সম্প্রতি হঠাৎ শারীরিক অস্বস্তি বোধ করায় তড়িঘড়ি দিল্লির এইমস (AIIMS)-এর হৃদরোগ বিভাগে ভর্তি করা হয় কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডাকে। সেখানে তাঁর করোনারি অ্যাঞ্জিওগ্রাফি (Coronary Angiography) করা হয়। বর্তমানে তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানা গেছে। তবে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর এই আচমকা অসুস্থতা হৃদরোগের আগাম সতর্কতা ও প্রাথমিক লক্ষণ চিহ্নিত করার গুরুত্বকে আরও একবার সামনে এনে দিয়েছে।
চিকিৎসকদের মতে, পরিবারে হৃদরোগের ইতিহাস থাকলে বা পূর্বে হার্ট অ্যাটাকের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের সামান্য শারীরিক অস্বস্তি বা বুকে ব্যথাকেও অবহেলা করা বিপজ্জনক হতে পারে।
কোন কোন লক্ষণ দেখলে সতর্ক হবেন?
আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের (American Heart Association) তথ্যানুযায়ী, বুকে ব্যথা, বুক ধড়ফড় করা, মাত্রাতিরিক্ত ঘাম হওয়া, শ্বাসকষ্ট, মাথা ঘোরা এবং হাত-পা অসাড় হয়ে আসা হার্ট অ্যাটাকের অন্যতম প্রধান লক্ষণ। এছাড়া বিশ্রামের সময়েও বুকে চাপ অনুভব করা মোটেই ভালো লক্ষণ নয়।
এই বিষয়ে বিশিষ্ট কার্ডিওথোরাসিক ও ভাস্কুলার সার্জন ড. সুশান মুখোপাধ্যায় জানান, “হৃদরোগের লক্ষণ সবার ক্ষেত্রে একরকম নাও হতে পারে। অনেক সময় মনে হতে পারে বুকে ভারী কোনো ওজন চেপে বসেছে। আবার কখনো বুকে, ঘাড়ে, হাতে কিংবা পিঠের দিকেও ব্যথা ছড়াতে পারে। এই ধরনের ব্যথা টানা হতে পারে অথবা দফায় দফায় দেখা দিতে পারে। এমন লক্ষণ দেখা দিলে বিলম্ব না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। একমাত্র চিকিৎসকই পর্যবেক্ষণ করে সিদ্ধান্ত নেবেন যে পরীক্ষা বা অ্যাঞ্জিওগ্রাফির প্রয়োজন আছে কি না।”
করোনারি অ্যাঞ্জিওগ্রাফি ও অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টি কী?
হৃদপিণ্ডের সক্রিয়তা বজায় রাখতে রক্ত ও অক্সিজেন সরবরাহ করে ‘করোনারি আর্টারি’ বা ধমনী। কোনো কারণে এই ধমনীর দেয়ালে চর্বির স্তর (প্লাক) জমে পথ অবরুদ্ধ হলে হার্টে প্রয়োজনীয় রক্ত পৌঁছাতে পারে না। এর ফলে অক্সিজেনের ঘাটতি তৈরি হয়, বুক ধড়ফড় করে এবং দমবন্ধ হয়ে আসার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়।
- করোনারি অ্যাঞ্জিওগ্রাফি: এটি মূলত হৃদপিণ্ডের রক্তনালীর এক বিশেষ ধরনের এক্স-রে পরীক্ষা। এর মাধ্যমে ধমনীর ঠিক কোন স্থানে ব্লকেজ রয়েছে, ব্লকেজের পরিমাণ কতটা এবং ভবিষ্যতে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি রয়েছে কি না, তা নির্ণয় করা হয়। এটি কোনো চিকিৎসা নয়, বরং সঠিক চিকিৎসা নির্ধারণের নির্ণায়ক পরীক্ষা।
- করোনারি অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টি: যদি ওষুধে ব্লকেজ না কমে এবং ব্লকেজের পরিমাণ ৭০ শতাংশের বেশি হয়, তখন অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টি করা হয়। এতে কোনো বড় কাটাছেঁড়া না করে একটি সরু ও নমনীয় নলের (ক্যাথেটার) সাহায্যে ধমনীর ভিতর বেলুন ফুলিয়ে জমানো চর্বি সরিয়ে দেওয়া হয় এবং রক্ত চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সেখানে একটি স্টেন্ট বা রিং বসানো হয়।

