বর্ষীয়ান অভিনেতা আমির খান ৬০ পেরিয়েও নিজের ফিটনেস ও কর্মক্ষমতা ধরে রেখে সবাইকে তাক লাগিয়ে যাচ্ছেন। অভিনয় থেকে শুরু করে নিয়মিত শরীরচর্চা—সবক্ষেত্রেই তাঁর শক্তি ও জৌলুস লক্ষণীয়। সম্প্রতি জনপ্রিয় রিয়্যালিটি শো ‘কৌন বনেগা ক্রোড়পতি’-তে সঞ্চালক অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গে আলাপে নিজের একটি সহজ কিন্তু কার্যকর অভ্যাসের কথা প্রকাশ করেছেন ‘লগান’ খ্যাত এই তারকা।
শো-তে আমির জানান, তাঁর দিন শুরু হয় প্রতিদিন সকালে এক টেবিলচামচ বিশুদ্ধ ঘি খাওয়ার মাধ্যমে। তিনি জানান, স্বাদের পাশাপাশি এটি স্বাস্থ্যের জন্যও অত্যন্ত উপকারী। একই প্রসঙ্গে সঞ্চালক অমিতাভ বচ্চনও জানান, তিনিও ডালের সঙ্গে নিয়মিত ঘি খেতে পছন্দ করেন।
বলিউডে ঘিয়ের গুণমুগ্ধ তালিকা
শরীর, ত্বক ও চুলের সামগ্রিক যত্ন নিতে ঘিয়ের ব্যবহার ইদানীং তারকাদের মধ্যেও বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে:
- করিনা কপূর খান: প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাসে ঘি রাখা তাঁর অন্যতম নিয়ম।
- ভূমি পেডনেকর: রান্নায় ব্যবহার না করে রুটি বা ইডলির সঙ্গে কাঁচা ঘি খান।
- আলিয়া ভট্ট: ঘিয়ের সঙ্গে গুড়, গুঁড়ো করা চিনেবাদাম এবং সামান্য নারকেল মিশিয়ে বিশেষ রেসিপি হিসেবে গ্রহণ করেন।
- নীতু কপূর: দুপুরের খাবারের পর প্রতিদিন এক চামচ ঘিয়ের সঙ্গে সামান্য গুড় মিশিয়ে খান।
- সোহা আলি খান: সন্তানের পুষ্টি ও স্বাস্থ্য মজবুত করতে নিয়মিত ঘি দেন।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও বিজ্ঞান কী বলছে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘিয়ে রয়েছে ভিটামিন এ (A), ডি (D) এবং ই (E)। এই উপাদানগুলি শুধু ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতেই সাহায্য করে না, বরং বাতাসের ক্ষতিকর দূষণকণার বিরুদ্ধে লড়াই করে ত্বকের বয়সের ছাপ পড়ার গতি ধীর করে দেয়।
এছাড়াও ঘিয়ের অন্যান্য প্রধান উপকারিতাগুলি হলো:
- অন্ত্রের স্বাস্থ্য: ঘি খেলে পরিপাকতন্ত্র এবং অন্ত্রের প্রদাহ কমতে সাহায্য করে, যার ইতিবাচক প্রভাব পড়ে ত্বকের উজ্জ্বলতায়।
- উপকারী ফ্যাট: পরিমিত মাত্রায় ঘি খেলে শরীরে প্রয়োজনীয় ‘হেলদি ফ্যাট’ বা স্বাস্থ্যকর চর্বি প্রবেশ করে, যা খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক।
অভিনেতার এই সহজ খাদ্যাভ্যাসই সম্ভবত তাঁকে ৬১ বছর বয়সেও প্রদীপ্ত ও সতেজ রাখতে বড় ভূমিকা রাখছে।

