‘অপারেশন সিঁদুর’ এবং তার পরবর্তী ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের সময়ে ভারতের সর্বাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এস-৪০০ (S-400) কোথায় মোতায়েন রয়েছে, তা খুঁজে বের করতে চরম তৎপরতা চালিয়েছিল পাকিস্তান। এমনকি এই গোপন তথ্য জোগাড় করতে ভারতের অভ্যন্তরে গুপ্তচর নিয়োগ ও স্লিপার সেল সক্রিয় করা হয়েছিল বলে চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস করেছেন ভারতের এয়ার মার্শাল জিতেন্দ্র মিশ্র।
এস-৪০০ এর খোঁজ ও পাকিস্তানের গুপ্তচরবৃত্তি
সংবাদসংস্থা এএনআই-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এয়ার মার্শাল জিতেন্দ্র মিশ্র জানান যে, অপারেশন সিঁদুর অভিযানের পর পাকিস্তানের প্রধান লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছিল ভারতের এস-৪০০ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সঠিক অবস্থান চিহ্নিত করা। পাকিস্তানের ছোঁড়া প্রায় প্রতিটি আকাশপথের হামলা এই এস-৪০০ সফলভাবে প্রতিহত করায় ইসলামাবাদ এটিকে তাদের সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধক হিসেবে গণ্য করেছিল।
জিতেন্দ্র মিশ্রের কথায়, পাকিস্তানের গোয়েন্দারা ভারতের অভ্যন্তরে স্লিপার সেল সক্রিয় করা ছাড়াও একাধিক উপায়ে এস-৪০০ এর সন্ধান চালানোর চেষ্টা করেছিল। শুধু তাই নয়, এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অবস্থান জানতে অন্য কোনো দেশের কৃত্রিম উপগ্রহের (স্যাটেলাইট) সাহায্যও নিয়েছিল পাকিস্তান, যদিও তিনি নির্দিষ্ট কোনো দেশের নাম প্রকাশ করেননি।
আদমপুর বায়ুসেনা ঘাঁটিতে হামলা ও এস-৪০০ এর কার্যকারিতা
ভারত-পাকিস্তান সংঘর্ষ চলাকালীন পঞ্জাবের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ আদমপুর বায়ুসেনা ঘাঁটিতে ব্যাপক হামলা চালায় পাকিস্তান। জিতেন্দ্র মিশ্রের দাবি, ওই ঘাঁটিতেই এস-৪০০ লুকিয়ে রাখা হয়েছে বলে ভুল ধারণা ছিল ইসলামাবাদের, আর সেই উদ্দেশ্যেই ওই হামলা চালানো হয়েছিল। তবে পাকিস্তানের সেই ষড়যন্ত্র সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়।
অপারেশন সিঁদুর পরবর্তী সংঘাতে ভারতের প্রধান রক্ষাকবচ হিসেবে অবতীর্ণ হয়েছিল এই রুশ নির্মিত অস্ত্র ব্যবস্থা। বায়ুসেনার তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৩০০ কিলোমিটার দূর থেকেই পাকিস্তানি যুদ্ধবিমানে নিখুঁত নিশানায় আঘাত হানতে সক্ষম এই দূরপাল্লার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। পাশাপাশি সীমান্তের ওপার থেকে আসা বহু ক্ষেপণাস্ত্র, রকেট ও বোমা সফলভাবে প্রতিহত করেছে এটি। বর্তমানে ভারতীয় বায়ুসেনার অস্ত্রভান্ডারে এমন চারটি সক্রিয় এস-৪০০ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে, যা দেশের আকাশ নিরাপত্তাকে বহুলাংশে সুদৃঢ় করেছে।

