আর জি কর হাসপাতালের তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের মামলায় নতুন মোড়। সাজাপ্রাপ্ত আসামী সঞ্জয় রায়কে ফের জেরা করার অনুমতি দিল কলকাতা হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার বিচারপতি রাজশেখর মান্থা নির্দেশ দিয়েছেন যে, সিবিআই চাইলে সঞ্জয় রায় এবং মামলার অন্যান্য সন্দেহভাজনদের নতুন করে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবে। আদালতের পর্যবেক্ষণ, এই অপরাধের নেপথ্যে সঞ্জয় রায়ের কাছে আরও অনেক তথ্য থাকতে পারে।
আধুনিক প্রযুক্তিতে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ
বিচারপতি রাজশেখর মান্থা তাঁর নির্দেশে স্পষ্ট করেছেন যে, তদন্তের প্রয়োজনে সিবিআই সমস্ত ধরনের আধুনিক পদ্ধতি ও প্রযুক্তির ব্যবহার করতে পারবে। দীর্ঘ শুনানির পর বিচারপতির মন্তব্য, “সঞ্জয় রায় অনেক কিছু জানে বলে মনে হয়। সিবিআই যেন জিজ্ঞাসাবাদের ক্ষেত্রে কোনও দ্বিধা না করে।” লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচনের আবহে আদালতের এই নির্দেশ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
রাজ্য সরকারের আপত্তিতে ক্ষোভ প্রকাশ আদালতের
মামলার শুনানিতে নির্যাতিতার পরিবার পুনরায় ঘটনাস্থল পরিদর্শনের আবেদন জানিয়েছিল। সিবিআই এই আবেদনে আপত্তি না জানালেও, রাজ্য সরকার এর বিরোধিতা করে। এই প্রসঙ্গে বিচারপতি প্রশ্ন তোলেন, “মৃত চিকিৎসকের পরিবার ঘটনাস্থল নতুন করে দেখতে চাইছে, তাতে সিবিআই-এর আপত্তি নেই। তাহলে রাজ্যের আপত্তি কোথায়? সিবিআই যদি তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যেতে চায়, তবে রাজ্যের বাধা দেওয়ার কথা নয়।”
প্রেক্ষাপট: ২০২৪-এর সেই অভিশপ্ত অগস্ট
২০২৪ সালের অগস্টে আর জি কর হাসপাতালের ভেতর ডিউটিরত অবস্থায় জুনিয়র ডাক্তারকে ধর্ষণের পর খুনের ঘটনায় উত্তাল হয়েছিল গোটা দেশ। কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে দীর্ঘ আন্দোলন চালিয়েছিলেন চিকিৎসকরা। ঘটনার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্ত সিভিক ভলান্টিয়ার সঞ্জয় রায়কে গ্রেফতার করে কলকাতা পুলিশ। পরে সিবিআই তদন্তভার গ্রহণ করে এবং তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে আদালত সঞ্জয় রায়কে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়। তবে নির্যাতিতার বাবা-মা প্রথম থেকেই দাবি করে আসছেন যে, এই ঘটনায় সঞ্জয় একা নয়, আরও অনেকে জড়িত।
নির্বাচনী আবহে নতুন আশার আলো
বর্তমানে রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বেজেছে। নির্যাতিতার মা বিজেপি প্রার্থী হিসেবে পানিহাটি কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এই রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেই হাইকোর্টের নতুন নির্দেশ নির্যাতিতার পরিবারের মনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। আদালতের নির্দেশের পর পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, “আমরা নতুন করে আশার আলো দেখতে পাচ্ছি। আমাদের দীর্ঘদিনের দাবি, এই ঘটনায় কেবল একজন দোষী নয়। এবার হয়তো নেপথ্যে থাকা অন্যদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ আসবে।”
আদালতের এই নতুন নির্দেশের পর সিবিআই এবার কোন পথে তদন্ত এগোয় এবং নতুন কোনও তথ্য সামনে আসে কি না, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে গোটা রাজ্য। পুলিশের তৎকালীন ভূমিকার পর কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার এই পুনরায় জিজ্ঞাসাবাদ মামলাটিকে কোন দিকে নিয়ে যায়, তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে।

