বাংলাদেশের বিতর্কিত এলিট অ্যার্মড পুলিশ ফোর্স র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) বিলুপ্ত করে তার স্থলাভিষিক্ত হিসেবে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’ (এসআরবি) গঠনের প্রস্তাবিত আইনের খসড়া অনুমোদন করেছে বাংলাদেশের মন্ত্রিসভা। সোমবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন, ২০২৬’-এর নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়।
এর আগে গত ফেব্রুয়ারি মাসে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই সনদ সংক্রান্ত গণভোটের প্রাক্কালে তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানিয়েছিলেন, আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোর কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী র্যাবের নতুন নাম রাখা হবে ‘স্পেশাল ইন্টারভেনশন ফোর্স’ (এসআইএফ)। তবে বর্তমান তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার সেই নাম পরিবর্তন করে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’ (এসআরবি) করার নতুন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। ২০০৯ সালের পিলখানা হত্যাকাণ্ডের পর বাংলাদেশ রাইফেলস (বিডিআর)-এর নাম পরিবর্তন করে ‘বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ’ (বিজিবি) করার নজিরের সঙ্গে এই পদক্ষেপকে তুলনা করা হচ্ছে।
বিতর্ক ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ
২০০৪ সালে তারেক রহমানের মা তথা তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জমানায় অপরাধ ও সন্ত্রাস দমনে গঠিত হয়েছিল র্যাব। তবে সূচনা থেকেই এই বাহিনীর কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। বিশেষ করে শেখ হাসিনার দেড় দশকের শাসনকালে র্যাবের বিরুদ্ধে বিরোধী রাজনৈতিক শক্তি দমন, অবৈধ আটক, রাজনৈতিক হত্যা ও গুমের মতো গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠে।
আন্তর্জাতিক পরিসরেও এই বাহিনীকে নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা তৈরি হয়। ২০২০ সালে মার্কিন সেনেটের বৈদেশিক সম্পর্ক বিষয়ক কমিটি যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে র্যাবের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার সুপারিশ করে। ওই রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছিল, ২০১৫ সালের পর থেকে ৪ শতাধিক বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে র্যাব প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিল।
নতুন আইনের রূপরেখা
নতুন অনুমোদন পাওয়া আইনের অধীনে র্যাব আনুষ্ঠানিকভাবে অবলুপ্ত হবে এবং তা বাংলাদেশ পুলিশের অধীনে একটি বিশেষায়িত ইউনিট হিসেবে পরিচালিত হবে।
- সম্পদ ও জনবল হস্তায়ন: র্যাবের বিদ্যমান সমস্ত পরিকাঠামো, দায়বদ্ধতা, অর্থ ও জনবল নতুন গঠিত এসআরবি-তে স্থানান্তরিত হবে।
- অভিযোগ নিষ্পত্তি কমিটি: নতুন সংস্থায় জবাবদিহিতা সুনিশ্চিত করতে একটি বহু-পক্ষীয় অভিযোগ নিষ্পত্তি কমিটি গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা সাধারণ নাগরিকদের অভিযোগের পাশাপাশি সংস্থার ভেতরের অসন্তোষ খতিয়ে দেখবে।
নতুন পূর্ণাঙ্গ নিয়মাবলী না হওয়া পর্যন্ত র্যাবের বিভাগীয় আইনি কাঠামোগুলোই পরিবর্তিত রূপ নিয়ে নতুন সংস্থায় কার্যকর থাকবে।

