বাগুইআটির স্কুলে রহস্যজনকভাবে লুটিয়ে পড়ে দশম শ্রেণির ছাত্রের মৃত্যু, নেপথ্যে নানা প্রশ্ন

বাগুইআটির স্কুলে রহস্যজনকভাবে লুটিয়ে পড়ে দশম শ্রেণির ছাত্রের মৃত্যু, নেপথ্যে নানা প্রশ্ন

স্কুলে টিফিন খাওয়ার সময় আচমকা মাটিতে লুটিয়ে পড়ে মৃত্যু হলো এক দশম শ্রেণির ছাত্রের। সোমবার দুপুরে বাগুইআটির চিত্তরঞ্জন কলোনি হিন্দু বিদ্যাপীঠে চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত ছাত্রের নাম রায়হান (১৫)। সে নিউটাউনের ঘুনির বাসিন্দা ছিল।

টিফিনের সময়ই ঘটে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে খবর, সোমবার টিফিনের ঘণ্টা বাজলে রায়হান ক্লাস থেকে বেরিয়ে নিজের ব্যাগ থেকে টিফিন বের করে খেতে বসেছিল। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, রুটি মুখে দেওয়ার পরপরই হঠাৎ শব্দ করে সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে এবং তার শ্বাস নিতে সমস্যা হতে শুরু করে। সহপাঠী ও শিক্ষকেরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় দেশবন্ধু নগর হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

দীর্ঘ তিন দিন অনুপস্থিত থাকার পর প্রজেক্ট জমা দেওয়ার উদ্দেশ্যেই সোমবার স্কুলে গিয়েছিল রায়হান। তার এই আকস্মিক পরিণতিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্কুলের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে।

পরিবারের অসন্তোষ ও গুরুতর অভিযোগ

ঘটনার পর স্কুল কর্তৃপক্ষের ভূমিকা ও মৃত্যুকারণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মৃত ছাত্রের পরিবারের সদস্যরা:

  • বয়ানে অসঙ্গতি: রায়হানের পরিবারের অভিযোগ, স্কুল থেকে প্রথমে ফোন করে বলা হয় যে রায়হান পড়ে গিয়ে অজ্ঞান হয়ে গিয়েছে। পরবর্তীকালে আবার জানানো হয়, টিফিন খাওয়ার সময় গলায় খাবার আটকে গিয়ে এই বিপত্তি ঘটে।
  • সহপাঠীদের অত্যাচারের অভিযোগ: রায়হানের বাবার দাবি, স্কুলের চার-পাঁচজন ছাত্র দীর্ঘদিন ধরে তাঁর ছেলেকে মারধর করত। এমনকি এই বিষয়টিকে কেন্দ্র করে গত সপ্তাহেই তাঁকে অভিভাবক সভায় (‘গার্ডিয়ান মিটিং’) ডাকা হয়েছিল।

পুরনো এই বিবাদের জেরে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে কি না, তা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছে পরিবার।

তদন্তে নামল বাগুইআটি থানা

ঘটনার বিবরণ পেয়ে তদন্তে নেমেছে বাগুইআটি থানার পুলিশ। সূত্রের খবর:

  • পুলিশ ইতিমধ্যেই স্কুলের সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ সংগ্রহ করে খতিয়ে দেখছে।
  • ময়নাতদন্তের জন্য দেহ পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট হাতে এলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে।

যদিও এই ঘটনাটি নিয়ে সোমবার রাত পর্যন্ত পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় লিখিত কোনো অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। তবে পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে অস্বাভাবিক মৃত্যুর (Unnatural Death) মামলা রুজু করে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.