ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দক্ষিণ আফ্রিকার জয়ে আত্মবিশ্বাসের রসদ আগেই পেয়েছিল ভারত। বৃহস্পতিবার চিপক স্টেডিয়ামে সেই আত্মবিশ্বাসকেই মাঠের পারফরম্যান্সে রূপান্তরিত করলেন সূর্যকুমার যাদবরা। ব্যাটিং তাণ্ডবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে ভারতের সর্বোচ্চ স্কোর গড়ার পর, জিম্বাবোয়েকে ৭২ রানে হারিয়ে সেমিফাইনালের লড়াইয়ে প্রবলভাবে টিকে রইল টিম ইন্ডিয়া। রবিবার কলকাতার ইডেনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে কার্যত ‘কোয়ার্টার ফাইনাল’ ম্যাচে নামবে ভারত।
ওপেনিংয়ে বড় বদল: সঞ্জু-অভিষেক ম্যাজিক
টপ অর্ডারের ব্যর্থতা কাটাতে এদিন একাদশে ফেরানো হয় সঞ্জু স্যামসনকে। অভিষেক শর্মার সঙ্গে তাঁর ওপেনিং জুটি চলতি বিশ্বকাপে ভারতের সেরা শুরু এনে দেয়। স্যামসন ১৫ বলে ২৪ রান করে আউট হলেও পাওয়ার প্লে-র সদ্ব্যবহার করে ৪ ওভারেই দলের স্কোর ৫০ পার করে দেন। অভিষেক শর্মা ২৬ বলে হাফ-সেঞ্চুরি পূরণ করে শেষ পর্যন্ত ৩০ বলে ৫৫ রান (৪টি চার ও ৪টি ছক্কা) করেন। মূলত সঞ্জু থাকায় ডানহাতি-বাঁহাতি কম্বিনেশনের চাপে পড়ে প্রথম ওভারে বল করতে আসার সাহস দেখাননি জিম্বাবোয়ে অধিনায়ক সিকন্দর রাজা।
১৯ বছর পর যুবরাজদের রেকর্ড চূর্ণ
এদিন ভারতের প্রায় প্রতিটি ব্যাটারই রুদ্রমূর্তি ধারণ করেছিলেন। ঈশান কিশন (৩৮) ও সূর্যকুমার যাদবের (৩৩) ক্যামিওর পর ইনিংসের হাল ধরেন হার্দিক পাণ্ড্য ও তিলক বর্মা।
- রেকর্ড জুটি: হার্দিক ও তিলক মাত্র ৩১ বলে ৮৪ রানের বিধ্বংসী জুটি গড়েন।
- হার্দিকের তাণ্ডব: ইনিংসের শেষ দুই বলে ছক্কা মেরে ২৩ বলে হাফ-সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন হার্দিক। ১৬ বলে ৪৪ রানে অপরাজিত থাকেন তিলক।
- সর্বোচ্চ স্কোর: ভারত ২০ ওভারে ৪ উইকেটে ২৫৬ রান তোলে। এটি বিশ্বকাপের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ এবং ২০০৭ সালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে করা ২১৮ রানের রেকর্ড ভেঙে ভারতের সর্বোচ্চ সংগ্রহ।
লড়াই করেও হার জিম্বাবোয়ের
২৫৭ রানের পাহাড়প্রমাণ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে জিম্বাবোয়ে শুরু থেকেই রানরেটের চাপে পড়ে যায়। যদিও ব্রায়ান বেনেট একার হাতে লড়াই চালিয়ে যান।
- বেনেটের লড়াই: ৩৪ বলে হাফ-সেঞ্চুরি করা বেনেট শেষ পর্যন্ত ৯৭ রানে অপরাজিত থাকেন।
- বোলিং বিশ্লেষণ: অক্ষর প্যাটেল ২০ রানে প্রথম উইকেট নিয়ে চাপ তৈরি করেন। বরুণ চক্রবর্তী ও অর্শদীপ সিংহরা নিয়ন্ত্রিত বোলিং করলেও অধিনায়ক সূর্যের একটি সিদ্ধান্তে জয়ের ব্যবধান কিছুটা কমে। ৫ জন বিশেষজ্ঞ বোলার থাকা সত্ত্বেও শিবম দুবের হাতে বল তুলে দেন সূর্য। দুবে ২ ওভারে ৪৬ রান খরচ করায় জিম্বাবোয়ে লড়াইয়ে কিছুটা অক্সিজেন পায়।
ইডেনে ‘মরণ-বাঁচন’ লড়াইয়ের হাতছানি
জিম্বাবোয়েকে ১৮৪ রানে আটকে দিয়ে ৭২ রানের বড় জয় পেলেও ভারতীয় শিবিরের চিন্তা থাকছে ডেথ ওভারের বোলিং নিয়ে। বিশেষ করে বুমরাহ বা বরুণদের বিরুদ্ধেও যেভাবে বেনেটরা বড় শট খেলেছেন, তাতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মতো পাওয়ার হিটারদের বিরুদ্ধে নামার আগে বাড়তি সতর্ক থাকতে হবে গৌতম গম্ভীরদের। রবিবার ইডেনের জয়ী দলই সরাসরি পৌঁছে যাবে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে।

