সোমবার রাতে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে এক অপ্রীতিকর ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আয়োজিত একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে অরবিন্দ ভবন থেকে বেরোনোর সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটের সামনে পড়ে যান উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য। সোমবার রাত সওয়া নয়টা নাগাদ এই ঘটনা ঘটে।
বৈঠকের প্রেক্ষাপট ও ছাত্র বিক্ষোভ
বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এদিন বিকেলে উপাচার্য, সহ-উপাচার্য, রেজিস্ট্রার, শিক্ষকদের একাংশ এবং বাম ও এবিভিপি (ABV-P) ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধিরা এক বৈঠকে অংশ নেন। তবে আলোচনার মাঝেই বৈঠক ছেড়ে বেরিয়ে যান এবিভিপি সদস্যরা। অন্যদিকে, বাম ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধিরা শুরু থেকেই তাদের চার দফা দাবি পেশ করেন এবং দাবি না মানলে ঘেরাওয়ের হুশিয়ারি দেন।
বাম ছাত্র সংগঠনের চার দফা দাবি
- পদত্যাগ ও স্থগিতাদেশ: ‘স্টুডেন্ট গ্রিভান্স রিড্রেসাল সেল’-এর চেয়ারম্যান পদ থেকে বুদ্ধদেব সাউকে সরাতে হবে এবং তদন্ত চলাকালীন তিনি কোনো ক্লাস নিতে পারবেন না।
- কমিটি পুনর্গঠন: তদন্ত কমিটি পুনর্গঠন করে সেখানে ছাত্র প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
- সাসপেনশন: সিসিটিভি ফুটেজে চিহ্নিত শিক্ষক ও পড়ুয়াদের সকলকে অবিলম্বে সাসপেন্ড করতে হবে।
উপাচার্যের পড়ে যাওয়া ও সংশ্লিষ্ট প্রতিক্রিয়া
বৈঠক শেষে ‘সি আর ওয়ান’ গেটের সামনে পৌঁছানোর পর উপাচার্য যখন পড়ুয়াদের ভিড় এড়িয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করছিলেন, সেই সময় তিনি মাটিতে পড়ে যান। জানা গেছে, গেটের সামনে তখন বাম ছাত্র সংগঠনের সদস্যরা অবস্থান করছিলেন। নিরাপত্তারক্ষীরা দ্রুত এগিয়ে এসে তাঁকে উদ্ধার করে গাড়িতে তুলে দেন।
এই ঘটনা প্রসঙ্গে আরএসএফ (RSF)-এর ইন্দ্রানুজ রায় দাবি করেন, উপাচার্যকে কোনো ধাক্কা দেওয়া হয়নি এবং তাঁর গায়ে হাতও তোলা হয়নি। তাঁর মতে, উপাচার্য “নাটক করছেন”। এই বিষয়ে উপাচার্যের তরফ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্রশাসনের পদক্ষেপ ও বর্তমান পরিস্থিতি
উত্তেজনাপূর্ণ এই পরিস্থিতির মধ্যেই প্রশাসনের পক্ষ থেকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তদন্ত কমিটির নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে কলকাতা হাই কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি প্রণবকুমার চট্টোপাধ্যায়কে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং বর্তমান ‘স্টুডেন্ট গ্রিভান্স রিড্রেসাল সেল’ ভেঙে দেওয়া হয়েছে। তবে এই পদক্ষেপেও সন্তুষ্ট না হয়ে বাম ছাত্র সংগঠনের একাংশ বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে অবস্থানে অনড় রয়েছে এবং পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

