প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দু’দিনের ইজ়রায়েল সফর ভারত ও ইজ়রায়েলের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের এক নতুন অধ্যায় সূচনা করল। সফরের শেষ লগ্নে প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন যে, খুব শীঘ্রই ইজ়রায়েলে ভারতের ডিজিটাল পেমেন্ট মাধ্যম ‘ইউপিআই’ (UPI) চালু হতে চলেছে। পাশাপাশি, দুই দেশের মধ্যে শীঘ্রই একটি ব্যাপক ভিত্তিক মুক্ত বাণিজ্য সমঝোতা (FTA) স্বাক্ষরিত হবে বলেও যৌথ সম্মেলনে জানানো হয়েছে।
‘বন্ধুর থেকেও বেশি’: মোদীকে ভ্রাতৃসম সম্বোধন নেতানিয়াহুর
ইজ়রায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু মোদীকে কেবল বিশ্বনেতা হিসেবেই নয়, বরং ‘ভ্রাতৃসম বন্ধু’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। বিমানবন্দরে আলিঙ্গন থেকে শুরু করে যৌথ সম্মেলন— সর্বত্রই দুই নেতার ব্যক্তিগত রসায়ন ছিল চোখে পড়ার মতো। নেতানিয়াহু বলেন, “আমার প্রিয় বন্ধু নরেন্দ্র, আপনি ইজ়রায়েলের বড় বন্ধু এবং বিশ্বের মহান নেতা। আপনি আমার কাছে বন্ধুর থেকেও বেশি কিছু, আপনি আমার ভাইয়ের মতো।” এমনকি প্রথম ‘ডেটে’ স্ত্রীকে নিয়ে ভারতীয় রেস্তরাঁয় যাওয়ার স্মৃতিচারণ করে মোদীর প্রতি রসিকতাচ্ছলে নিজের ‘ঋণস্বীকার’ও করেন নেতানিয়াহু।
ইউপিআই ও মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA)
দুই দেশের অর্থনৈতিক বন্ধন আরও দৃঢ় করতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে:
- UPI সংযোগ: দুই দেশের ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেমের মধ্যে সংযোগ স্থাপনের চুক্তিতে সই হয়েছে। এর ফলে ভারতীয় পর্যটক ও ব্যবসায়ীরা ইজ়রায়েলে সহজেই লেনদেন করতে পারবেন।
- মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি: মে মাসে দ্বিতীয় দফার বৈঠকের মাধ্যমে এফটিএ (FTA) চূড়ান্ত করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রক সূত্রে খবর, যন্ত্রাংশ, রাসায়নিক, বস্ত্র, কৃষি, চিকিৎসা পরিষেবা এবং প্রযুক্তির ক্ষেত্রে শুল্কমুক্ত বাণিজ্যের পথ প্রশস্ত হবে। উল্লেখ্য, ভারত বর্তমানে এশিয়ায় ইজ়রায়েলের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার।
‘হলোকস্ট’ স্মারকে শ্রদ্ধা ও নেসেট মেডেল সম্মান
বৃহস্পতিবার সকালে প্রধানমন্ত্রী মোদী ১৯৫৩ সালে নির্মিত ‘ইয়াদ ভাশেন’ হলোকস্ট স্মারক কেন্দ্রে গিয়ে নাৎসিদের হাতে নিহত ৬০ লক্ষ ইহুদিকে শ্রদ্ধা জানান। একে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ কূটনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এরপর ইজ়রায়েলি পার্লামেন্ট নেসেটে তাঁর বক্তৃতার পর তাঁকে সম্মানজনক ‘স্পিকার অফ দ্য নেসেট মেডেল’ প্রদান করা হয়। মোদীই প্রথম ভারতীয় রাষ্ট্রনেতা যিনি এই বিরল সম্মান পেলেন।
সন্ত্রাসবাদ ও ভূ-রাজনীতি
নেতানিয়াহুর পাশে দাঁড়িয়ে মোদী স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে, পৃথিবীতে সন্ত্রাসবাদের কোনও স্থান নেই। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার কঠোর নিন্দা করায় ভারতকে ধন্যবাদ জানান নেতানিয়াহু। অন্যদিকে, বিদেশ মন্ত্রক সূত্রে খবর, গাজ়া পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘বোর্ড অফ পিস’-এ ভারত পর্যবেক্ষক হিসেবে যোগ দিয়েছে।
এক নজরে সফরের প্রাপ্তি
| বিষয় | বিবরণ |
| আর্থিক প্রযুক্তি | ইজ়রায়েলে ভারতীয় UPI সিস্টেমের আনুষ্ঠানিক প্রবেশ। |
| বাণিজ্য | মে মাসে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (FTA) দ্বিতীয় দফার বৈঠক। |
| প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তি | দুই দেশের মধ্যে একাধিক মউ (MoU) স্বাক্ষর। |
| সম্মাননা | স্পিকার অফ দ্য নেসেট মেডেল জয়ী প্রথম ভারতীয়। |
| স্মৃতিস্তম্ভ সফর | ইয়াদ ভাশেন হলোকস্ট স্মারক কেন্দ্রে শ্রদ্ধাঞ্জলি। |
প্রধানমন্ত্রী মোদী এই সফল সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধানই মনে করছেন, এই সফর পশ্চিম এশিয়ার স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

