যাদবপুরে দেওয়াললিখন মোছা ঘিরে বিতর্ক: লালবাজারের অস্বীকার, সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখার দাবি পড়ুয়াদের

যাদবপুরে দেওয়াললিখন মোছা ঘিরে বিতর্ক: লালবাজারের অস্বীকার, সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখার দাবি পড়ুয়াদের

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে দেওয়াললিখন ফের মুছে দেওয়াকে কেন্দ্র করে দানা বাঁধা বিতর্ক ক্রমেই তীব্রতর হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে অবশেষে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করল লালবাজার। কলকাতা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মঙ্গলবার মাঝরাতে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনও পুলিশকর্মী যাননি। তবে লালবাজারের এই দাবি মানতে নারাজ আন্দোলনরত পড়ুয়ারা। পুলিশের উপস্থিতি প্রমাণ করতে সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখার দাবি তুলেছেন তাঁরা।

গত কয়েক দিন ধরেই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের দেওয়াললিখন মোছা নিয়ে বিতর্ক চলছে। সম্প্রতি যাদবপুরের কিছু দেওয়াললিখন নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এরপর গত শনিবার প্রথম দফায় ক্যাম্পাসের বিভিন্ন দেওয়াললিখনের উপর সাদা প্রলেপ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে মঙ্গলবার মাঝরাতে দ্বিতীয় দফায় ফের দেওয়াললিখন মোছা হয়, যা থেকেই নতুন করে বিতর্কের সূত্রপাত হয়।

ছাত্রছাত্রীদের অভিযোগ, পুরকর্মীদের পাশাপাশি সাদা পোশাকে পুলিশও সে সময় ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেছিল। যদিও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, পুরকর্মীদের সঙ্গে যে পুলিশও আসবে, তা তাঁর জানা ছিল না এবং তিনি পুলিশকে ক্যাম্পাসে ঢোকার অনুমতি দেননি। উপাচার্যের কথায়, ‘‘পুলিশকে ঢুকতে বারণ করা হয়েছিল। আমার কাছে লিখিত ই-মেলও আছে এ ব্যাপারে।’’ তিনি আরও জানান, নতুন করে দেওয়াললিখন হওয়ার পর সরকারের পক্ষ থেকে তা মুছে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়। বার বার দেওয়াল মোছার পরিকাঠামো তাঁদের নেই বলে পুরসভাই এই দায়িত্ব নেয়। কার্ল মার্ক্সের উক্তি মোছার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে উপাচার্য জানান, পুরোটাই দৃষ্টিভঙ্গির ব্যাপার এবং প্যালেস্তাইনকে মুক্ত করার স্লোগানের প্রসঙ্গটিও এর সঙ্গে তুলনীয়।

এই বিতর্কের মাঝে কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দাপ্রধান কুণাল অগ্রবাল স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “যাদবপুরে পুলিশ যায়নি।” পুলিশের একটি সূত্রের দাবি, পুরকর্মী ও পুলিশকর্মীদের অনেকের জ্যাকেট পরার অভ্যাসের কারণে পোশাক সংক্রান্ত বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে।

তবে পুলিশের এই তত্ত্ব উড়িয়ে দিয়েছেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের রেভলিউশনারি স্টুডেন্টস ফ্রন্টের (আরএসএফ) ইউনিট সেক্রেটারি তথা অভিযোগকারী ছাত্রনেতা ইন্দ্রানুজ রায়। তাঁর দাবি, পুরকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের আইডি কার্ড সহ সাদা পোশাকে পুলিশকর্মীরা ক্যাম্পাসে ঢুকেছিলেন এবং পরিচয় জানতে চাওয়া হলে তাঁরা পুরকর্মীদের নিরাপত্তার জন্য আসার কথা জানিয়েছিলেন। তাই এখন পুলিশ অস্বীকার করলে তা ধোপে টিকবে না। পুরো ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে অবিলম্বে সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন ওই ছাত্রনেতা।

উল্লেখ্য, আরএসএফ নেতার অভিযোগ অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১২টা নাগাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের চার নম্বর গেট দিয়ে পুরকর্মীদের সঙ্গে সাদা পোশাকে পুলিশ ক্যাম্পাসে ঢোকে। তাঁর প্রশ্ন, আইন অনুযায়ী পুলিশকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢুকতে হলে উপাচার্য বা রেজিস্ট্রারের অনুমতি নিতে হয়, তবে মাঝরাতে তারা কী ভাবে প্রবেশ করল? গভীর রাতে পড়ুয়ারা হস্টেল থেকে বেরিয়ে দেওয়ালগুলিতে সাদা রঙের প্রলেপ দেখতে পান বলেও তিনি জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.