রাজ্যের সরকারি কর্মচারীদের জন্য এককালীন বদলি ও প্যাকিং অনুদান সংক্রান্ত নিয়মে বড়সড় সরলীকরণ আনল রাজ্য সরকার। শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সামাজিক মাধ্যমে এক ঘোষণা করে জানান, সরকারি কর্মচারীরা বদলি হয়ে নতুন কর্মস্থলে গেলে বা অবসর নেওয়ার পর স্থায়ীভাবে বাসস্থান পরিবর্তন করলে এখন থেকে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা অথবা মূল বেতনের ৮০ শতাংশ পর্যন্ত এককালীন অনুদান পাবেন। এর জন্য কর্মচারীদের আর কোনও রসিদ বা ভাউচার জমা দেওয়ার ঝক্ক পোহাতে হবে না।
কয়েক দশকের পুরনো পৃথক ‘ট্রান্সফার গ্রান্ট’ ও ‘প্যাকিং অ্যালাউন্স’-এর পরিবর্তে একটি আধুনিক ও সরলীকৃত ‘কম্পোজ়িট ট্রান্সফার অ্যান্ড প্যাকিং গ্রান্ট’ ব্যবস্থা চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্ত্রিসভা। রাজ্যের অর্থ দফতর ইতিমধ্যেই এ বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশিকা জারি করেছে। মুখ্যমন্ত্রীর শেয়ার করা নির্দেশিকা অনুযায়ী, বদলির কারণে যদি কোনও কর্মীকে ৩০ কিলোমিটার বা তার বেশি দূরত্বে বাসস্থান পরিবর্তন করতে হয়, তবে তিনি এই অনুদানের পুরো টাকাই পাবেন। তবে ৩০ কিলোমিটারের কম দূরত্বের বদলির ক্ষেত্রে অনুদানের পরিমাণ নির্ধারিত হবে এক-তৃতীয়াংশ হারে। এছাড়া, নতুন জায়গায় স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করতে যাওয়া অবসরপ্রাপ্ত কর্মীরাও এই সুবিধার আওতাভুক্ত থাকবেন।
অর্থ দফতরের নির্দেশিকায় স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে, বদলির কারণে পরিবারকে সঙ্গে না নিয়ে যদি কোনও কর্মী শুধু নিজের জিনিসপত্র নিয়ে নতুন কর্মস্থলে যান, তবুও তিনি এই একই কাঠামোর সুবিধা পাবেন। ব্যক্তিগত মালপত্রের পরিমাণের ওপর এই অনুদানের অঙ্ক নির্ভর করবে না।
নতুন এই আর্থিক সুবিধা কার্যকর করার বিষয়েও নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। বদলির ক্ষেত্রে চলতি বছরের ১ জুন বা তার পর থেকে যাঁদের বদলি হয়েছে, তাঁরা নতুন এই কাঠামোর অনুদান পাবেন। অন্যদিকে, অবসরগ্রহণকারীদের জন্য এই নির্দেশিকা ৩১ মে থেকে কার্যকর হয়েছে। রাজ্যের সরকারি কর্মচারীদের কল্যাণে সরকার যে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, এই সিদ্ধান্ত তারই প্রতিফলন বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

