দিল্লির নতুন সংসদ ভবনের অনুকরণে এ বার তৈরি হতে চলেছে রাজ্য বিধানসভার নতুন ভবন। নতুন টাউনে ৪০ একর জমির উপর এই নতুন অত্যাধুনিক ভবনটি নির্মাণ করা হবে। শনিবার রাজ্য বিধানসভার বাজেট অধিবেশনের শেষ দিনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পেশ করেন এবং স্পিকার রথীন্দ্র বসু উক্ত প্রস্তাবে সম্মতি জানিয়ে স্থান নির্ধারণের কথা ঘোষণা করেন।
নতুন ভবনের প্রয়োজনীয়তা ও পরিকল্পনা
পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান বিধানসভা ভবনটি প্রাক-স্বাধীনতা যুগের এবং পরিষদীয় রাজনীতির বহু ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী। মুখ্যমন্ত্রী এই ভবনের ঐতিহ্য স্বীকার করে জানান, ভবিষ্যৎ প্রয়োজনীয়তার কথা মাথায় রেখেই নতুন ভবনের পরিকল্পনা জরুরি হয়ে পড়েছে।
নতুন ভবনের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন:
- আসন পুনর্বিন্যাস ও মহিলা সংরক্ষণ: আগামী দিনে আসন পুনর্বিন্যাস (Delimitation) এবং মহিলা সংরক্ষণ আইন কার্যকর হলে বিধানসভার আসন সংখ্যা ২৯৪ থেকে বেড়ে ৪০০ ছাড়িয়ে যাবে। বর্তমান ভবনে এত সংখ্যক বিধায়কের বসার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই।
- জায়গা পরিদর্শনের প্রস্তাব: নিউ টাউনে নির্ধারিত ৪০ একর জমির বর্তমান পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার জন্য স্পিকারকে একটি সর্বদলীয় প্রতিনিধি দল (All-Party Delegation) নিয়ে স্থান পরিদর্শনের আহ্বান জানান মুখ্যমন্ত্রী।
- আর্থিক সহায়তা: নতুন ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারের তরফে কোনও আর্থিক বাধা তৈরি হবে না বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
উল্লেখ্য, নতুন ভবন তৈরি হলে বর্তমান ঐতিহ্যবাহী ভবনটিকে কী কাজে ব্যবহার করা হবে, তা নির্দিষ্ট না করলেও এটি যথাযথ মর্যাদায় সংরক্ষণ করা হবে বলে সরকারের তরফে জানানো হয়েছে।
বিরোধী দলনেতা নির্বাচন বিতর্ক ও পূর্বতন সরকারের সমালোচনা
বাজেট অধিবেশনের শেষ দিনে মুখ্যমন্ত্রী বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এবং বিরোধী দলনেতা নির্বাচন ঘিরে বিতর্কের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তিনি অভিযোগ করেন, “বিরোধী দলনেতা নির্বাচন নিয়ে মামলা হয়েছে। ১৩ জন বিধায়ক উপস্থিত না থাকা সত্ত্বেও তাঁদের সই জাল করা হয়েছে। এ ধরনের আচরণ অনভিপ্রেত।”
একই সঙ্গে পরিষদীয় কার্যপ্রণালী সুসংহত করতে এবং পূর্বতন সরকারের নীতির সমালোচনা করে মুখ্যমন্ত্রী স্পিকারের কাছে বেশ কিছু প্রস্তাব পেশ করেন:
- বিধানসভা চলাকালীন প্রতি বুধবার স্বরাষ্ট্র দফতরের প্রশ্নের উত্তর দেবেন মুখ্যমন্ত্রী নিজে।
- বিধানসভায় যাতে অন্তত সাত জন মন্ত্রী উপস্থিত থাকেন, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব পরিষদীয় দফতরের। অন্যথায় অধিবেশন মুলতবি করার অনুরোধ জানান তিনি।
- এমএলএ হোস্টেলের মানোন্নয়ন, বিধানসভায় আধুনিক ইলেকট্রনিক ভোটিং সিস্টেম চালু এবং উন্নত ক্যানটিনের ব্যবস্থার ওপর জোর দেন।
পঞ্চায়েত সংশোধনী বিল পাস
শনিবার বাজেট অধিবেশনের শেষ দিনে বিধানসভায় পাস হয় পঞ্চায়েত সংশোধনী বিল। বিলটি ১৬৯-১৩ ভোটে পাস হয় এবং ভোটাভুটি থেকে বিরত থাকেন ৩২ জন বিধায়ক।

