পশ্চিমবঙ্গ পুলিশে কনস্টেবল নিয়োগ প্রক্রিয়ায় তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তিদের আবেদনের কোনো পৃথক সুযোগ না থাকাকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া জনস্বার্থ মামলায় রাজ্য সরকারের কাছে হলফনামা তলব করল কলকাতা হাইকোর্ট। আগামী ২০ আগস্টের মধ্যে রাজ্যকে তাদের বক্তব্য স্পষ্ট করে হলফনামা পেশ করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ (কনস্টেবল ও লেডি কনস্টেবল নিয়োগ) বিধিমালার বর্তমান বিধানকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে হাইকোর্টে এই জনস্বার্থ মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলাকারীর মূল অভিযোগ, নিয়োগের আবেদনপত্রে লিঙ্গ পরিচয়ের ক্ষেত্রে কেবল ‘পুরুষ’ এবং ‘নারী’— এই দুটি বিকল্পই রাখা হয়েছে। ফলে তৃতীয় লিঙ্গের কোনো আবেদনকারী নিজেদের প্রকৃত পরিচয়ে কনস্টেবল পদের জন্য আবেদন করার সুযোগ পাচ্ছেন না, যা তাঁদের নিয়োগ প্রক্রিয়া থেকে কার্যত বঞ্চিত করছে।
আদালতে মামলাকারী দাবি করেন, বিদ্যমান এই বিধিমালা ২০১৯ সালের ‘তৃতীয় লিঙ্গ অধিকার সুরক্ষা আইন’ এবং ভারতীয় সংবিধানের মৌলিক অধিকার সংক্রান্ত ১৪, ১৫, ১৬ ও ২১ নম্বর অনুচ্ছেদের সম্পূর্ণ পরিপন্থী। লিঙ্গ পরিচয়ের ভিত্তিতে এই ধরনের বৈষম্য সাংবিধানিক অধিকারকে ক্ষুণ্ন করছে বলে সওয়ালে উল্লেখ করা হয়।
বৃহস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী এবং বিচারপতি পার্থসারথি চট্টোপাধ্যায়ের সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চে মামলাটির শুনানি হয়। মামলায় সংশ্লিষ্ট আইনের সাংবিধানিক বৈধতাকেই সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানানো হয়েছে।
উভয়পক্ষের বক্তব্য শোনার পর ডিভিশন বেঞ্চ নির্দেশ দেয় যে, রাজ্য সরকার ২০ আগস্টের মধ্যে নিজেদের অবস্থান জানিয়ে হলফনামা জমা দেবে। পরবর্তীকালে রাজ্য সরকারের হলফনামার জবাবে মামলাকারী যদি কোনো পাল্টা বক্তব্য পেশ করতে চান, তবে তা ২৭ আগস্টের মধ্যে জমা দিতে হবে। আদালত জানিয়েছে, সমস্ত হলফনামা জমা পড়ার পর আগামী সেপ্টেম্বর মাসে মামলাটি পুনরায় শুনানির জন্য গ্রহণ করা হবে।

