্তন কাউন্সিলর সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়কে ১৪ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠাল ব্যারাকপুর মহকুমা আদালত। একই সাথে, ধৃতদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া পুরনো তোলাবাজি ও বেআইনি লটারি সংক্রান্ত পৃথক মামলাতেও যথাক্রমে পুলিশি ও বিচার বিভাগীয় হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। অন্যদিকে, এই ঘটনার সাথে যুক্ত তৃতীয় অভিযুক্ত সোমনাথ দে-কে দ্রুত গ্রেফতারের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
নির্যাতিতার বাবার নতুন অভিযোগ ও জবানবন্দি
২০২৪ সালের ৯ আগস্ট আরজি কর হাসপাতালে চিকিৎসক-ছাত্রীকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার পর, তাঁর দেহ দ্রুত দাহ করার পেছনে রাজনৈতিক প্রভাব ও চাপের অভিযোগ তুলে সম্প্রতি আদালতের কাছে গোপন জবানবন্দি দেন মৃতার বাবা। পানিহাটির বর্তমান বিধায়কের স্বামীর সাথে যৌথভাবে তিনি খড়দহ থানায় নতুন একটি অভিযোগও দায়ের করেন।
অভিযোগে জানানো হয়েছে, ময়নাতদন্তের পর মৃতদেহের শেষ শ্রদ্ধা জানানোর পর্যাপ্ত সময় না দিয়েই জোরপূর্বক দ্রুত শ্মশানে নিয়ে যাওয়ার জন্য পরিবারকে বাধ্য করা হয়েছিল। ওই তিন অভিযুক্ত ও তাঁদের সঙ্গীরা বাড়িতে গিয়ে চাপ সৃষ্টি করেছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়। মৃতার বাবার এই নয়া অভিযোগ ও গোপন জবানবন্দির ওপর ভিত্তি করেই প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষ এবং প্রাক্তন কাউন্সিলর সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়কে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘শোন অ্যারেস্ট’ দেখানো হয়েছে। যদিও সংশ্লিষ্ট ধারাবোঝাই জামিনযোগ্য, তবুও অভিযোগের গুরুত্ব বিচারে আদালত তাঁদের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেয়।
পুরনো মামলাতেও পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ
আদালত সূত্রে জানা গেছে, আরজি কর মামলা ছাড়াও ধৃতদের বিরুদ্ধে একাধিক পুরনো মামলার তদন্ত শুরু হয়েছে:
- নির্মল ঘোষ: বিধানসভা নির্বাচন উত্তর তোলাবাজি, বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন এবং ২০২৪ সালের একটি লটারি মামলার সাথে যুক্ত থাকার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হয়েছে। লটারি সংক্রান্ত মামলায় আদালত তাঁকে ৮ দিনের পুলিশি হেফাজত এবং তোলাবাজির মামলায় বিচার বিভাগীয় হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে। (উল্লেখ্য, লটারি মামলায় তাঁর পুত্র তীর্থঙ্কর ঘোষ আগেই গ্রেফতার হয়েছেন।)
- সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়: নির্যাতিতার প্রতিবেশী-কাকা তথা প্রাক্তন কাউন্সিলর সঞ্জীবের বিরুদ্ধে একটি পুরনো আর্থিক তছরুপ ও তোলাবাজির মামলায় ৭ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
হেফাজতে চিকিৎসার নির্দেশ ও পুলিশকে মুখ্যমন্ত্রীর ধন্যবাদ
শুক্রবার খড়দহ থানা থেকে আদালতে নিয়ে যাওয়ার সময় বিক্ষোভরত জনতার হাতে ধৃত দুজন শারীরিক হেনস্থার শিকার হন বলে অভিযোগ তোলা হয়। আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে বিচারক স্পষ্ট জানিয়েছেন, পুলিশ হেফাজতে থাকাকালীন নির্মল ও সঞ্জীবের প্রয়োজনীয় সমস্ত চিকিৎসার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
এই পুরো তদন্ত প্রক্রিয়ায় ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের সক্রিয়তায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি ব্যারাকপুরের পুলিশ কমিশনার অমিত সিংহকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “রাজ্য পুলিশ ‘ক্রিমেশন স্ক্যাম’ বা সৎকার দুর্নীতির তদন্তে দ্রুত পদক্ষেপ করেছে। বাকি তৃতীয় অভিযুক্তকেও হয় দ্রুত গ্রেফতার করা হোক, না হয় তিনি আত্মসমর্পণ করুন।”
প্রসঙ্গতঃ ওড়িশা থেকে নির্মল ঘোষ এবং চিনারপার্ক থেকে সঞ্জীব মুখোপাধ্যায় গ্রেফতার হলেও, মামলার তৃতীয় অভিযুক্ত সোমনাথ দে এখনও পলাতক।

