ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, বাণিজ্য এবং কৌশলগত সহযোগিতার নানাবিধ দিক নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে দূরভাষে বিস্তারিত আলোচনা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বুধবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী নিজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে (এক্স-পোস্ট) এই ফোনালাপের কথা প্রকাশ্যে আনেন।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য ও আলোচনার ক্ষেত্র সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী মোদী জানান, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। তাঁরা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পাশাপাশি প্রতিরক্ষা, জ্বালানি, গুরুত্বপূর্ণ ও উদীয়মান প্রযুক্তি এবং অন্যান্য কৌশলগত ক্ষেত্রে ভারত-মার্কিন সহযোগিতার অগ্রগতি পর্যালোচনা করেছেন।
বিশ্বজুড়ে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার বিষয়ে বার্তা দিয়ে মোদী লেখেন, “আমরা আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নানাবিধ বিষয় নিয়ে মতবিনিময় করেছি। বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তার অগ্রগতির স্বার্থে ধারাবাহিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে আমরা উভয়েই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।” এছাড়াও আন্তর্জাতিক পরিসরে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করতে দু’পক্ষই ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রাখার বিষয়ে একমত প্রকাশ করেছেন।
কূটনৈতিক গুরুত্ব ও সম্ভাব্য প্রভাব পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রের খবর, দুই রাষ্ট্রপ্রধানের আলোচনার টেবিলে রাশিয়া থেকে ভারতের অপরিশোধিত তেল আমদানির ওপর সম্ভাব্য মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি এবং পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি গুরুত্ব লাভ করেছে।
রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, এই ফোনালাপের সময়কাল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সম্প্রতি মার্কিন কংগ্রেসে ‘লিন্ডসে ও গ্রাহাম স্যাঙ্কশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট অফ ২০২৬’ বিলটি পাস হয়েছে। এটি কার্যকর হলে রাশিয়া থেকে তেল কেনার সূত্রে ভারতীয় পণ্যের ওপর ওয়াশিংটন শত শতাংশ (১০০%) পর্যন্ত অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করতে পারে, যা বর্তমানে গড়ে প্রায় ১২ শতাংশের কাছাকাছি। এমন এক আবহে এবং ইরাক থেকে মার্কিন সেনা পুরোপুরি প্রত্যাহারের দিনেই দুই রাষ্ট্রনেতার এই আলোচনাকে কূটনৈতিক দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

