দীর্ঘ অস্থিরতা ও দীর্ঘমেয়াদী রাষ্ট্রপতি শাসনের পর অবশেষে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরছে মণিপুরের সংসদীয় রাজনীতি। মঙ্গলবার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের এই গোষ্ঠীহিংসা কবলিত রাজ্যে বিজেপি পরিষদীয় দলের নতুন নেতা হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে মণিপুর বিধানসভার প্রাক্তন স্পিকার ইয়ুমনান খেমচাঁদ সিংহকে। এর মাধ্যমেই রাজ্যে পুনরায় নির্বাচিত সরকার গঠনের প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিক ভাবে শুরু হলো।
দীর্ঘ টানাপড়েন ও দিল্লি বৈঠক
মণিপুরের ভবিষ্যৎ রূপরেখা নির্ধারণে গত সপ্তাহেই বিজেপি ও সহযোগী দলগুলোর বিধায়কদের দিল্লিতে তলব করা হয়েছিল। মঙ্গলবার রাতে বিজেপির সদর দপ্তরে কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক তরুণ চুগ এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা সম্বিত পাত্রের উপস্থিতিতে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সহযোগী দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার পর সর্বসম্মতিক্রমে খেমচাঁদের নাম ঘোষণা করা হয়। বিজেপির দাবি, এই নেতৃত্বের রদবদল রাজ্যে শান্তি ফেরাতে সহায়ক হবে।
রাজনৈতিক পটভূমি: তৃণমূল থেকে মুখ্যমন্ত্রী পদ
পশ্চিম ইম্ফল জেলার সিংজামেই বিধানসভা কেন্দ্রের দু’বারের বিধায়ক (২০১৭ ও ২০২২) খেমচাঁদ সিংহের রাজনৈতিক জীবন বেশ বৈচিত্র্যময়।
- শুরু: ২০০২ সালে মেইতেই জনগোষ্ঠীর দল ‘ডেমোক্র্যাটিক রেভলিউশনারি পিপলস পার্টি’ দিয়ে তাঁর যাত্রা শুরু।
- কংগ্রেস ও তৃণমূল সফর: একদা এন বীরেন সিংহের সঙ্গে কংগ্রেসে ছিলেন। পরে তৃণমূলে যোগ দেন এবং ২০১২ সালে ঘাসফুল শিবিরের টিকিটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সামান্য ব্যবধানে পরাজিত হন। উল্লেখ্য, সে বছর তৃণমূল মণিপুরের প্রধান বিরোধী দল ছিল।
- বিজেপি পর্ব: ২০১৩ সালে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর তিনি স্পিকার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
সরকারের পতন ও পুনরুজ্জীবন
২০২৩ সালের মে মাসে মেইতেই এবং কুকি সংঘর্ষের জেরে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে মণিপুর। প্রায় ২১ মাস অচল অবস্থার পর ২০২৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি মুখ্যমন্ত্রী এন বীরেন সিংহ পদত্যাগ করেন। এরপর ১৩ ফেব্রুয়ারি রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হয়। তবে বিধানসভা ভেঙে না দিয়ে তা ‘সাসপেন্ডেড অ্যানিমেশন’-এ রাখা হয়েছিল। উপত্যকার মেইতেই বিধায়কেরা সরকার গঠনের দাবি জানালেও পাহাড়ের জ়ো-কুকি বিধায়কেরা এর বিরোধিতা করে আসছিলেন।
সমীকরণ মেলাতে নয়া কৌশল
মণিপুরের ৬০ সদস্যের বিধানসভায় বর্তমানে একটি আসন শূন্য। বিজেপির হাতে রয়েছে ৩৭ জন বিধায়ক (যার মধ্যে ৭ জন কুকি-জ়ো জনগোষ্ঠীর)। পাহাড় ও উপত্যকার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে বিজেপি এক বিশেষ কৌশল নিয়েছে। সংবাদ সংস্থা পিটিআই-এর সূত্র অনুযায়ী, কুকি জনজাতির মহিলা বিধায়ক নেমচা কিপগেনকে উপমুখ্যমন্ত্রী করা হতে পারে। পাহাড়ের বিধায়কদের অসন্তোষ প্রশমিত করে রাজ্যে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকার গঠন করাই এখন নতুন মুখ্যমন্ত্রীর প্রধান চ্যালেঞ্জ।

