বিশ্বকাপ সহ ফিফার বিভিন্ন প্রতিযোগিতা ব্যক্তিগত বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করার পরিকল্পনার তীব্র বিরোধিতা করল ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থা (উয়েফা)। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর পেশ করা এই বিতর্কিত প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে খারিজ করে দিয়েছে ইউরোপের ফুটবল সংস্থাগুলি। বৃহস্পতিবার এক অনলাইন বৈঠকের পর উয়েফা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ফিফা এই বেসরকারীকরণের পরিকল্পনা না গুটালে তারা বিশ্বকাপের মতো মেগা ইভেন্ট বয়কট করবে।
উয়েফা ও কনকাকাফের তীব্র আপত্তি
বৃহস্পতিবার আয়োজিত একজরুরি অনলাইন বৈঠকে উয়েফাভুক্ত দেশগুলি একযোগে সিদ্ধান্ত নেয়। উয়েফার তরফে জারি করা বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ফিফা ও তার বিভিন্ন টুর্নামেন্টের অংশীদারিত্ব ব্যক্তিগত বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির প্রস্তাব দ্ব্যর্থহীনভাবে প্রত্যাখ্যান করা হচ্ছে। উয়েফা কঠোর বার্তা দিয়ে জানিয়েছে, ফিফা এই আলোচনার প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ বন্ধ না করা পর্যন্ত এবং ভবিষ্যতে এমন প্রস্তাব না আনার লিখিত প্রতিশ্রুতি না দেওয়া পর্যন্ত ইউরোপের কোনো জাতীয় দল ফিফার আয়োজিত প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে না।
একই ইস্যুতে উত্তর, মধ্য আমেরিকা ও ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জের ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা ‘কনকাকাফ’-এর ৪১টি দেশও বৈঠক ডেকেছে। ইতিমধ্যেই কনকাকাফের তরফে ফিফার এই প্রক্রিয়ার নিন্দা জানানো হয়েছে।
কী রয়েছে ফিফার বিতর্কিত পরিকল্পনায়?
ফিফা সূত্রে জানা গিয়েছে, ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ নামে একটি নতুন স্বতন্ত্র সংস্থা গঠন করতে চাইছেন জিয়ান্নি ইনফান্তিনোরা। বিশ্বকাপ এবং ক্লাব বিশ্বকাপের মতো মেগা টুর্নামেন্টগুলি পরিচালনার দায়িত্ব থাকবে এই সংস্থার হাতে। ফিফার পরিকল্পনা, নতুন এই সংস্থার অন্তত ২১ শতাংশ মালিকানা বেসরকারি বিনিয়োগকারী সংস্থার কাছে বিক্রি করা হবে।
এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থার তহবিলে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা আসতে পারে। ‘ফিফা ফাস্ট ফরোয়ার্ড প্রোগ্রাম’-এর মাধ্যমে এই বিপুল অর্থ সরাসরি সদস্য দেশগুলির ফুটবল সংস্থাগুলির উন্নয়ন তহবিলে পাঠানো হবে বলে দাবি ফিফার। এই পুরো প্রক্রিয়াটির আর্থিক পরামর্শদাতা হিসেবে কাজ করছে বিখ্যাত সংস্থা জেপি মরগান (JPMorgan)। নতুন এই সংস্থার প্রধান হিসেবে উঠে আসছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাই জ্যারেড কুশনারের ভাই জোশুয়া কুশনারের নাম।
ফিফার দাবি, এই পরিকল্পনা সফল হলে আগামী চার বছরে তাদের মোট লাভের পরিমাণ বেড়ে পৌঁছাতে পারে প্রায় ৯৫,৬৮৫ কোটি টাকায়। এর ফলে প্রতিটি সদস্য দেশ প্রায় ১৯০ কোটি টাকা করে পেতে পারে।
তবে অবকাঠামোগত লাভ থাকলেও, ফুটবলের ঐতিহ্য ও নিয়ন্ত্রণের বাণিজ্যিকীকরণ কোনোভাবেই মেনে নিতে নারাজ উয়েফা। পরবর্তী বিশ্বমঞ্চ— যা ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া মহিলা বিশ্বকাপ এবং ২০৩০ সালের পুরুষদের ফুটবল বিশ্বকাপ— তার আগেই ফিফা ও উয়েফার এই সংঘাত আন্তর্জাতিক ফুটবল রাজনীতিকে অভূতপূর্ব অচলাবস্থার দিকে ঠেলে দিল।

